Home / জাতীয় / এজাহারই ছিল ষড়যন্ত্রমূলক

এজাহারই ছিল ষড়যন্ত্রমূলক

অনলাইন ডেক্স।।

২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের পর দলটির পক্ষ থেকে মামলা দিতে গেলে পুলিশ সেই মামলা নেয়নি। বরং পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। এজাহার সাজানো হয় ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের পরামর্শে। জঙ্গিরা বারবার শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করেছে—এটা জানা থাকা সত্ত্বেও এ হামলার পেছনে জঙ্গিরা থাকতে পারে সে রকম বক্তব্য ছিল না সাদামাটা ওই এজাহারে। এরপর তদন্তের সময় ‘জজ মিয়া নাটক’ও সাজানো হয়।

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের অন্যতম ভয়াল হামলার ঘটনাটি ঘটে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে চালানো হয় ভয়ংকর গ্রেনেড হামলা। ওই হামলায় নিহত হয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ ২৪ জন। তাদের মধ্যে ছিলেন তখন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আইভি রহমান। আহত হন শেখ হাসিনাসহ ৩৩৮ জন দলীয় নেতাকর্মী-সমর্থক, কর্তব্যরত সাংবাদিক, পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী। শেখ হাসিনার বাঁ কানের শ্রবণক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। সেদিন আহত ঢাকার তত্কালীন মেয়র মোহাম্মদ হানিফ গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় পরে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। স্প্লিন্টারবিদ্ধ ব্যক্তিরা এখনো যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছে।

গ্রেনেড হামলার পরদিন ২২ আগস্ট সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে মতিঝিল থানার তত্কালীন উপপরিদর্শক (এসআই) শরীফ ফারুক আহম্মেদ বাদী হয়ে মামলা করেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (পূর্ব) তত্কালীন উপকমিশনার মো. ওবায়দুর রহমান ঘটনায় নিহত বা আহতদের আত্মীয়-স্বজনের এজাহার না নিয়ে পুলিশকে বাদী করিয়ে মামলা লিপিবদ্ধ করান বলে অভিযোগ রয়েছে। এই মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্রে এমন কথা উল্লেখ করা হয়।

এসআই শরীফ ফারুক আহম্মেদের এজাহারে বিস্তারিত ঘটনা উল্লেখ করা হয়নি। তাঁর দায়ের করা মামলায় বলা হয়, তিনি ঘটনার দিন দুপুর দেড়টার দিকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য যান। বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্য শেষ করে ট্রাক থেকে নিচে নামার সঙ্গে সঙ্গে কে বা কারা ট্রাকের পাশে গ্রেনেড বা বোমা নিক্ষেপ করে। নিক্ষিপ্ত গ্রেনেড বা বোমা বিস্ফোরিত হয়ে সমাবেশস্থলের কয়েকজন মারাত্মক জখম হয়। তাত্ক্ষণিক সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের তত্ত্বাবধানে শেখ হাসিনা সভাস্থল ত্যাগ করে চলে যান। এরপর ওই সমাবেশের চারদিকে আরো সাত-আটটি গ্রেনেড বা বোমা নিক্ষেপ করলে সমাবেশের মধ্যস্থলে সেগুলো বিস্ফোরিত হয়। সেখানে বহু লোকজন মারাত্মক জখম হয়। উপস্থিত পুলিশ লোকজনের সহায়তায় আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালেও আহতদের নেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে কিছু পুলিশ সদস্যও আহত হন। এজাহারে আরো বলা হয়, ঘটনার সংবাদ পেয়ে আরো পুলিশ সদস্য সেখানে উপস্থিত হন। রমনা পেট্রল পাম্পের পাশে থেকে একটি গ্রেনেড পেয়ে এসআই মনির তা জব্দ করেন। ঘটনাস্থল থেকে ছিন্নভিন্ন কাপড়চোপড়, জুতা-স্যান্ডেল আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।

এসআই শরীফ এজাহারে উল্লেখ করেন, তিনি সংবাদ পান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৩ জন ও শেরেবাংলানগর পঙ্গু হাসপাতালে তিনজন মারা গেছে। তাদের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন তিনি।

এজাহারে এসআই শারীফ আরো উল্লেখ করেন, অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন দুষ্কৃতকারী হত্যার উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই গ্রেনেড বা বোমা হামলা করেছে। এ ঘটনায় শেখ হাসিনাও আহত হন, মারাত্মক জখম হন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমান। তাঁরা ছাড়ও আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা আহত হন এ ঘটনায়। কিন্তু তাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়নি এজাহারে। এমনকি সমাবেশে কোন কোন নেতা উপস্থিত ছিলেন তাও বর্ণনা করা হয়নি এজাহারে।

শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য এর আগেও কয়েকবার হামলা করে হরকাতুল জিহাদ। অথচ এজাহারে জঙ্গি হামলাকে সন্দেহ করাও হয়নি। শুধু কয়েকজন দুষ্কৃতকারী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর পরই উদ্ধার করা তাজা দুটি গ্রেনেড ধ্বংস করা হয়। অথচ এজাহারে তা উল্লেখ করা হয়নি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দিতে যে ভয়াবহতার চিত্র উঠে আসে, মামলার এজাহারে তা ছিল না। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা গ্রেনেড ছিল আর্জেস গ্রেনেড, তাও এজাহারে বলা হয়নি। ওই দিন ঘটনাস্থলের আশপাশে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের নামও উল্লেখ করা হয়নি। তখনকার প্রশাসনের নির্দেশেই এসব বিষয় এড়িয়ে যাওয়া হয়।

সেই সময় বিএনপি সরকার মামলাটির সঠিক তদন্ত না করে উল্টো তা ভিন্ন দিকে নেওয়ার অপচেষ্টা করে। নোয়াখালীর সেনবাগের একটি গ্রাম থেকে জজ মিয়া নামের এক যুবককে ধরে নিয়ে এসে আদালতে মিথ্যা জবানবন্দি আদায় করে। এতে জজ মিয়া নিজেকে ঘটনার অন্যতম পরিকল্পনাকারী বলে দাবি করেন। পরে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে মামলাটির নতুন করে তদন্ত শুরু করে। তাতেই একের পর এক বেরিয়ে আসতে থাকে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অবসান হয় জজ মিয়া নাটকের।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর পুলিশ নতুন করে তদন্ত করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয়। তাতে বিএনপির নেতা তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ আরো অনেক ব্যক্তি জড়িত আছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

অথচ ঘটনার পরদিন ২২ আগস্ট আওয়ামী লীগের তত্কালীন সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল ও তত্কালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সচিব সাবের হোসেন চৌধুরী পৃথক দুটি এজাহার দায়ের করেন। এই দুটি এজাহারে ওই দিনের লোমহর্ষক ও নৃশংসতম ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ ছিল। অথচ ওই দুটি এজাহার পুলিশ নেয়নি।

গ্রেনেড হামলায় মারাত্মক আহত আওয়ামী লীগ নেত্রী সাহারা খাতুন চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরে পরের মাসে অর্থাত্ ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, মতিঝিল থানায় তিনি মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা না নেওয়ায় তিনি আদালতে মামলা করেন। আদালত ওই মামলাটি তদন্ত করার জন্য মতিঝিল থানার পুলিশকে নির্দেশ দেন।

সাহারা খাতুন গ্রেনেড হামলা মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে জানান, তাঁর দায়ের করা মামলার কোনো তদন্ত হয়নি। কোনো আসামিকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি। তিনি বলেন, তাঁর মামলায় ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ ছিল। কারা আহত হয়েছিল, কারা নিহত হয়েছিল তা বলা ছিল মামলার আরজিতে। কোনো আসামির নাম উল্লেখ না করলেও শেখ হাসিনাকে ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা হয়েছে, তা এজাহারে উল্লেখ ছিল।

একই হামলায় আহত স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ভারতে চিকিৎসার জন্য যান। সেখানে চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফিরে মতিঝিল থানায় ওই বছরের ২২ অক্টোবর একটি এজাহার দায়ের করেন। এজাহারটি থানা কর্তৃপক্ষ সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করে। ওই এজাহারে বাহাউদ্দিন নাছিম ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছিলেন। তিনি এজাহারে উল্লেখ করেছিলেন, শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছে। কিন্তু উপস্থিত নেতাকর্মীরা মানবঢাল তৈরি করায় শেখ হাসিনা রক্ষা পান। মামলার বিচার চলাকালে এটি সাক্ষ্যভুক্ত হলেও বিএনপি জোট সরকারের আমলে সেটি আমলে নেওয়া হয়নি। এ ছাড়া ওই হামলার শিকার বদর আজিজসহ দুজন মামলা দায়ের করেছিলেন। কিন্তু সেগুলো নেয়নি পুলিশ।

