Home / আন্তর্জাতিক / প্রেসিডেন্টের ছবিতে আঁকিবুকি !!!!

প্রেসিডেন্টের ছবিতে আঁকিবুকি !!!!

প্রেসিডেন্টের ছবির ওপর আঁকিবুঁকি করায় স্কুল থেকে বহিষ্কৃত হতে হয়েছে তিন স্কুলছাত্রীকে। ঘটনাটি ঘটেছে আফ্রিকার দেশ বুরুন্ডিতে। এর আগে এই অপরাধে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। জেলমুক্তির পর তাদের শুনতে হলো স্কুল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার খবর।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, বুরুন্ডির প্রেসিডেন্ট পিয়েরে এনকুরুনজিজার ছবির ওপর আঁকিবুঁকি করাটাকে দেশটির সরকার ‘রাষ্ট্রপ্রধানকে অপমান’ করা হয়েছে বলে বিবেচনা করে। এ অপরাধে তিন স্কুলছাত্রীকে গত মাসে কারাগারে পাঠায়। দেশটির এনগোজি কেন্দ্রীয় কারাগারে এই তিন শিশুকে ছয় দিন আটকে রাখা হয়। এ ঘটনায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া আসতে থাকে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট এনকুরুনজিজার প্রতিকৃতিতে শিশুদের আঁকার ছবিগুলো ফ্রিআওয়ারগার্লস হ্যাশট্যাগ দিয়ে পোস্ট করেন।
এইচআরডব্লিউর মধ্য আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক লুইস মাজ সিএনএনকে বলেন, ‘এটা ভালো সংবাদ যে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো তুলে নেওয়া হয়নি। আর এখন তাদের স্কুল থেকে বহি
ষ্কার করা হলো, যা তাদের শিক্ষার অধিকারকে খর্ব করছে।

এই তিন শিক্ষার্থী বুরুন্ডির কিরুন্ডো প্রদেশের ইকোফো আকামুরি স্কুলে পড়াশোনা করত। এ বিষয়ে স্কুলটির কর্তৃপক্ষ ও বুরুন্ডি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি।
বুরুন্ডিতে এর আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৬ সালে বুরুন্ডির জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা মাধ্যমিক পর্যায়ের আট শিক্ষার্থীকে আটক করে। তাদের অপরাধ ছিল পাঠ্যবইয়ে থাকা প্রেসিডেন্ট এনকুরুনজিজার ছবির ওপর ‘গেট আউট’, বা ‘নো টু থার্ড টার্ম’ কথাগুলো লেখা। একই বছরে বেশ কয়েকটি স্কুল থেকে প্রেসিডেন্টের ছবি বিকৃত করার জন্য কয়েক শ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।
পিয়েরে এনকুরুনজিজা ২০০৫ সাল থেকে বুরুন্ডির ক্ষমতায় রয়েছেন। তীব্র আন্দোলন সত্ত্বেও ২০১৫ সালে তৃতীয় মেয়াদের জন্য তিনি নির্বাচিত হন। বুরুন্ডির সংবিধান অনুযায়ী, কেউ দুই মেয়াদের বেশি প্রেসিডেন্ট থাকতে না পারলেও দেশটির সাংবিধানিক আদালত রায় দেন, পিয়েরে এনকুরুনজিজার ক্ষেত্রে নিয়মটি প্রযোজ্য হবে না। কারণ, তিনি প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় এসেছিলেন আইনসভার মাধ্যমে মনোনীত হয়ে।

About hasan mahmmud

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *