Breaking News
Home / এক্সক্লুসিভ / লকডাউনের দিনগুলোতে যেভাবে নিজের যত্ন নিবেন

লকডাউনের দিনগুলোতে যেভাবে নিজের যত্ন নিবেন

প্রাণঘাতী কোভিড-19 করোনাভাইরাসের কারণে জীবনটাই বদলে গেছে সবার। সকালে উঠে অফিসের জন্য দ্রুত রেডি হওয়া, শপিং, সিনেমা, থিয়েটার, ছেলে-মেয়েদের স্কুল এখন এসব কিছুই করতে হয় না নেই। মারণ করোনা ভাইরাসের সঙ্গে লড়াইয়ে জিততে আপাতত ঘরবন্দি থাকাই একমাত্র কৌশল। কাজেই শহর স্তব্ধ, জীবন বন্দি ঘরে!

আপাতভাবে বাড়িতে থেকে আপনি রোজকার ধুলো-ধোঁয়া-দূষণ থেকে মুক্ত পাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু দীর্ঘদিনের অভ্যেস হঠাৎ পরিবর্তন করতে বাধ্য হলে তার কিছুটা প্রভাব ত্বকের উপরেও পড়বে! তাছাড়া যেহেতু এখন বাইরের রোদ-হাওয়াও ত্বকে কম লাগছে, রোজকার খাবারে কিছুটা হলেও পরিবর্তন এসেছে, তার উপর ইচ্ছেমতো বাইরে বেরোনোর উপরে কড়া নিয়ন্ত্রণ এসে পড়ায় খানিকটা মানসিক চাপও তৈরি হয়েছে, তাই সব মিলিয়ে হঠাৎ যদি মনে হয় ত্বক খুব শুষ্ক বা নিষ্প্রভ লাগছে, তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। দীর্ঘ অভ্যেস আচমকা ভেঙে গেলে ত্বক নানাভাবে সাড়া দেয়। কারও হয়তো মুখ খুব শুকনো লাগে, কারও আবার ব্রণে ভরে যায় মুখ। সহজ কিছু পরিচর্যার মধ্যে দিয়ে কাটিয়ে ওঠা যায় এ সব সমস্যা! রইল তেমনই কিছু টিপস!সুষম খাবার খান
সমস্ত রেস্তোরাঁ এখন বন্ধ, কাজেই ইচ্ছে করলেও মশলাদার জাঙ্ক ফুড এখন খেতে পারছেন না ঠিকই, কিন্তু বাজারহাট, মুদি দোকানেও সবসময় সব জিনিসপত্র পাওয়া যাচ্ছে না। কাজেই যেনতেনভাবে কোনওরকমে কিছু একটা খেয়ে দিন চালিয়ে দিচ্ছেন এমন মানুষের সংখ্যাই বেশি! কাজেই জাঙ্ক ফুড না খাওয়ার সুফলটা ওখানেই কাটাকুটি হয়ে বাদ পড়ে যাচ্ছে আর তার অবধারিত ফল দেখা যাচ্ছে ত্বকে। তাই খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারে যত্ন নিতেই হবে। প্যাকেটে ভরা রেডি-টু-কুক ফুড এড়িয়ে চলুন। দোকানপাট বন্ধ থাকলেও স্থানীয় কাঁচা আনাজের দোকান কিন্তু খোলা। সেখান থেকে অল্প করে কিনে আনুন মাছ, সবুজ শাকসবজি, ফল। শসা, কলা, আপেল, লেবুর মতো খুব সাধারণ ফল খেলেই চলবে। প্রচুর পানি পান
ত্বক টানটান, কোমল, উজ্জ্বল রাখতে পানি খেতেই হবে। শরীরে জমে যাওয়া সমস্ত টক্সিন ধুয়ে বের করে দেয় পানি। প্রতিদিন অন্তত আট গ্লাস পানি পান করুন। এতে ব্রণের উৎপাতও কমে যাবে।অ্যাকটিভ থাকুন
গৃহবন্দি থাকার সবচেয়ে বড়ো সমস্যা হল দৌড়ঝাঁপের অভাবে শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া। বাড়িতেই ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়াম করুন। ছাদ বা বাড়ির সামনে ফাঁকা জায়গা থাকলে সেখানে সকাল-বিকেল দৌড়োতে পারেন। না থাকলে ঘরের মধ্যেই হাত-পা খেলান। ব্যায়াম করলে শরীরে রক্ত সংবহন ভালো হয়, ফলে ত্বকের জৌলুস অটুট থাকে। যেহেতু বাইরে যাওয়ার ব্যাপার নেই, তাই রোদে পোড়া বা ঘামে ভেজা ত্বকের সমস্যাও নেই!সময় পেয়েছেন বলেই শুধু ঘুমাবেন না
সুন্দর ত্বক পাওয়া অন্যতম সহজ পথ হল পর্যাপ্ত ঘুম। ঘুমের সময় ত্বকে কোলাজেন তৈরি হয়, ত্বক টানটান সতেজ থাকে। বাড়ি থেকে অফিসের কাজ করার সুবাদে যদি আপনার দৈনন্দিন রুটিন পালটেও গিয়ে থাকে, তবু চেষ্টা করুন ঘুমের সময়টা ঠিকঠাক রাখতে। অন্তত সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমান ত্বকও সুন্দর থাকবে।

