Breaking News
Home / এক্সক্লুসিভ / রাজধানীতেই নিজের বউকে দিয়ে পতিতাবৃত্তি!

রাজধানীতেই নিজের বউকে দিয়ে পতিতাবৃত্তি!

স্বামী রিপনের সঙ্গী বন্ধুটি বারবার রুমানার দিকে তাকাচ্ছিলেন। চায়ের কাপটা হাতে নিতে নিতে বাম হাত দিয়ে রুমানার হাত ধরে টেনে পাশে বসানোর চেষ্টা করেন। রিপনের সামনেই তার স্ত্রীকে এভাবে টেনে পাশে বসানোর চেষ্টা করলেও রিপনের কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। বরং রুমানাকে হতভম্ব করে দিয়ে রিপন বলেন, ‘রুমানা, তুমি ভাইকে একটু সময় দাও। আমি একটু বাইরে থেকে আসি।’
জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকান রুমানা। এতে চটে যান রিপন। তার চড়া কণ্ঠ। ‘বলছি তো, ভাইকে একটু সময় দাও।

খুশি করে দাও। আমার একটু কাজ আছে, ঘণ্টাখানেক পরে আসতেছি।’ বলেই বের হয়ে যান রিপন। হাঁটতে হাঁটতে রিপন শুনছিলেন, স্ত্রী রুমানার যন্ত্রণার আর্তনাদ। ঘণ্টা খানেক পরে বাসায় ফিরে সঙ্গী লোকটির কাছে জানতে চান, ‘ভাই, কোনো সমস্যা হয়নি তো?’ মধ্য বয়সী ওই ব্যক্তি জানান, ভালো লেগেছে তার। সেই থেকে রুমানার যাত্রা শুরু ভিন্নপথে। যেখানে স্বামী রিপন নিজেই দালাল। বাসাবোর বাসায় প্রায় রাতেই এরকম ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে বাসায় ফিরেন রিপন। এই নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে একদিন রুমানা পালিয়ে যান। ডিভোর্স লেটার পাঠান রিপনকে। রিপনের অন্য সহযোগীদের মধ্যে রয়েছে বেলাল, হাসান। সম্প্রতি চট্টগ্রামে এই চক্রের হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রটি অসহায় মেয়েদের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকায় নিয়ে আসতো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রেমের অভিনয় করে মেয়েদের ফাঁদে ফেলতো। তারপর অল্পদিনে বিপুল টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে নামাতো অন্ধকার রাস্তায়। বাধ্য করতো পতিতাবৃত্তিতে। কখনও কখনও বিয়েও করতো। তবে বিয়েতেই সীমাবদ্ধ। সংসার হতো না। গ্রেপ্তারের পর চক্রের সদস্য জানিয়েছে, মূলত বাসা ভাড়ার সুবিধাতে বিয়ে করতো বা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিতো। ঢাকা থেকে এসব মেয়েকে পাঠানো হতো চট্টগ্রামেও। চক্রের একটি আস্তানা চট্টগ্রামের ডবলমুরিং এলাকায়।

নিখোঁজ এক তরুণীকে উদ্ধারে গিয়ে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ডবলমুরিং থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন জানান, বেলাল (২৫) প্রেম করে ভাগিয়ে আনে এক তরুণীকে। পরে সেই তরুণীকে বিক্রি করে দেয় চক্রের আরেকজনের কাছে। তারা আগ্রাবাদে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে তাকে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করে। একই কায়দায় তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নারীদের এনে এখানে জিম্মি করে। একই ফ্ল্যাট থেকে আরও এক তরুণীকে উদ্ধার করা হয়। তাকে চাকরি দেওয়ার নামে এখানে আনে তারা। পুলিশ দুইজনকেই উদ্ধার করেছে। ঘটনাস্থল থেকে হাসান নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

About Saimur Rahman

Leave a Reply