Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / লকডাউন শিথিলের পর ইউরোপে করোনার পুনরুত্থান হচ্ছে: WHO

লকডাউন শিথিলের পর ইউরোপে করোনার পুনরুত্থান হচ্ছে: WHO

লকডাউন শিথিলের মাসখানেকের মাথায় ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে, অন্তত ৩০টি দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা পুনরায় বাড়তে শুরু করেছে বলে সতর্কতা জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)।

শুক্রবার (২৬ জুন) বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে হু’র আঞ্চলিক পরিচালক ডক্টর হান্স হেনরি ক্লুজ জানান, সম্প্রতি সুইডেন, আরমেনিয়া, আজারবাইজান, ইউক্রেন, কসোভো, মলদোভা, উত্তর মেসিডোনিয়াসহ ইউরোপের ১১টি অঞ্চলে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ‘খুব তাৎপর্যপূর্ণ পুনরুত্থান’ ঘটেছে। অন্তত ৩০টি দেশে সার্বিক করোনা সংক্রমণ বেড়েছে। এর মধ্য দিয়ে লকডাউন শিথিলের ফলে করোনার সংক্রমণ বাড়বে, পূর্বে ঘোষিত তার এমন আশঙ্কা সত্যে পরিণত হয়েছে বলে জানান তিনি।

উদ্ভূত পরিস্থিতি প্রসঙ্গে হান্স বলেন, করোনার এই সংক্রমণ বৃদ্ধি যদি নিয়ন্ত্রণ করা না হয়, তাহলে এটি স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ‘খাদের কিনারে’ নিয়ে যাবে।

বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরতে হান্স বলেন, সম্প্রতি প্রতিদিনই প্রায় ২০ হাজার করে নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে এবং প্রায় ৭শ’ করে মানুষ মারা যাচ্ছে। গত ২ সপ্তাহে ইউরোপের বেশিরভাগ দেশেই করোনা সংক্রমণের মাত্রা বেড়েছে।

তবে বর্তমানে পুনরুত্থান ঘটলেও গ্রীষ্মে বেশিরভাগ দেশেই করোনা পরিস্থিতি স্তিমিত হবে বলে আশা করছে হু। কিন্তু, আসন্ন শীতে মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া ও অন্যান্য ফ্লুর সঙ্গে সঙ্গে এটি পুনরায় বাড়তে পারে। এ ব্যাপারে প্রস্তুতি রাখার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। যেহেতু এখনও পর্যন্ত করোনার কার্যকর কোনো ভ্যাকসিন উদ্ভাবিত হয়নি।

খবরে বলা হয়, এখন পর্যন্ত ইউরোপে ২৬ লাখেরও বেশি মানুষের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সরকারি হিসবে মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজারেরও বেশি।

**************************
read more news
*************************
ঈদে মানুষের চলাচল রুখতে না পারলে সংক্রমণ বাড়বে
দেশে করোনা সংক্রমণ পিকের (সর্বোচ্চ সংক্রমণ) কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে। কোরবানি ঈদের সময় যদি মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা না যায় তবে সংক্রমণ আরও বাড়বে।সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ (আইইডিসিআর) স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে গত ২৩ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

শুক্রবার (২৬ জুন) ‘বাংলাদেশে করোনা: ছয় মাসের পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক এক অনলাইন আলোচনায় এ তথ্য জানানো হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে কোভিড-১৯ আক্রান্ত একজন রোগী ১ দশমিক ৫ জনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। একজন করোনা ভাইরাস সংক্রমিত রোগী মহামারির মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সময়ে গড়ে কত জনের মধ্যে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ঘটাচ্ছেন, সেই ধারণা পাওয়া যায় যে সংখ্যার মাধ্যমে, সেটিকে ইংরেজি অক্ষর ‘আর’ এর মাধ্যমে প্রকাশ করা হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ধারণা অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে ‘আর’ এর গড় মান ২ থেকে ২ দশমিক ৫, অর্থাৎ প্রত্যেক কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তি গড়ে দুইজনের বেশি মানুষের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণ ঘটাচ্ছেন। তবে বিভিন্ন দেশ এবং ভৌগলিক অঞ্চলভেদে এ ‘আর’-এর মান পরিবর্তিত হয়ে থাকে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, করোনা মোকাবিলায় সরকারের শুধু স্বাস্থ্য বিভাগ নয়, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ কাজ করছে। করোনার মতো এ দুর্যোগ মোকাবিলায় শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো বিশ্বই প্রস্তুত ছিলো না। প্রতিদিনই নতুন নতুন বিষয় সামনে আসছে। এক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস নির্মূলে চীন আবিষ্কৃত সম্ভাব্য ভ্যাকসিনের ট্রায়াল বাংলাদেশে হতে পারে। এ ট্রায়েলের সূত্র ধরে বাংলাদেশেও এর উৎপাদন শুরু হতে পারে। এটা বাংলাদেশের মানুষের জন্য করোনা মোকাবিলায় আরেক ধাপ সাফল্য বয়ে আনবে।

বক্তারা বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং এর অধিনস্থ অধিদপ্তরগুলোতে নেতৃত্ব ও সমন্বয়ের ঘাটতির কথা উল্লেখ করেন। সেইসঙ্গে মহামারি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সরকারের পরিকল্পনার ঘাটতি, দক্ষ জনবল ও অবকাঠামোর অভাব, দেশি বিশেষজ্ঞদের ঠিকভাবে কাজে লাগাতে না পারাসহ বিভিন্ন দুর্বলতার কথা তুলে ধরেন। সেইসঙ্গে এখনও জনগণের সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অভ্যাসও কম বলে উল্লেখ করেন তারা।

বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত এ আলোচনায় অংশ নেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এম এ ফয়েজ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ও জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান, আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মোসতাক হোসেন প্রমুখ।

About Saimur Rahman

Leave a Reply