মুখে হাত দেবেন না
বাড়িতে আছেন যখন, নিশ্চিতভাবেই আপনি মেকআপ করছেন না! শুধু কাজল বা লিপবাম পরে থাকলেও অযথা সে সব ঠিক করতে মুখে বারবার হাত দেবেন না। করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া আটকাতে মুখে হাত দিতে বারবার মানা করছেন বিশেষজ্ঞেরা। তাছাড়া হাত থেকে তেলময়লা, ব্যাকটেরিয়াও মুখে লেগে ব্রণের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ঘরোয়া ফেস মাস্ক আস্থা রাখুন 
পার্লারে যাওয়া বন্ধ, কাজেই ফেসিয়ালও হচ্ছে না! এই ক্ষতি পূরণ করতে রান্নাঘরের টুকিটাকি দিয়ে নিজেই বানিয়ে নিন ঘরোয়া ফেস মাস্ক। ডিমের সাদা অংশ, বেসন, টক দই, লেবুর রস, চিনির মতো সাধারণ উপাদান দিয়েই দারুণ ফেস মাস্ক হয় যা আপনার ত্বককে গভীর থেকে সুস্থ আর উজ্জ্বল রাখবে।

 

সর্দি জ্বর ঠাণ্ডায় কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

প্রাণঘাতী কোভিড-19 করোনাভাইরাসের প্রধান উপসর্গ হচ্ছে– জ্বর, ঠাণ্ডা, কাশি ও গলাব্যথা। তাই এ সময় জ্বর হলে অনেকে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। তবে জ্বর হলে ভয়ের কিছু নেই। চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে এমন নয়, পরামর্শ নিয়ে ঘরেই চিকিৎসা নিতে পারেন।

শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে বেশি তাপমাত্রাকে আমরা জ্বর বলি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, শরীরে স্বাভাবিক তাপমাত্রা হচ্ছে ৯৮.৮৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা এর বেশি হলে তা জ্বর। তবে জ্বরে সঙ্গে কিছু উপসর্গ আছে, যা দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।জেনে নিন কখন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন-১. শরীরের তাপমাত্রা যদি ১০০.৮ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হয়।২. শুকনো কাশি ও শ্বাসকষ্ট হলে।৩. জ্বরের সঙ্গে খিচুনি হলে ও চামড়ায় লালচে দাগ দেখা দিলে।৪. হৃদস্পন্দন বেড়ে গেলে।৫. মাথা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় তীব্র ব্যথা থাকলে।এসব সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

About Saimur Rahman

Leave a Reply