Breaking News
Home / রাজনীতি / প্রস্তুতি চূড়ান্ত, নির্বাচন কমিশন গঠনে যেকোনো মুহূর্তে সার্চ কমিটি

প্রস্তুতি চূড়ান্ত, নির্বাচন কমিশন গঠনে যেকোনো মুহূর্তে সার্চ কমিটি

50371_f2নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের সুপারিশ দিতে যে কোনো সময় ‘সার্চ কমিটি’ গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি হবে। এ সংক্রান্ত প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এখন সার্চ কমিটির সদস্যদের নামের জন্য প্রেসিডেন্টের দপ্তরের দিকে তাকিয়ে আছেন তারা। প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে চিঠি এলেই ফাইল যাবে উপরের দিকে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সার্চ কমিটি গঠনের জন্য ২০১২ সালের ফাইলের প্রক্রিয়া দেখা হয়েছে। প্রেসিডেন্টের চিঠি পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদনের জন্য পাঠাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এরপরই জারি হবে প্রজ্ঞাপন। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম  জানান, সার্চ কমিটির সদস্যদের নাম এখনো পাইনি। প্রেসিডেন্টের দপ্তরের চিঠি পেলেই ফাইল প্রসেস করবো। এরপর প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। সেটা কখন হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিশনের মেয়াদ আগামী ৮ই ফেব্রুয়ারি শেষ হচ্ছে। এ কারণে সহসাই সার্চ কমিটি গঠন করা হবে। কারণ গেল সপ্তাহে শেষ হওয়া প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সংলাপে আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ প্রায় সবক’টি রাজনৈতিক দল ‘সার্চ কমিটি’ গঠন প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছে। সংসদের বাইরে থাকা বিএনপিসহ ৩১টি দলের সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের সংলাপ গত বুধবার শেষ হয়েছে। সংলাপে নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়ন, সার্চ কমিটি এবং দল নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে ইসি গঠনসহ বিভিন্ন পরামর্শ এসেছে দলগুলোর পক্ষ থেকে। বেশির ভাগ দল সংবিধান অনুযায়ী আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে। তা না হওয়া পর্যন্ত সার্চ কমিটির পক্ষেই মত দিয়েছে তারা। শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা করে সন্তুষ্টিও প্রকাশ করেছে বিএনপি। সংলাপে পাওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত ও প্রস্তাব বিবেচনা করে একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আবদুল হামিদ। সংলাপের শেষ দিনে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করলেও কী প্রক্রিয়ায় নতুন ইসি গঠন হবে তা জানাননি। সংলাপে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন প্রেসিডেন্ট। বলেন, জাতীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা জরুরি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবারের সার্চ কমিটিও পাঁচ সদস্যের হতে পারে। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই সার্চ কমিটি প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য কমিশনারদের নাম প্রস্তাব করে প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠাবেন। তাদের সুপারিশকৃতদের মধ্য থেকেই নতুন ইসি নির্বাচন ও নিয়োগ দেবেন প্রেসিডেন্ট। সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের এখতিয়ার প্রেসিডেন্টকে দেয়া হয়েছে। সংবিধানের ১১৮ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে লইয়া এবং রাষ্ট্রপতি সময়ে সময়ে যে রূপ নির্দেশ করিবেন, সেইরূপ সংখ্যক অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে লইয়া বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকিবে এবং উক্ত বিষয়ে প্রণীত কোনো আইনের বিধানাবলী-সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগ দান করিবেন।’ এর আগে ২০১২ সালে সর্বশেষ কমিশন হয় সার্চ কমিটির মাধ্যমে। যদিও সংবিধানের আলোকে প্রেসিডেন্ট সবসময় সিইসি ও ইসি নিয়োগ দিয়ে থাকেন। ওই সময় প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসেন প্রয়াত সাবেক প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমান। ইসি গঠন নিয়ে ২০১১ সালের ২২শে ডিসেম্বর  থেকে ২০১২ সালের ১২ই জানুয়ারি পর্যন্ত আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ ২৩টি দলের মতামত নেন জিল্লুর রহমান। ওই সংলাপে অধিকাংশ দলই সংবিধান অনুসারে সিইসি ও ইসি নিয়োগে আলাদা আইন করা বা অনুসন্ধান কমিটি গঠনের পক্ষে মত দেয়। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের পর ২০১২ সালের ২৪শে জানুয়ারি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে নামের সুপারিশ তৈরি করতে চার সদস্যের সার্চ (অনুসন্ধান) কমিটি গঠন করেন ওই সময়ের প্রেসিডেন্ট। প্রধান বিচারপতি মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারককে সভাপতি করে গঠিত কমিটিতে সদস্য ছিলেন হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান ও দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান। ওই কমিটির সুপারিশের আলোকে বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার সাবেক সচিব কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ এবং চার কমিশনার  মো. শাহনেওয়াজ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জাবেদ আলী, মোহাম্মদ আবু হাফিজ এবং মোহাম্মদ আবদুল মোবারক ২০১২ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেন। পরে আরো একজন যুক্ত হন। সংবিধান অনুযায়ী কমিশনের মেয়াদ পাঁচ বছর।

About Saimur Rahman

Leave a Reply