Breaking News
Home / এক্সক্লুসিভ / তরুণ নারী উদ্যোক্তা তানিয়ার গল্প

তরুণ নারী উদ্যোক্তা তানিয়ার গল্প

নিউজডেস্ক, সম্পাদনায়ঃ আরজে সাইমুর রহমান ঃ
পুরুষতান্ত্রিক সমাজে শ্রেষ্ঠ সম্পদের নাম মা। সেই ‘মা’ নারী সমাজের পথিকৃৎ। সফলতার মলাটে বাঁধানো এক রঙিন ডায়েরি। মাটির ঘর থেকে মহাকাশে ছুটে চলা বিমান আজ তাদের দখলে। সভ্যতার প্রতিটি পাতায় আজ তাদের হাতের চিহ্ন। নারীরাই আজ সফল ও সফলতার পথে। তেমনি অনেক নারী উদ্যোক্তারা এগিয়ে যাচ্ছেন।

বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে অনেক নারীরই এখন ক্যারিয়ার সচেতন। আগের চেয়ে বেড়েছে ব্যবসায় বা চাকরিতে অংশগ্রহণ। এ ছাড়া শখের উদ্যোগও ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে শিল্পময় সাফল্যে। তেমনই একজন

আজ জানব ঢাকার ধানমন্ডির মেয়ে “তানিয়া হুমায়ারা” এর সফলতার কথা। যিনি একজন সফল উদ্যোক্তা, সফল ব্যবসায়ী।  জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স শেষ করেন। তিনি ২০১৯ সাল থেকে পড়াশোনার পাশাপাশি চালিয়ে যান জীবন সংগ্রামের একটি অংশ অনলাইন ব্যবসা।তবে থেমে থাকেননি তিনি। দুর্গম পথ এবং ব্যার্থতার গ্লানি উপেক্ষা করে আজ সাফল্যর দ্বারপ্রান্তে ”তানিয়া হুমায়ারা”। হাটি হাটি পা পা করে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সাথে নিয়ে তিনি হয়ে উঠেন ধানমন্ডির সফল নারী উদ্যোক্তা।

স্বদেশ কন্ঠ প্রতিবেদকের সাথে  আলাপনে তিনি জানান- আমি নিজেকে সফল একজন উদ্যোক্তা হিসেবে দেখতে চাই এটা আমার স্বপ্ন এবং সে লক্ষেই সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছি। আমি এখনো উদ্যোক্তা বলে দাবি করতে পারি না। তবে নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে দেখতে পছন্দ করি। ভাল কিছু করার প্রত্যয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। নিজের সম্পর্কে আসলে বলার মত তেমন কিছু নেই। খুবই সিম্পল, নিজের অনলাইন বিজনেস দেখাশুনা করছি, পাশাপাশি অনার্স শেষ করেছি হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ঢাকার ধানমণ্ডি তে আমার জন্ম।  আমার ছেলে বেলা বা আমার বেড়ে ওঠার প্রায় সবটুকু সময়-ই-কেটেছে ধানমণ্ডিতে ।

জীবনে কিছু একটা করতে হবে এটাই ছিল আমার মুল টার্গেট। আমিও এর ভিন্নধর্মী নই। ছোটবেলা থেকেই অনেক কষ্ট করে বড় হয়েছি।নিজের পড়াশোনার খরচ নিজে টিউশন করে চালিয়েছি। আমার নিজের ইচ্ছাই ছিল জীবনে নিজে কিছু একটা করবো, নিজের পায়ের মাটি শক্ত করতে হবে।আমি বিশ্বাস করতাম যে মেয়েরা আজ আর পিছিয়ে নেই।তখন থেকেই আমার নিজে কিছু করার চিন্তা আসলো মাথায়। আর তখন ই আমার হাজব্যান্ড আমাকে অনুপ্রেরনা যুগিয়েছি,এবং আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে এবং আমাকে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন সফল করতে সাহায্য করেছে।  তাছাড়া পরের অধীনে কাজ করার মাঝে কোন স্বার্থকতা নেই বলে আমি মনে করি। তারপর থেকেই ই কমার্স সাইটটিকেই বেছে নিলাম নিজের সফলতার চাবিকাঠি হিসেবে।আর তখন থেকেই পথচলা শুরু একজন সফল উদ্যোক্তার।

তার এই পথ চলায় সফলতা নিয়ে জানতে চাইলে তানিয়া আরো জানান-আলহামদুলিল্লাহ, আমি মনে করি আমার ২ বছরে অনলাইন বিজনেস এ যথেষ্ট সাড়া পেয়েছি। বিজনেসএ লাভ-ক্ষতি থাকবেই, সত্যি কথা বলতে অর্থনীতির দিক দিয়ে আমি তেমন লাভবান হই নি। আবার খারাপ ও হই নি আলহামদুলিল্লাহ।তবে আমি একজন উদ্যোক্তা হিসেবে সফল কারন আমি আমার শখ এবং স্বপ্ন দুটই পূরণ করতে পেড়েছি। আর আমি তখনি নিজেকে সব থেকে সফল মনে করি। আমার কাছ থেকে গ্রাহকরা পোশাক নিয়ে খুব ভাল রিভিউ দেয় এবং পুনরায় রিপিট গ্রাহক হন।তখন নিজেকে খুব গর্বিত মনে হয় যে আমি গ্রাহকদেরকে ভাল পণ্য দিতে পেরে আনন্দিত হই। এটাই একজন উদ্যোক্তার সফলতা।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তানিয়া জানান-আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো সৃষ্টিকর্তার  সহায়তায় এবং আপনাদের দোয়ায় এই অনলাইন বিজনেস টা বাংলাদেশের প্রতিটা মানুষের কাছে বিশ্বাস অর্জন করা। Tania Fashion Gallery একদিন সবার কাছে একটা বিশ্বাস এর জায়গা হবে এটাই চাওয়া। মার্কেটপ্লাটফ্রম ও হবে ইনশাআল্লাহ।

আমি মূলত ইন্ডিয়ান ,পাকিস্তানি ও দেশীয় থ্রিপিস ,শাড়ি নিয়ে কাজ করছি এবং পাশাপাশি কসমেটিকস , চায়না থেকে লেডিস ব্যাগ, এবং বিভিন্ন চায়না প্রডাক্ট নিয়ে কাজ করছি যেগুলো আমার কাজিন সরাসরি নিজে USA & Chaina থেকে নিয়ে আসে, সামনে আরো ইউনিক প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা আছে।

পরিশেষে তানিয়া জানান- একটা কথাই বলতে চাই ইচ্ছা থাকলে  উপায় হয়, আমাদের প্রতিটা মেয়েদের উচিত নিজের পায়ে দাঁড়ানো এবং নিজের একটা আলাদা পরিচয় গড়ে তোলা ,আমরা মেয়েরা চাইলেই পারি সব বাধা অতিক্রম করতে ,প্রবাদ আছে :যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে। যদি আমাদের ইচ্ছে শক্তি ও পরিবারের সাপোর্ট থাকে তাহলে সবকিছুই সম্ভব ,আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন যেন আমি সেই দুস্থ/এতিম শিশুদের পাশে দাড়াতে পারি ও একটি একটি করে সকল শখগুলো পূরণ  করতে পারি এবং মহান আল্লাহর কাছে এই দোয়া চাই যেন মহান আল্লাহতায়ালা আমার সবগুলো ইচ্ছাকে যেন পূরণ করেন,আমিন।

About Saimur Rahman

Leave a Reply