Home / ফ্যাশন / সপ্তাহব্যাপী ৭ম বাংলাদেশ টি-শার্ট উৎসব-২০১৯

সপ্তাহব্যাপী ৭ম বাংলাদেশ টি-শার্ট উৎসব-২০১৯

সম্পদনায়,আরজে সাইমুর: গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার শাহবাগস্থ আজিজ সুপার মার্কেটে ৭ম বারের মত বাংলাদেশ টি-শার্ট উৎসব-২০১৯ (টি-শার্ট ও দেশীয় পোশাকের মেলা) এর শুভ উদ্ধোধন করলেন মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব রাশেদ খান মেনন, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিথ ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব শাহে আলম মুরাদ, ঢাকা সিটি কর্পোরেশণ ২১নং ওয়ার্ড এর কাউন্সিলর জনাব এ্যাডভোকেট এম.এ. হামিদ খান, বাংলা ক্রাফটের সভাপতি জনাব আশরাফুর রহমান ফারুক, ফ্যাশন উদ্যোগের সভাপতি জনাব শাহীন আহমেদ।

বাংলাদেশ টি-শার্ট উৎসবে ২৬০টি দেশীয় পোশাকের প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সম্মিলিতভাবে আয়োজিত এই উৎসব চলবে ১৩-২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। অনুষ্ঠানমালায় প্রতিধিন থাকবে আলোচনা, ফ্যাশন শো, আবৃত্তি, ব্যান্ডশো, লোক সংগীত ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

মেলায় ২০% ছাড়ে পোশাক বিক্রয় হবে এবং অনুষ্ঠানমালা সকলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব রাশেদ খান মেনন, এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব শাহে আলম মুরাদ, ঢাকা সিটি কর্পোরেশণ ২১নং ওয়ার্ড এর কাউন্সিলর জনাব এ্যাডভোকেট এম.এ. হামিদ খান, বাংলা ক্রাফটের সভাপতি জনাব আশরাফুর রহমান ফারুক, ফ্যাশন উদ্যোগের সভাপতি জনাব শাহীন আহমেদ প্রমুখ। উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানের আলোচনা শেষে জমকালো ফ্যাশণ শো, গান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালন করা হয়। বাংলাদেশ টি-শার্ট উৎসব-২০১৯ এ দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল দেখার মতো। সকল ব্যবসায়ীদের আয়োজন সবার কাছে সাধুবাদ পেয়েছে এবং এই আয়োজন আগামী আরো বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে।

