Home / ভিডিও / ব্রেকিং!!গোমর ফাঁস!! বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করল এফবিআই !

ব্রেকিং!!গোমর ফাঁস!! বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করল এফবিআই !

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বুধবার সচিবালয়ে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে মামলার সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পরে বাংলাদেশ ব্যাংকে সংবাদ সম্মেলন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি ফিলিপিন্স সফর করে এসেছেন। যে প্রতিবেদন তারা দিয়েছেন, তার ভিত্তিতেই মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে নিউ ইয়র্কে এই মামলা করা হবে। মামলার বাদী হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ও সুইফট কর্তৃপক্ষও থাকবে।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতে সুইফট মেসেজিং সিস্টেমের মাধ্যমে ৩৫টি ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশের এক বিলিয়ন ডলার সরিয়ে ফেলার চেষ্টা হয়।

এর মধ্যে পাঁচটি মেসেজে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার যায় ফিলিপিন্সের আরসিবিসিতে। আর আরেক আদেশে শ্রীলঙ্কায় পাঠানো হয় ২০ লাখ ডলার।

শ্রীলঙ্কায় পাঠানো অর্থ ওই অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া শেষ পর্যন্ত আটকানো গেলেও ফিলিপিন্সের ব্যাংকে যাওয়া অর্থের বেশিরভাগটাই স্থানীয় মুদ্রায় বদলে জুয়ার টেবিল ঘুরে চলে যায় নাগালের বাইরে।

রিজল ব্যাংকের একটি শাখা হয়ে বেরিয়ে যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে এক ক্যাসিনো মালিকের ফেরত দেওয়া দেড় কোটি ডলার বাংলাদেশকে বুঝিয়ে দিয়েছে ফিলিপিন্স। এ ঘটনায় রিজল ব্যাংককে ২০ কোটি ডলার জরিমানাও করেছে ফিলিপিন্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। জরিমানার ওই অর্থ তারা পরিশোধ করলেও বাংলাদেশকে বাকি অর্থ ফেরতের দায় নিতে তারা রাজি নয়।

ডেপুটি গভর্নর রাজী হাসান বলেন, ফিলিপিন্সে যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে ফিলরেম মানি রেমিটেন্স কোম্পানির কাছে আছে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। ওই অর্থ নিয়ে ফিলিপিন্সের এন্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিলের একটি বাজেয়াপ্তকরণ মামলা দেশটির আদালতে চলমান।

সোলায়ার নামের একটি ক্যাসিনোতে গিয়েছিল ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

ওই অর্থ ফিলিপিন্সের আদালত ফ্রিজ করে রেখেছে। এ বিষয়ে আরেকটি মামলা বিচারাধীন।

“আর কিম অং ক্যাসিনোতে যাওয়া ২ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে দেড় কোটি ফেরত আনা গেছে। বাকি টাকা ফেরত আনার কাজ চলমান রয়েছে। তবে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ডলারের ট্রেস করা যায়নি।”

গত ৩০ জানুয়ারি থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি ফিলিপিন্স সফর করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিনিধি দলে আজমালুল হোসেন কিউসির সঙ্গে আরও ছিলেন বাংলাদেশ ফাইনানশিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটের পরামর্শক দেবপ্রসাদ দেবনাথ, বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক জাকির হেসেন চৌধুরী ও যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রব।

আইনজীবী আজমালুল হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা তথ্য পেয়েছি, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে টাকাটা যখন নিউ ইয়র্কের ফেডারেল ব্যাংক থেকে চলে যায়, ওই সময় ২৭ থেকে ২৮টা ট্রানজেকশন হয়েছিল। আমরা ধারণা করছি, ফিলিপিন্সের আরসিবিসি ব্যাংকের ১৫ থেকে ২০ জন কর্মকর্তা এর সঙ্গে জড়িত।

“এত বড় ট্রানজেকশন হয়েছে অথচ তারা কোনো প্রতিবেদনই দেয়নি। অর্থ পাচারের সাথে আরসিবিসির নিচ থেকে উপরের অনেক কর্মকর্তাই এতে জড়িত রয়েছেন। তাই আরসিবিসির বিরুদ্ধে আমরা ফৌজদারি মামলা করতেই পারি। কারণ দেওয়ানী মামলা করতে সময় লাগবে।”

মামলা করার সিদ্ধান্ত কেন আরও আগে নেওয়া হল না-

এমন প্রশ্নে ডেপুটি গভর্নর রাজী হাসান বলেন, “মামলা আমরা আগে করতে পারতাম না। কারণ আমাদের কাছে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ ছিল না। আমরা ফিলিপিন্সের সরকার ও অন্যান্য এজেন্সির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অর্থ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছি। এখন মামলার উপযুক্ত সময়।”

টাকা ফেরত আনতে কত সময় লাগতে পারে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারির জন্য একেক দেশের একেক রকম আইন রয়েছে, যা শেষ করতে পাঁচ থেকে ১৩ বছরও লেগে যায়। কিন্তু যেহেতু পাচার হওয়া ওই অর্থ আমাদের রাষ্ট্রীয় সম্পদ, তাই আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করব, অহেতুক দীর্ঘ সময় না লাগিয়ে যত দ্রুত সম্ভব যাতে তা ফেরত আনা যায়।”

অবশ্য মামলা করার আগে আরসিবিসি কোনো প্রস্তাব নিয়ে এলে বাংলাদেশ ব্যাংক তা ভেবে দেখবে বলে জানান তিনি।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সাইবার চুরির এই ঘটনা বাংলাদেশের মানুষ জানতে পারে ঘটনার এক মাস পর, ফিলিপিন্সের একটি পত্রিকার খবরের মাধ্যমে।

বিষয়টি চেপে রাখায় সমালোচনার মুখে গভর্নরের পদ ছাড়তে বাধ্য হন আতিউর রহমান; কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ে আনা হয় বড় ধরনের রদবদল।

ওই সময়ই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ঢাকায় মামলা করা হয়। বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি দুই বছরেও আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারেনি। পুরো বিশ্বে আলোচিত এই সাইবার চুরির পেছনে কারা ছিল- তা জানা যায়নি এখনও।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ আরসিবিসির বিরুদ্ধে মামলা করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বলে গত ডিসেম্বরে খবর দেয় রয়টার্স।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়,

নভেম্বরে এক কনফারেন্স কলে নিউ ইয়র্ক ফেড ও সুইফটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মামলার বিষয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

এরপর রিজল কর্তৃপক্ষের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ চুরির ঘটনায় নিজেদের গাফিলতির দায় এড়াতে তথ্য গোপন করে এখন আরসিবিসিকে ‘বলির পাঁঠা’ বানাতে চাইছে।

“আইনত যেসব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব, তার সবই ফিলিপিন্সের সিনেট এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে দিয়েছে আরসিবিসি। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক সম্ভব সব কিছুই লুকিয়েছে।”

ব্যাংক খাতে হ্যাকিংয়ের সবচেয়ে বড় এই ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার যে তদন্ত করেছিল, তার প্রতিবেদন দেখতে চেয়েছিল ফিলিপিন্স সরকার। কিন্তু অর্থমন্ত্রী মুহিত তখন বলেছিলেন, ফিলিপিন্স চাইলেও ওই প্রতিবেদন তাদের দেওয়া হবে না।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মুহিত বুধবারও বলেন, “এখন (প্রতিবেদন) প্রকাশ করব না, সিদ্ধান্ত এখনও নেই নাই, দেখি কখন (প্রকাশ) করি।”

About Admin Rafi

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *