Breaking News
Home / বাংলাদেশ / কেন মিডিয়া ছেড়েছেন মডেল-অভিনেত্রী সুজানা ?

কেন মিডিয়া ছেড়েছেন মডেল-অভিনেত্রী সুজানা ?

দেশীয় শোবিজের জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী সুজানা জাফর। সম্প্রতি বিনোদন জগত ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। চলছেন ইসলামের পথে। অন্যদিকে আজ (১৫ জুন) তার জন্মদিন। সুজানা জাফর এই মুহূর্তে পরিবারের সঙ্গে দুবাইতে অবস্থান করছেন। সেখান থেকে মুঠোফোনে ব্যক্তিজীবনের বিষয় নিয়ে আমাদের মুখোমুখি হন তিনি।
জন্মদিন শুভ হোক, কীভাবে উদযাপন করছেন দিনটি?
আমি প্রতিটা জন্মদিন প্রতিবন্ধী শিশুদের সঙ্গে উদযাপন করি। এবার দেশের বাইরে অবস্থান করছি এবং করোনার কারণে তাদের কাছে যেতে পারছি না। তবে তাদের জন্য খাবার পাঠিয়েছি। অনলাইন লাইভের মাধ্যমে কেক কাটবো, জন্মদিন উদযাপন করব। এছাড়া রাস্তার কিছু অসহায় মানুষদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমার কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষী আছেন, মূলত তারা দেশে থেকে এই কাজগুলো করে দিচ্ছেন।
মিডিয়া ছাড়ার পেছনে বিশেষ কোনো কারণ আছে কী?
আসলে মিডিয়ার পরিবেশ আগে সুন্দর ছিল, এখন অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে। আগে যোগ্যতা, মেধা নিয়ে মানুষ কাজ করতেন, আমাদের অনেক সিনিয়র অভিনয় শিল্পীরা আছেন, যাদের কাজগুলো আমাদের এখনো মুগ্ধ করে, তাদের অনুসরণ করার চেষ্টা করতাম। কিন্তু এখন তো ব্যক্তিগত সম্পর্ক ধরে মানুষ কাজ করেন।
আমি ১৬ বছর মিডিয়াতে কাজ করেছি কিন্তু কখনো একটানা কাজ করিনি। মাঝেমধ্যে দুই, তিন, চার বছর করে বিরতি দিয়েছি। কারণ হলো যখন মানসম্মত কাজ পেয়েছি করেছি, অন্যথায় করিনি। আমার সব কাজ বাছাই করা ছিল।

এই করোনার সংকটে কেমন চলছে ব্যবসা?
করোনায় সবারই ব্যবসার অবস্থা খারাপ। তবে আমি কর্মীদের কথা ভেবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করিনি। এই মুহূর্তে বন্ধ করলে তারা কোথায় যাবেন? নতুন চাকরি পাওয়া কষ্ট হয়ে যাবে। সবাইকে ঠিকমতো বেতন দিয়ে যাচ্ছি।
লকডাউনে সময় কীভাবে পার করছেন?
আসলে লকডাউনটা আমার জন্য আশীর্বাদ বলা চলে। কারণ এই সময় আমি ধর্মীয় বিষয়ে অনেক কিছু শিখেছি। প্রতিনিয়ত নতুন করে শিখছি। দোয়া শেখা, হাদিস পড়া, কুরআন শরিফ পড়ে সময় পার করছি। আমি ছোট থেকে ধর্মীয় বিষয়গুলো চর্চা করার চেষ্টা করি। আর এই রমজানে কদরের রাতগুলোতে ইহতেকাফে ছিলাম। আর সবচেয়ে বড় বিষয় হলো- এই সময় আমি যা শিখছি তা নিজের অবস্থান থেকে প্রচার করছি। ভাই-বোনদের শোখাচ্ছি। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করি। অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আমাকে নক দেন, এসব প্রচারে তারাও উপকৃত হচ্ছেন।