===========================
আরও পড়ুন
=========================

জার্মান সংবাদ সংস্থা ডয়চে ভেলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি আর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে চান না। শেখ হাসিনা বলেছেন, তরুণ নেতাদের জন্য সুযোগ সৃ্ষ্টি করতেই তিনি সরে দাঁড়াতে চান।
মাত্র একমাস আগে শেখ হাসিনা টানা তৃতীয়বার এবং চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। নির্বাচনে তার দল আওয়ামী লীগ ৯৬ শতাংশ আসনে জয় পেয়েছে। ফের ক্ষমতায় আসার পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম হিসেবে ডয়চে ভেলের সঙ্গেই প্রথম কথা বললেন শেখ হাসিনা।
ডয়চে ভেলের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এবার আমি টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় এলাম। এর আগে আমি ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদেও ক্ষমতায় ছিলাম। সুতরাং এটা আমার ক্ষমতার চতুর্থ মেয়াদ। আমি আর প্রধানমন্ত্রী হতে চাই না। আমি মনে করি সবারই একটা সময়ে গিয়ে অবসর নেওয়া উচিত। যাতে নতুন প্রজন্ম নিজেদেরকে রাষ্ট্র পরিচালনায় উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে পারে।’
ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১০ বছরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নতি করেছে। যার ফলে দেশটি এখন নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হতে চলেছে। গত কয়েকবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি গড়ে ৬ থেকে ৭ শতাংশ হারে জিডিপি অর্জন করেছে। বাণিজ্যের পরিমাণ বহুগুণে বেড়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে।
কিন্তু এত উন্নতি সত্ত্বেও বাংলাদেশের প্রতি চারজন মানুষের একজন এখনও গরীব রয়ে গেছেন। বিশ্বব্যাংকের হিসেবে দারিদ্র্যের এই চিত্র ধরা পড়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই করাটাই এবার আমার প্রধান কাজ হবে। এবার ক্ষমতায় থাকার শেষদিন পর্যন্ত দারিদ্র্য দূরীকরণে কাজ করে যাব। খাদ্য নিরাপত্তা, আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান; এসবই মৌলিক চাহিদা। প্রতিটি মানুষই উন্নত জীবন যাপন করতে চায়। আর আমাদেরকে সে ব্যবস্থা করে দিতে হবে।’
উন্নয়ন বনাম বাক স্বাধীনতা
তবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং উন্নতিতেও হাসিনার সমালোচকরা চুপ হচ্ছেন না। তাদের অভিযোগ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা এবং উদার চিন্তাবিদদের ওপর হামলা ঠেকাতে হাসিনা সরকার তেমন কোনও কাজ করছে না।
কিন্তু হাসিনা বলছেন, তিনি চিন্তার স্বাধীনতায় সমর্থন করেন। আর তার সমালোচনাও করা যাচ্ছে অবাধে। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি বেশি বেশি কাজ করেন তাহলে আপনার সমালোচনাও হবে বেশি। আমার জনগণকে জিজ্ঞেস করে দেখুন তারা সন্তুষ্ট কিনা। তারা কী ভাবছে। তারা তাদের প্রয়োজনীয় সব কিছু পাচ্ছে কিনা। আমি তাদেরকে সব দিতে পারছি কিনা।’
রাজনৈতিক ভিন্নমত দমন এবং একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েমের অভিযোগের ব্যাপারে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এবার আওয়ামী লীগ ৩০০ আসনের ২৬০টি আসনে জয় পেয়ে ক্ষমতায় এসেছে। তার মানে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো বাকি আসনগুলো পেয়েছে। তাহলে একদলীয় শাসন হলো কিভাবে।’
শেখ হাসিনার মতে, ‘বিরোধী দলগুলো ছিলো দুর্বল। কোনও দল যদি জনগণের মন জয় করতে না পারে, তাদের আস্থা অর্জন করতে না পারে এবং ভোট না পায় তাহলে সেটার দায় কি আমার? আসলে তারা দুর্বল বলেই তারা জনগণের ম্যান্ডেট পায়নি।’
মৌলবাদের উত্থান ও নারী অধিকার
বাংলাদেশের উদারপন্থীদের অভিযোগ, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ মৌলবাদীদের সঙ্গে আপোষ করেছেন। হেফাজতে ইসলামের মতো সংগঠনের সাথে খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। গোঁড়া ধর্মান্ধদের সঙ্গে আপোষ করেছেন। তার সরকার কওমি মাদ্রাসার মতো ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্টিফিকেটকে আধুনিক শিক্ষার মাস্টার্স ডিগ্রির সমমান দিয়েছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, কওমি মাদ্রাসাগুলো মৌলবাদী দৃষ্টিভঙ্গি লালন করে এবং নারীদের মুক্তি ও স্বাধীনতার পরিপন্থী। কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান শাহ আহমদ শফি সম্প্রতি মেয়েদেরকে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাতে নিষেধ করে বক্তব্য দিয়েছেন।
তবে শেখ হাসিনা আহমদ শফির ওই বক্তব্যের দায় নিতে রাজি নন। তিনি বলেন, ‘এই দেশে সবারই মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। সুতরাং তারাও নিজেদের মত প্রকাশ করতেই পারেন। কিন্তু তাই বলে তো আর আমি নারী শিক্ষার অগ্রগতিতে কোনো ঘাটতি রাখিনি। আমি নারীদের জন্য উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়ালেখা পুরোপুরি বিনামূল্যে করে দিয়েছি। এমনকি আমি তাদের জন্য বৃত্তিরও ব্যবস্থা করেছি।’
শেখ হাসিনা বলেন-তার নীতির কারণে বাংলাদেশের সমাজের বাবা-মায়েদেরও দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে। তিনি বলেন, ‘আগে বাবা-মায়েরা মেয়েদেরকে পড়ালেখা করাতে চাইতো না। কেননা তারা তো বিয়ে করে পরের বাড়িতেই চলে যাবে। কিন্তু এখন তারা ভাবছে, মেয়েদেরকেও শিক্ষিত করা উচিত। যাতে তারা নিজেরাই উপার্জন করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন হতে পারে এবং নিজেদের পছন্দে বিয়ে করতে পারে। আর এর মধ্য দিয়ে আমরা সমাজে পরিবর্তন আনছি পর্যায়ক্রমে। যার ফলে বাল্যবিয়ের হারও কমে গেছে।’
ইসলামপন্থী সংগঠনগুলো কি হাসিনাকে তার কাজ থেকে বিরত রাখতে পারবে? ‘অবশ্যই না। আমি যা করেছি তা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। আর সেটা অব্যাহত থাকবে’, জোর গলায় বলেন শেখ হাসিনা।
রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ
জীবনমান উন্নয়ন এবং উদারপন্থী ও মৌলবাদীদের মাঝখানে একটি রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা ছাড়াও শেখ হাসিনার সরকারকে নতুন করে সাত লাখ রোহিঙ্গার দায়িত্ব নিতে হয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে ‘জঙ্গিবাদের’বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের বলি হয়ে এরা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন।
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের কাছে কক্সবাজারের দুটি ক্যাম্পে বেশিরভাগই খুব মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এই মানুষের স্রোত এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলেছে। এদের অনেকেই স্থানীয়দের কাজ, থাকার জায়গা ও ব্যবসায় ভাগ বসিয়েছে।
রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকার হাজার হাজার শিশু-কিশোর-তরুণ যারা বেড়ে উঠছে, তাদের জন্য মধ্যবর্তী বিকল্প উপায় ভাবার চেষ্টা করছে। ‘আমরা একটা দ্বীপ বেছে নিয়েছি। সেখানে আমরা বাঁধ দিয়েছি। সাইক্লোন শেল্টার ও ঘরবাড়ি তৈরি করেছি। আমরা তাদের সেখানে নিয়ে যেতে চাই এবং কাজ দিতে চাই। তাহলে তরুণ ও নারীরা অর্থ উপার্জন করতে পারবে।’
তবে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত যাওয়াকে দীর্ঘস্থায়ী সমাধান বলে মনে করেন হাসিনা। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই এই দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে যেতে চায় বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে ভারত ও চীনের সহযোগিতা প্রয়োজন। ইউরোপীয় ইউনিয়নও ভুমিকা রাখতে পারে।’
‘আমরা কিন্তু মিয়ানমারের সঙ্গে ঝগড়া করতে চাই না। আমাদের সাথে একটা চুক্তিও হয়েছে যে, তারা ফেরত নিয়ে যাবে। চীন ও ভারতের সঙ্গেও আমরা কথা বলেছি এবং মিয়ানমারের সঙ্গে যে পাঁচটি দেশের বর্ডার আছে, চীন, বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও লাওস, আমরা সকলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেছি যে, কিভাবে এই সমস্যা সমাধানে তাদের কাজ করা উচিত।’
তিনি যোগ করেন, ‘এটাই চাই যে, তারা মিয়ানমারকে এ কথাটি বুঝাক যে, এরা যখন মিয়ানমারে চলে যাবে, তখন তাদের যা যা সাহায্য দরকার, থাকার বাড়িঘর, তাদের খাওয়ার ব্যবস্থা, এখানে যা যা দিচ্ছে, তা ওখানেই দেবে এবং তাদের একটা নিরাপত্তার ব্যবস্থাও তারা করবে। জাতিসংঘ এ ব্যাপারে কিছু পদক্ষেপ নিতে পারে।’
(সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ডয়চে ভেলের প্রধান সম্পাদক ইনেস পোল ও এশিয়া বিভাগের প্রধান দেবারতি গুহ)

About Saimur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *