Breaking News
Home / খেলা / ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগ পারিশ্রমিক নিয়ে শঙ্কায় ব্রাদার্সের ক্রিকেটাররা

ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগ পারিশ্রমিক নিয়ে শঙ্কায় ব্রাদার্সের ক্রিকেটাররা

মার্চে মাঠে গড়িয়েছিল ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগের ২০১৯-২০২০ মৌসুম। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে এক রাউন্ডের খেলা শেষে স্থগিত হয়ে যায়। এরপর কেটে গেছে প্রায় তিন মাস। লীগ ফের শুরু করার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। কবে হবে নাকি শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়ে যাবে সেই চিন্তায় রয়েছেন ক্রিকেটাররা। বিশেষ করে যে ক্রিকেটারদের জীবন-জীবিকা নির্ভর করে এই লীগের ওপর তাদের এখন মাথায় হাত। যদিও ১২টির মধ্যে বেশির ভাগ ক্লাবই ক্রিকেটারদের ২০ থেকে ৫০ ভাগ টাকা পরিশোধ করেছে। তবে ব্যতিক্রম ব্রাদার্স ইউনিয়ন।

ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি শুধুমাত্র একজন ক্রিকেটারকে চুক্তির টাকা দিয়েছে। বাকি সব ক্রিকেটারকে মার্চে দেয়া হয়েছিল চেক। কিন্তু সেটিও শেষ পর্যন্ত ব্যাংকে জমা না দিতে অনুরোধ করে থামিয়ে দেয়া হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্রিকেটাররা দাবি তুলেছেন ৫০ শতাংশ পারিশ্রমিকের জন্য। ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) এর বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে ব্রাদার্সের ক্রিকেটাররা রয়েছেন সবচেয়ে বিপদে। এ বিষয়ে দলটির চুক্তিবদ্ধ অভিজ্ঞ ক্রিকেটার তুষার ইমরান বলেন, ‘ব্রাদার্স মাত্র একজন ক্রিকেটারকে কিছু টাকা দিয়েছিল। আর আমাদের মার্চে চেক দেয়া হয়েছিল পরে তারা সেটি অনুরোধ করে ব্যাংকে জমা দিতে দেয়নি। যেখানে আমরা একটিও টাকা পাইনি তা ৫০ শতাংশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা তো আছেই।’
ব্রাদার্স ইউনিয়নের ক্রিকেট কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর ক্রিকেট কমিটির (সিসিডিএম) সন্বয়ক আমিন খানের কণ্ঠেও ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক নিয়ে দ্বিধা। তিনি বলেন, ‘আমরা ক্রিকেটারদের চেক দিয়েছিলাম। কিন্তু তাদের পাওনা টাকা এখনো দিতে পারিনি। কারণ, করোনা মহামারিতে আমাদের স্পন্সররা টাকা দিতে পারছে না। চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠান ‘বড় তাকিয়া’ আমাদের মূল স্পন্সর। করোনা ভাইরাসের কারণে তাদের বৈদেশিক সব ব্যবসা বন্ধ রয়েছে। যে কারণে তারা এখন পর্যন্ত ক্রিকেটারদের কোনো পারিশ্রমিক দিতে পারেনি। তাদের সঙ্গে যোগযোগ করা হয়েছে। স্পন্সর প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের সকল ব্যবসা বন্ধ। তাই তাদের জন্য পারিশ্রমিক দেয়া কঠিন। তবে এটি সত্যি যে পরিস্থিতির উন্নতি হলে অবশ্যই দেয়া হবে। যদি খেলা হতো এতদিনে আমরা সব টাকাই দিয়ে দিতাম।’
ব্রাদার্স থেকে ৭ লাখ টাকা পাওয়া সৌভাগ্যবান ক্রিকেটার হলেন জাতীয় তারকা জুনায়েদ সিদ্দিকী। দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন এ টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান। লীগ খেলেই চলে তার জীবিকা। বোনের বিয়ের জন্য ব্রাদার্সের কাছে অনুরোধ করেই তিনি এই টাকা আদায় করেছিলেন। অন্যদিকে পাওনা পরিশোধ করতে ব্যর্থ ক্লাবটি করোনা ভাইরাসকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ তুষার ইমরানের। ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বাধিক রানের মালিক তুষার বলেন, ‘মার্চে আমাদের দেশে করোনার সংক্রমণ ছিল না। এক রাউন্ড আমরা খেলি। নিয়ম অনুসারে খেলা শুরুর আগেই একটা ভাগ পাওনা পরিশোধ করার কথা। বেশির ভাগ ক্লাবই ২০ থেকে ৩০ ভাগ টাকা লীগ শুরুর আগেই পরিশোধ করেছে। কেউই কিন্তু করোনাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করেনি। শুধু ব্রাদার্সই করোনার অজুহাত দিচ্ছে। সব চেয়ে বড় কথা হলো ব্রাদার্স পারিশ্রমিক নিয়ে ৩/৪ বছর ধরেই এমন টালবাহানা করে আসছে।’
আপতত ব্রাদার্সের ক্রিকেটাররা তাকিয়ে আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও সিসিডিএমের দিকে। এ বিষয়ে তুষার বলেন, ‘আমাদের কোয়াবের আলোচনা সভায় অনলাইনে বিসিবির সিইও নিজামুদ্দিন চৌধুরী ও সিসিডিএমের চেয়ারম্যান কাজী ইনাম উপস্থিত ছিলেন। তারা কথা দিয়েছেন ক্লাবগুলোর সঙ্গে তারা আলোচনা করে ঈদের আগে পারিশ্রমের ৫০ ভাগ পাওনা দেয়ার। আমরা এখন সত্যি বলতে বিসিবির দিকেই তাকিয়ে আছি। তারা চাইলে অবশ্যই ক্লাবগুলো টাকা দিবে। আর যদি না দেয় পরবর্তী করণীয় আমরা ফের আলোচনা করে ঠিক করবো।’
জানা গেছে ঢাকা লীগের বেশ কয়েকটি বড় ক্লাব এরই মধ্যে ৩০ থেকে ৫০ ভাগ টাকা পরিশোধ করেছে। এ নিয়ে আবাহনীর ম্যানেজার শেখ মামুনের দাবি তারা বেশির ভাগ ক্রিকেটারকে ৪০ শতাংশ ও কাউকে কাউকে ৫০ শতাংশ পাওনা পরিশোধ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ৪০, ৫০ ভাগ পাওনা পরিশোধ করেছি। এখন বিসিবি যদি চায় প্রয়োজন হলে যাদের ঈদের আগে টাকা প্রয়োজন দেব।’

About Saimur Rahman

Leave a Reply