Home / বাংলাদেশ / গরম তো এখনো আসেনি। আসছে আরও !!!

গরম তো এখনো আসেনি। আসছে আরও !!!

প্রায় পাঁচ বছর আগের ঘটনা। দিনটি ছিল ২০১৪ সালের ২৪ এপ্রিল। মধ্য বৈশাখের ওই দিন কী গরমই না পড়েছিল! বৃষ্টিহীন চারদিক। আকাশে ছিল না এতটুকু মেঘ। তেড়েফুঁড়ে উঠেছিল সূর্য। সেদিন রোদের তীব্র তেজে ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওই দিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৪২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এখন ২০১৯ সালের এপ্রিল চলছে। আজ বুধবার ১৭ এপ্রিল। বৈশাখ কেবল এসেছে। কিন্তু এরই মধ্যে হাঁসফাঁস শুরু হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি উঠেছে।

গতকাল ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন সারা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা ছিল চুয়াডাঙ্গা জেলায়, ৩৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তাহলে এপ্রিলের বাকি দিনগুলোয় গরম কি আরও বেশি পড়বে?

আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, তেমনটাই হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

কারণ জানতে চাইলে আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এ সময়ে দিনের ব্যাপ্তি দীর্ঘ থাকে। তাই সূর্য অনেক সময় ধরে আলো ছড়াতে পারে। এ সময় বৃষ্টি না হলে গরম বেড়ে যায়।

আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, আজ বুধবার থেকে আরও তিন-চার দিন বৃষ্টির তেমন সম্ভাবনা নেই। বৃষ্টি হলেও সেটি খুব কম সময়ের জন্য হবে। তাই গরম বাড়তে থাকবে।

২০১৪ সালের ২৪ এপ্রিল গত পাঁচ দশকের মধ্যে রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬০ সালের ৩০ এপ্রিল ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৪২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ১৯৭২ সালের ১৮ মে রাজশাহীতে ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ওঠে।

তাপমাত্রার আগের সেই রেকর্ড কি এ বছর ভেঙে যাবে?

আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন বলেন, ‘না, তেমনটা হয়তো না-ও হতে পারে। তবে কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে পারে।’

আবহাওয়া অধিদপ্তরের এপ্রিল মাসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ মাসে দেশের উত্তর ও উত্তর–পশ্চিমাঞ্চলে বেশ কয়েকটি দাবদাহ বয়ে যেতে পারে। এর প্রভাবে তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে পারে।

দাবদাহের পাশাপাশি ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাসও দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ ছাড়া সাগরে সৃষ্টি হতে পারে বেশ কয়েকটি নিম্নচাপ।

একটি নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়ে আঘাত হানতে পারে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে। ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে বৃষ্টি হলে গরম হয়তো কিছুটা কমবে।

তবে ঝড়বৃষ্টি যা-ই হোক না কেন, এপ্রিল মাসে গরমের হাত থেকে খুব সহজে হয়তো রক্ষা পাওয়া যাবে না। কিন্তু তাপমাত্রা কতটুকু উঠতে পারে, সেটি এখন দেখতে হবে।

About hasan mahmmud

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *