Home / খেলা / বিশ্বকাপ অভিযানে আয়ারল্যান্ডের পথে মাশরাফিরা !!!

বিশ্বকাপ অভিযানে আয়ারল্যান্ডের পথে মাশরাফিরা !!!

সকাল আটটার কিছু পরেই বিমানবন্দরে চলে এলেন মোহাম্মদ মিঠুন। ব্যাটিং অর্ডারে মাঝামাঝি নামতে হয় তাঁকে, তবে আয়ারল্যান্ডগামী উড়ান ধরতে বিমানবন্দরে দলের সবার আগেই এলেন মিঠুন। সকাল সাড়ে ১০টার ফ্লাইট ধরতে একে একে চলেন দলের বাকি সবাই। বাংলাদেশ দলের আপাতত গন্তব্য আয়ারল্যান্ড হলেও এটাই আসলে বিশ্বকাপযাত্রা। আয়ারল্যান্ড সফর শেষেই যে বিশ্বকাপ অভিযান।
আয়ারল্যান্ড যাত্রার আগে সাব্বিরের ক্যামেরায় সেলফি। ছবি: সংগৃহীতআয়ারল্যান্ড যাত্রার আগে সাব্বিরের ক্যামেরায় সেলফি। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ দল ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে আজ সকালে রওনা দিল আয়ারল্যান্ডে। আয়ারল্যান্ড সফর শেষ হতেই বিশ্বকাপ। দেশবাসীকে বিদায় জানিয়ে বিশ্বকাপ অভিযানেই রওনা দিলেন মাশরাফিরা।
সকাল আটটার কিছু পরেই বিমানবন্দরে চলে এলেন মোহাম্মদ মিঠুন। ব্যাটিং অর্ডারে মাঝামাঝি নামতে হয় তাঁকে, তবে আয়ারল্যান্ডগামী উড়ান ধরতে বিমানবন্দরে দলের সবার আগেই এলেন মিঠুন। সকাল সাড়ে ১০টার ফ্লাইট ধরতে একে একে চলেন দলের বাকি সবাই। বাংলাদেশ দলের আপাতত গন্তব্য আয়ারল্যান্ড হলেও এটাই আসলে বিশ্বকাপযাত্রা। আয়ারল্যান্ড সফর শেষেই যে বিশ্বকাপ অভিযান।

মে দিবসের ছুটিতে ঢাকা শহর প্রায় ফাঁকা। তবে সকালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চিত্রটা ছিল ভিন্ন। সংবাদকর্মীদের ভিড় তো ছিলই। উৎসুক জনতার সেলফি-ছবি তোলার হিড়িকে খেলোয়াড়দের বিমানবন্দরে ঢোকায় যেন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল! সাব্বির রহমানকে তো এক ভক্ত ভিড়ের মধ্যে দাঁড় করিয়ে সেলফি তুলে তবেই ছাড়লেন। খেলোয়াড়েরা অবশ্য কাউকে হতাশ করছিলেন না। সবার আবদার মিটিয়ে বিমানবন্দরে ঢুকছিলেন। অনেক অনুরোধ করে যদিও মাহমুদউল্লাহর মন গলাতে পারেননি সংবাদকর্মীরা। কিছুতেই কথা বলতে চাইলেন না তিনি। মাহমুদউল্লাহ কদিন আগে বলেছিলেন, ‘ভালো খেলি তারপর কথা বলব।’ আইসিসি টুর্নামেন্টে তিনি সেঞ্চুরি করাটা নিয়মিত ঘটনা বানিয়ে ফেলেছেন। এবারও কি হবে মাহমুদউল্লাহ? হেসে শুধু বলেছিলেন, ‘চেষ্টা করব, দোয়া করবেন।’

বিমানবন্দরে বাংলাদেশ দলকে শুভকামনা জানাতে ‘টাইগার শোয়েব’ তো ক্লান্তিহীন ওড়াতে থাকলেন লাল-সবুজ পতাকা। তাঁর এক হাতে পতাকা, আরেক হাতে ছোট্ট একটা ‘বিশ্বকাপ’! এই বিশ্বকাপটা নকল। আসলটা মাশরাফিরা নিয়ে ফিরতে পারবেন কি না, সেটা বলার উপায় নেই। তবে টুর্নামেন্টে ভালো করার লক্ষ্যেই যাচ্ছে বাংলাদেশ। অভিজ্ঞ আর তারুণ্যের মিশেলে দলটা হয়েছে বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। মাশরাফি বিন মুর্তজা উড়ান ধরার আগে তাই সবার কাছে দোয়া চেয়ে গেলেন, যেন তাঁরা আস্থার প্রতিদান দিতে পারেন।
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া মিঠুন অধিনায়কের কথারই প্রতিধ্বনি করলেন, ‘প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছি, অনেক রোমাঞ্চিত, সেটা বলব না। আমরা আমাদের দিকে শতভাগ চেষ্টা করব। দেশের মানুষের কাছে একটাই চাওয়া, আমাদের জন্য দোয়া করবেন এবং আস্থা রাখবেন।’

বিশ্বকাপ দলে না থাকলেও তাসকিন আহমেদ আছেন আয়ারল্যান্ড সফরের দলে। তাঁর বাবা বুকে জড়িয়ে বিদায় জানালেন তাঁকে। মেহেদী হাসান মিরাজকে বিদায় জানাতে এসেছিলেন তাঁর পরিবার। মিরাজের স্ত্রী রাবেয়া আক্তার প্রীতি স্বামীকে শুধু বিদায় জানাতে নয়, তিনি এসেছিলেন যশোরের ফ্লাইট ধরতে, যাবেন বাবার বাড়ি খুলনায়। নবপরিণীতাকে রেখে মোস্তাফিজুর রহমানকেও যেতে হচ্ছে প্রায় তিন মাসের সফরে। কাল থেকে তাঁর স্ত্রী চলে যাবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে। তা আপনার জন্য বুঝি মন খারাপ হচ্ছে স্ত্রীর? ‘ওর পরীক্ষা চলছে, সেই টেনশনেই তো অস্থির!’ মোস্তাফিজের রসিকতা।

পরিবার-পরিজন রেখে ক্রিকেটাররা লম্বা সফরে যাচ্ছেন, একটু তো মন খারাপ থাকেই তাঁদের। তবে বড় অভিযান, গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট, ভালো করতে হবে—এ ভাবনাটাই বেশি কাজ করছে সবার মধ্যে। বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হতে আরও কিছুদিন বাকি। এক অর্থে বিশ্বকাপ মিশন শুরুও হয়ে গেল বাংলাদেশের। বিমানবন্দরে টাইগার শোয়েব যেভাবে পতাকা উঁচিয়ে রাখলেন সারাক্ষণ, টুর্নামেন্টেও এভাবেই দেশের পতাকা উঁচিয়ে রাখতে হবে মাশরাফিদের।

About hasan mahmmud

Leave a Reply