Breaking News
Home / বিনোদন / সিনেমা পরিচালনায় আসছেন চিত্রনায়িকা অঞ্জনা

সিনেমা পরিচালনায় আসছেন চিত্রনায়িকা অঞ্জনা

নিউজ ডেস্ক, সম্পাদনায়- আরজে সাইমুরঃ
বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালী সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা অঞ্জনা রহমান। দীর্ঘদিন থেকেই পর্দার আড়ালে তিনি। সিনেমায় কাজ না করলেও তাকে নিয়মিত পাওয়া যায় চলচ্চিত্রের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। বর্তমানে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অঞ্জনা।

নতুন খবর হচ্ছে- এই নায়িকা এবার চলচ্চিত্রে সরব হচ্ছেন ভিন্ন পরিচয়ে। সিনেমা প্রযোজনার পর এবার নাম লেখাতে যাচ্ছেন পরিচালনায়। বর্তমানে চলছে গল্প লেখার কাজ। শিগগিরই সবকিছু চূড়ান্ত করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন বলে জানান অভিনেত্রী।

এ প্রসঙ্গে অঞ্জনা বলেন, সবাই আমাকে অনুরোধ করছে চলচ্চিত্র পরিচালনায় আসার জন্য। সবকিছু বিবেচনা করে আমিও ভাবছি আমার অঞ্জনা ফিল্মস থেকে সিনেমা পরিচালনা করার কথা। বর্তমানে গল্প রেডি হচ্ছে। গল্প রেডি হলেই অনুদানের জন্য জমা দেব। অনেকেই অনুদান পেয়েছে। আমারও পাওয়া উচিত। আশাবাদী আমিও পাবে। সামাজিক-পারিবারিক গল্পে প্রথম পরিচালনার সিনেমাটি নির্মিত হবে। এখনই কিছু চূড়ান্ত নয়। সবকিছু রেডি হলে সিনেমার নাম ও শিল্পী নির্বাচন করা হবে।

যোগ করে তিনি বলেন, যেহেতু আমি প্রথমবার পরিচালনায় আসতে চলেছি তাই পরিচালনায় গাইড হিসেবে আমারই একজন অভিভাবক থাকবেন। অনুদান না পেলে নিজ অর্থায়নে সিনেমাটি নির্মাণ করব। এবারই প্রথম নয়, আমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে এর আগেও সিনেমা প্রযোজনা করেছি।

চলচ্চিত্রে কাজ না করলেও এ অঙ্গনের মানুষের পাশে বরাবরই অঞ্জনাকে পাওয়া যায়। নেতৃত্বে আছেন শিল্পী সমিতির। তবে সমিতির ২০২২-২০২৪ নির্বাচন ঘিরে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। এবারের নির্বাচন অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এখনও ‘সাধারণ সম্পাদক পদ’ নিয়ে সুরাহা হয়নি। এ নিয়ে কী বলবেন? এবার আমাদের নির্বাচন সুস্থভাবেই হয়েছে। তার পর হঠাৎ করে কি যে হয়ে গেল বুঝলাম না। টানা তিনবার আমি নির্বাচিত হয়েছি। কখনো এমন চিত্র দেখিনি।

অঞ্জনা বলেন, এর আগেও উৎসবমুখুর পরিবেশে সবাই ভোট দিয়েছেন। নির্বাচন ঘিরে ভোটের দিন এফডিসিতে তারকাদের সমাগমে মেতে থাকত পুরো এফডিসি। এবার কেন জানি সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেল। এখনও দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে। সেই সঙ্গে চলছে আইনি লড়াই। এখন আইন যে সিদ্ধান্ত নেবে আমরা সেটাই মেনে নেব।

যে পদটি নিয়ে দ্ধন্ধ চলছে, সেই প্রভাব কী শিল্পীদের মনের ভেতর পড়ছে বলে করেন? অবশ্যই পড়ছে। আগে সবাই যেভাবে উৎস নিয়ে ভোট দিতে আসতে কিংবা সমিতিতে আসত সেই রেশটা আর নেই। এসব ঘটনায় অনেকেই বিরক্ত। তবে আমি কোনো বিভাজন চাই না। আশা করি, শিগগিরই এর সমাধান দেখব। এখন চলচ্চিত্রের উন্নয়ন দরকার। সবার এক হয়ে কাজ করে চলচ্চিত্র এগিয়ে নিতে হবে।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অপ্রাপ্তি বলতে কিছু আছে? না আমার অপ্রাপ্তি বলতে কিছু নেই। যা কিছু অর্জন করেছি তার পুরোটাই প্রাপ্তি। আমার প্রডাকশন থেকে সুন্দর একটি সিনেমা উপহার দেওয়ার আশা ব্যক্ত করেছি। জানি না কতটুকু পারব। তবে আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করব। প্রথম পরিচালিত সিনেমাটিতে কাজ করবেন এ সময়েরই দর্শকপ্রিয় নায়ক-নায়িকারা।

নিয়মিত প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা দেখেন উল্লেখ করে অভিনেত্রী বলেন, বর্তমানে অনেকেই সিনেমা নির্মাণ করছেন। তবে তাদের অনুরোধ করে বলতে চাই- টাকা খরচ করে কেউ টেলিফিল্ম বানাবেন না। এখনকার দর্শক অনেক আধুনিক ও সচেতন। নাটক-সিনেমার পার্থক্য তারা বুঝেন। বড় পর্দা মানে বড় পর্দাই। যারা বড় পর্দার নির্মাতা তারা সবসময় বড় পর্দা চিন্তা করেই সিনেমা নির্মাণ করেন।

আক্ষেপ করে অঞ্জনা বলেন, এখন আর আগের মতো প্রেক্ষাগৃহ নেই। যারা প্রেক্ষাগৃহ ভেঙে শপিং মল করছেন তাদের আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন সেখানে একটি সিনেপ্লেক্স রাখার। অনেকদিন ধরেই লক্ষ করছি যে, এখনকার সিনেমা মুক্তির সময় সেভাবে আর প্রচারণা করা হয় না। অথচ আমাদের সময় বিপুল পরিমাণে প্রচারণা হতো। অ্যাডভান্স প্রেক্ষাগৃহ বুকিং হতো। প্রেক্ষাগৃহ হাউজফুল এখন শুধুই অতীত।

অঞ্জনা রহমান একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কিংবদন্তি অভিনেত্রী। বাংলা চলচ্চিত্রে অঞ্জনাই বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের ৯টি দেশের ১৩টি ভাষায় অভিনয় করেছেন। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, থাইল্যান্ড, নেপাল, শ্রীলংকা ও হংকংয়ের অসংখ্য ব্যবসা সফল সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।

এক সময়ের জনপ্রিয় এই নায়িকা তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। শধু তাই নয়, অভিনয়ের পাশাপাশি নাচেও আলাদা করে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন অঞ্জনা। বাংলা চলচ্চিত্রে কিংবদন্তি নায়িকা হিসেবেও পরিগণিত হন তিনি

About Saimur Rahman

Leave a Reply