গ্রেনেড হামলা মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ট্রাইব্যুনালে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেছিলেন, ‘প্রচণ্ড বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। তারপর মুহুর্মুহু বিস্ফোরণ। পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। মানুষের দিগ্বিদিক ছোটাছুটি আর হাহাকারে ভারী হয়ে ওঠে আকাশ-বাতাস। মানুষের মৃতদেহগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে ছিল। অনেকের শরীর থেকে হাত-পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ছটফট করছিল শরীরের ওই অংশগুলো। প্রায় জ্ঞানহারা অবস্থায় সেগুলো দেখতে পাই। নিজের শরীরে অসংখ্য স্প্লিন্টার লাগে। ব্যথায় ককাতে থাকি। একসময় অজ্ঞান হয়ে পড়ি।’ সুরঞ্জিত যত দিন বেঁচে ছিলেন শরীরে গ্রেনেডের স্প্লিন্টার বয়ে বেড়িয়েছেন। সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, স্প্লিন্টার শরীরে বয়ে বেড়ানোর যন্ত্রণা যে কী, তা ভুক্তভোগীরা ছাড়া কেউ বুঝবে না।

সুরঞ্জিত ছাড়াও এই মামলায় আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতারা সাক্ষ্য দেন। সাহারা খাতুন, আমীর হোসেন আমু, কাজী জাফরউল্যাহ, ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, মুকুল বোস, ড. হাছান মাহ্মুদসহ অনেক নেতাই সাক্ষ্য দেন। হরকাতুল জিহাদ আল বাংলাদেশ (হুজি) নামের জঙ্গি সংগঠনের জঙ্গিরা সেদিন যে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায় সেই হূদয়বিদারক, নির্মম, অমানবিক ও পৈচাশিক হামলার বর্ণনা দেন তাঁরা।

এর আগেও কয়েক দফা শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা চালায় হুজি জঙ্গিরা। এ গোষ্ঠীর অন্যতম শীর্ষ নেতা মুফতি হান্নান ২০০৫ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে শেখ হাসিনার ওপর বিভিন্ন হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের বিবরণ দেন। তাঁর জবানবন্দি অনুযায়ী, ২০০০ সালের জুলাই মাসে হুজির কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে শেখ হাসিনাকে হত্যার সিদ্ধান্ত হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই বছরের ২০ জুলাই কোটালীপাড়ায় শেখ হাসিনার সমাবেশস্থল ও হেলিপ্যাডের কাছে দুটি শক্তিশালী বোমা পুঁতে রাখা হয়েছিল। তবে সমাবেশের আগে পুলিশ তা উদ্ধার করে ফেলে। এরপর ২০০১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটে নির্বাচনী জনসভায় বোমা পুঁতে রেখে শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল হুজি। তখন ক্ষমতায় ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার। কিন্তু হামলার আগেই জনসভাস্থলের অদূরে বোমা বিস্ফোরণে জঙ্গিদের দুই সদস্য নিহত হওয়ায় তাদের পরিকল্পনা ভণ্ডুল হয়ে যায়।

এর আগে ২০০১ সালের ৩০ মে খুলনায় রূপসা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল হুজি জঙ্গিরা। অনুষ্ঠানের তিন দিন আগে ২৭ মে সেতুর কাছাকাছি রূপসা নদীতে দুটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ১৫ জঙ্গি ধরা পড়ে যাওয়ায় সেটিও ব্যর্থ হয়। এই ১৫ জনের একজন মাসুম বিল্লাহ ওরফে মুফতি মইন ঢাকায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় অংশ নিয়েছিল।

ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিন গত বছরের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় মদদে শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা হয়।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, মূল ঘটনার আগে বিভিন্ন ঘটনাস্থলে ও তারেক রহমানের অফিস হিসেবে পরিচিত বনানীর হাওয়া ভবনে এ মামলার আসামিরা অভিন্ন অভিপ্রায়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র সভা করেছে। তারা পরিকল্পিতভাবে ঘটনার দিন আর্জেস গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ ২৪ জনকে হত্যা এবং শতাধিক নেতাকর্মীকে মারাত্মকভাবে জখম করে।

মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণে স্পষ্ট হয়, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) আশরাফুল হুদা ও শহুদুল হক, সাবেক ডিসি (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান খান ও সাবেক ডিসি (দক্ষিণ) খান সাঈদ হাসান পরস্পর যোগসাজশে গ্রেনেড হামলাকারীদের প্রশাসনিক সহায়তা দিয়েছেন।

মামলা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য এই মামলার তিন তদন্ত কর্মকর্তাসহ পুলিশের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। সাবেক ডিসি (পূর্ব) ওবায়দুর রহমানকেও সাজা দেওয়া হয়েছে। হামলাকারীদের রক্ষার অভিযোগে তাঁদের সাজা দেওয়া হয়।

রায়ের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট হয়, পুলিশ প্রশাসন জানত আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা হবে। তাই এজাহারে কারা হত্যাকারী তা স্পষ্ট না করাটা অবশ্যই অনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল।

About News Desk

Leave a Reply