ধর্মীয় পথে কাকে অনুসরণ করেছেন?
আমার অনেক ফ্যান আছে, তবে দেশের ভেতর আমি একজনকে ফলো করি। তিনি হলেন মিজানুর রহমান আজহারী। তার অনেক বড় ভক্ত আমি। আমি আজহারীর অনেক ওয়াজ শুনি। তার কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। আর দেশের বাইরে ডা. জাকির নায়েক ও মুফতি ইসমাইলের আলোচনা শুনি।
ইসলামের পথে আপনি নিজেকে খুঁজে পেয়েছেন, সহশিল্পীদের উদ্দেশে কী বলবেন?
আমার সহশিল্পীদের জন্য আমি দোয়া করি। সবার কল্যাণ চাই। সবসময় চাই, আল্লাহ যেন তাদের হেদায়েত দেন, তারা যেন ইসলামের পথে আসার সুযোগ পান।
ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কী বলবেন?
অনেকেই আমাকে ফলো করেন, ভালোবাসেন। আসলে আমি মিডিয়াতে তারকা হবার ইচ্ছে নিয়ে আসিনি। সবার ভালোবাসায় আমি আজকের সুজানা। যারা আমাকে ফলো করেন, ভালো কাজ দেখে ফলো করেন। আর নতুন করে যারা ফলো করবেন আশা করি ভালো কাজ দেখেই করবেন। সবাই সৎপথে চলবেন, ভালো কাজ করবেন এটাই প্রত্যাশা।

***************
‘এই সময় বেশি একাকীত্বে ভুগছে তরুণ প্রজন্ম’
চলছে করোনাভাইরাসের সংকটময় সময়। আর এই সময় একাকীত্ব, নিঃসঙ্গতা এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার সমস্যা কুরে কুরে খাচ্ছে তরুণ প্রজন্মকে। বয়স্কদের তুলনায় তরুণতরুণীরা অনেক বেশি করে শিকার হচ্ছেন একাকীত্বের। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন নারী ও মধ্যবয়স্করা। সম্প্রতি বিশ্বের দুই শতাধিক দেশ, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং দ্বীপের বাসিন্দাদের নিয়ে করা সমীক্ষায় উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য।

করোনা আতঙ্কের মধ্যে সম্প্রতি একটি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এই সমীক্ষার রিপোর্ট। ‘লোনলিনেস অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড: এজ, জেন্ডার অ্যান্ড কালচারাল ডিফারেন্সেস ইন লোনলিনেস’ শিরোনামের ওই স্টাডিতে বিভিন্ন বয়স, পেশা, সামাজিক অবস্থান ও লিঙ্গের মানুষের জীবনে একাকীত্ব ও বিচ্ছিন্নতা কতটা প্রভাব ফেলছে তা নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে।
সমীক্ষকেরা জানিয়েছেন, বিশ্বের ২৩৭টি দেশ, দ্বীপ ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ৫৫ হাজার মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন তারা। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের বয়স ১৬ থেকে ৯৯ বছর।
গ্রেট ব্রিটেনের ইউনিভার্সিটি অব এক্সটারের অধ্যাপক এবং অন্যতম সমীক্ষক ম্যানুয়েলা ব্যারেটোর ভাষ্য মতে, একাকীত্ব ও নিঃসঙ্গতা নিয়ে সাধারণভাবে যা ভাবা হয়, আমাদের সমীক্ষায় তার বিপরীত ছবি উঠে এসেছে। জনপ্রিয় ধারণা হলো, মূলত বয়স্করাই একাকীত্বের সমস্যায় ভোগেন। কিন্তু আমাদের সমীক্ষায় দেখা গেছে, তরুণ প্রজন্মই সবচেয়ে বেশি সমস্যায় রয়েছেন।
ব্যারেটোর মনে করেন, সামাজিক জীবন সম্পর্কে প্রত্যাশা ও বাস্তবের পার্থক্য থেকেই এই সমস্যা।
সমীক্ষাটি থেকে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, মধ্যবয়সীদের তুলনায় তরুণ প্রজন্ম অনেক বেশি একা। আবার বয়স্কদের তুলনায় মধ্যবয়সীদের একাকীত্বের সমস্যা বেশি। পুরুষদের চেয়ে বেশি একাকীত্বের সমস্যায় ভুগছেন নারীরা।

About Saimur Rahman

Leave a Reply