Breaking News
Home / এক্সক্লুসিভ / ভালোবেসে পেশা হিসেবে নিতে হবে মেকাপকে : ইতি এঞ্জেল

ভালোবেসে পেশা হিসেবে নিতে হবে মেকাপকে : ইতি এঞ্জেল

ভালোবেসে পেশা হিসেবে নিতে হবে মেকাপকে : ইতি এঞ্জেল।

মেকাপ এক্সপার্টদের ভিডিও দেখে দেখেই মেকাপে হাতে খড়ি আমাদের! তাদের দেখানো পথ অনুসরণ করেই মেকাপে পটু হয়ে ওঠা।
কিন্তু এই মেকাপ এক্সপার্ট বা আর্টিস্টদের সম্পর্কে কতটুকুই জানি আমরা ! কৌতূহল থেকেই যায়।

এই কৌতূহল কমাতে মেকাপপ্রেমী পাঠকদের জন্য একটা স্পেশাল ইন্টারভিউ হলে কেমন হয় বলো তো? নিশ্চয়ই ভালো!

আজ পাঠকদের জন্য হাজির করা হল ঐতিহ্যবাহী পুরান ঢাকা মেয়ে ইন্টার্নেশনাল সার্টিফাইড, অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত মেকআপ আর্টিস্ট ও তরুণ নারী উদ্যোক্তা নাসিমা আক্তার ইতি কে।

নতুন নতুন পদ্ধতি শেখা, নিজে সবসময় ইন্সপায়ার্ড থাকা এবং অন্যদেরকে ইন্সপায়ার্ড করাটাই তার জন্য সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ।
মেকাপপ্রেমী পাঠকদের তিনি জানিয়েছেন নিজের ভালোলাগা ও স্বপ্ন সম্পর্কে। সেই সঙ্গে দিয়েছেন দারুণ কিছু মেকাপ টিপস।

চলুন তাহলে জেনে নেই দেশের সার্টিফাইড মেকআপ আর্টিস্ট ও তরুণ নারী উদ্যোক্তা ইতি’র সম্পর্কে-

ইতি দেশি সার্টিফাইড ও অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত সুদক্ষা মেকাপ আর্টিস্ট।

তার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা বাংলাদেশেই। মেকাপ ইতির প্যাশন। ইউটিউব এবং সোশ্যাল মিডিয়া যুগের পূর্ব থেকেই তিনি ফ্যাশন ম্যাগাজিন এবং বই পড়ে মেকাপ সম্পর্কে জানতেন।
মেকাপের হাতেখড়ির সময় সিমেট্রিক্যাল আইলাইনার, স্মুথবেজ এবং পারফেক্ট স্মোকি আই মেকাপের জন্য  তিনি ঘন্টার পর ঘন্টা নিজের রুমে প্র্যাকটিস করতেন।

মেকাপপ্রেমী ইতি’র মেকাপের সাথে তার সম্পর্কটাকে আরো পোক্ত করতে চেয়েছিলেন। আর তাই তিনি মেকাপের জন্য দেশী-বিদেশী মেকআপ আর্টিস্টদের কাছে মেকআপ শিখেন আর বাকিটুকু তো আগেই জানা।

এখন তাহলে প্রশ্ন উত্তর পর্বে যাওয়া যাক –

– নিজেকে মেকাপ আর্টিস্ট হিসেবে গড়ার শুরুটা কবে এবং কীভাবে হয়েছিলো?

* অফিসিয়ালি মেকাপ আর্টিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম ২০১৯ এর শুরুর দিকে। তার আগে আমি শুধুমাত্র একজন বিউটি ব্লগার ছিলাম। আমার ব্লগিং জার্নি শুরু করেছিলাম ২০১২ সালে।

মেকাপের ব্যাপারে আমার ফলোয়ারদের বেশ কিছু ভালো ফিডব্যাক পেয়ে মেকাপের প্রতি আমার ভালোবাসা আরো বেড়ে গিয়েছিলো।
টপ মেকাপ এডুকেটর এবং সেলিব্রেটি মেকাপ আর্টিস্টদের সাথে কাজ করার এবং কাজ শেখার সৌভাগ্য হয়েছিলো আমার। মেকাপের খুঁটিনাটি নানান বিষয়ে অনেককিছু জানা হয়েছিলো সেখানে।

সেই সাথে ক্লাস এবং ওয়ার্কশপের মাধ্যমে ট্রেনিং এবং সার্টিফিকেশন এর ব্যবস্থা ছিলো সেখানে। এই অভিজ্ঞতা মেকাপ আর্টিস্ট হিসেবে আমার দক্ষতা বাড়িয়েছে। আমি পরবর্তিতে স্পেশাল এফেক্টসের উপর ক্লাস করেছি।

-মেকাপে ইন্সপারেশন কোথায় পান?

* আমার পরিবার, বিশেষ করে আমার মা এবং আমার হাজবেন্ড। অন্য মেয়েদের মতই মেকাপ আমার কাছে শুধুই শখের বিষয় ছিলো।
কখনোই মেকাপে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখিনি। আমার  হাজবেন্ড প্রথম আমাকে ইন্সপায়ার করেছিলো বিউটি ব্লগ শুরু করার ব্যাপারে।
স্পেশাল ইফেক্টস মেকাপ শেখার প্রয়োজনটাও আমার হাজবেন্ড আমাকে প্রথম বুঝিয়েছিল। আমার পরিবারের পাশাপাশি বেশ কিছু মেকাপ আর্টিস্টের মেকাপ থেকেও আমি ইন্সপায়ার্ড।
এছাড়াও আমার ফলোয়াররা প্রতিনিয়ত আমাকে মেকাপ নিয়ে কাজ করার জন্য অনুপ্রেরণা যুগিয়ে যাচ্ছেন।

-মেকাপ আর্টিস্ট না হলে কী হতেন?

আমি সংসারিক জীবন বেছে নিতে চেয়েছিলাম। এছাড়া  আমি ক্রিয়েটিভিটি পছন্দ করি।
রঙ নিয়ে খেলতে, নতুন কিছু তৈরি করতে পছন্দ করি। নতুন নতুন স্বাদ পেতে এবং ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসি তাই মেকাপ নিয়ে কাজ না করলে আমি হয়তো এমন কোনো কাজ উপভোগ করতাম যেখানে অনেক ঘুরে বেড়ানো যায়।

-তিনটি জিনিসের নাম বলুন যেগুলো নিজের মেকাপ ব্যাগে থাকা চাই-ই-চাই

* চারটি মেকাপ প্রোডাক্ট আমার ব্যাগে থাকা চাই-ই চাই।
আর সেগুলো হলো – কনসিলার, ফেস পাউডার মাস্কারা এবং চিক স্টেইন। এই চারটি জিনিষ সাথে না নিয়ে আমি কখনই বের হই না।

-মেকাপের কমন মিস্টেকগুলো কী?

* ইদানিং বাংলাদেশে মেকাপের কিছু কমন মিস্টেক লক্ষ্য করা যায়। তার মধ্যে অন্যতম হলো ভুল রঙের ফাউন্ডেশন নির্বাচন, প্রয়োজনের চাইতে বেশি মেকাপ ব্যবহার, মেকাপ ঠিকমতো না ব্লেন্ড করা এবং খুব গাঢ় করে আই-ব্রো আঁকা।

-ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কোনটা ছিলো?

আমি ওয়েডীং এর জন্য মেকাপ করি। আর তাই আমাকে তাদের পছন্দমতো কিংবা থিম অনুযায়ী মেকাপ করতে হয়। 
আর ছোট্ট একটুখানি ভুলও এইচডি ক্যামেরায় বেশ ভালোভাবেই ধরা পড়ে। তাই এই ব্যাপারগুলোকে ঠিক করা এবং চিত্রপট অনুযায়ী গ্রাহকদের নিখুত মেকাপ দিয়ে চরিত্র ফুটিয়ে তোলাই আমার ক্যারিয়ারের সবচাইতে চ্যালেঞ্জিং পার্ট।

-যারা মেকাপ আর্টিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চাইছে তাদের ব্যাপারে কি পরামর্শ দিবেন?

* নিজেই নিজের মেকাপ করা আর অন্যের মেকাপ করিয়ে দেয়া দুটো এক নয়। অন্যকে মেকাপ করিয়ে দেয়া বেশ কঠিন। আর তার কারণ হলো মানুষের চেহারার বৈশিষ্ট্যের তারতম্য।
অন্যকে মেকাপ করিয়ে দেয়ার আগে হাইজিন,ফেসিয়াল ফিচারস এবং স্কিন ইস্যু, কোন ত্বকের জন্য কোন ধরণের মেকাপ প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে হবে এবং কী কী সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে সেটা জেনে রাখা প্রয়োজন।
আর অবশ্যই মেকাপটাকে পেশা হিসেবে নিতে হবে ভালোবেসে, অন্য কিছুর জন্য নয়।

– আপনার কাছে মেকাপ করতে চাইলে কীভাবে যোগাযোগ করতে হবে?

* ফেসবুক পেজ টিকটক এবং ইন্সটাগ্রামের মাধ্যমে আমি  মেকাপের বুকিং নিই। এছাড়া আমার একটি পার্লার ” ইতি এঞ্জেলস মেকওভার ” সেখানে যোগাযোগ করতে পারেন।

আর ব্লগার হিসেবে প্রায়ই আমার ইউটিউব চ্যানেলে, টিকটক ফেসবুক পেজে মেকাপ টিউটোরিয়াল পোস্ট করি।

About Saimur Rahman

Leave a Reply