Breaking News
Home / পড়ালেখা / পিতাহারা দুই বোনের ফের জিপিএ-৫ অর্জন। বিস্তারিত পড়ুন ও শেয়ার করুন

পিতাহারা দুই বোনের ফের জিপিএ-৫ অর্জন। বিস্তারিত পড়ুন ও শেয়ার করুন

কবিতা ও মোহনা দুই বোন। সদ্য প্রকাশিত এসএসসির ফলাফলে মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার উৎরাইল এমএল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তারা জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। পিতার মৃত্যুর পর থেকে মায়ের ক্লান্তিহীন শ্রম ও নিজেদের চেষ্টায় তাদের এ সাফল্য।

যদিও এ সাফল্য ম্লান হতে বসেছে তাদের সংসারের আর্থিক দৈন্যতার কারণে। মামার বাড়ি থেকে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া দুইবোনের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা জেগেছে মায়ের মনে। আর্থিক অনটনের সংসারে মেয়ে দুটিকে বিয়ে দিয়ে দেওয়া ছাড়া কোনো গন্তব্য জানা নেই তার কাছে।

৯ বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসে বাবা আবদুল কাদের মাতুব্বরের মৃত্যু হয়। ৩ মেয়েকে নিয়ে হিমশিম খাওয়া কল্পনা বেগম বাধ্য হয়ে তখন ক্লাস ওয়ানে পড়া অবস্থাতেই কবিতা ও মোহনাকে মামা বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। তারা ভালো পোশাক নয়, শুধু বই আর খাতা কলম চাইত মায়ের কাছে। বর্তমানে তাও দিতে অপারগ মা ভাবছেন মেয়েদের বাল্য বিয়ের কথা।

৫ম ও ৮ম শ্রেণির পরীক্ষায় দুই বোন জিপিএ-৫সহ ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পায়। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সর্বশেষ এসএসসি পরীক্ষায়ও তারা পেয়েছে জিপিএ-৫।

স্বপ্নের কথা জানতে চাইলে কবিতা বলেন, ‘ডাক্তার হবার ইচ্ছা থেকেই সায়েন্স নিয়ে পড়া। ডাক্তারই হতে চাই। উচ্চ মাধ্যমিক পড়তে চাই শহরের ভালো একটি কলেজে। কিন্তু পারব কি না, তা এখনো নিশ্চিত নই। শহরে পড়ার মতো আর্থিক অবস্থা আমাদের নেই।’

একই সুর মোহনার কণ্ঠেও। বলেন, ‘বাবা মারা যাওয়ার পরে আমাদের নিয়ে মায়ের যুদ্ধ। আমরা ভালো কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে লেখাপড়া করে যাচ্ছি। কিন্তু আর্থিক অনটনের কাছে শেষ পর্যন্ত হারতে হবে কি না, বুঝতে পারছি না।’

মা কল্পনা বেগম বলেন, ‘ওদের বাবা যখন মারা যায় তখন ওদের বয়স ৭ বছর। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়ি। কিন্তু আমার মেয়েদের লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহের কারণে বাবার বাড়িতে এসে আশ্রয় নিই। টানাটানির সংসারে কোনোমতে ওদের নিয়ে বেঁচে আছি। ভাগ্যে কী আছে জানি না! সহায়তা না পেলে বিয়ে দিয়ে দেব। কিছু করার নেই।’

উৎরাইল এমএল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশ্রাফুল আলম বলেন, ‘ওরা মেধাবী এবং দরিদ্র। এই কারণেই বিদ্যালয়ের বেতন, টিউশন ফি, ফরম পূরনের টাকাসহ বিভিন্ন সময়ে এই দুই বোনকে সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। ওরা আমাদের গর্ব।’

কবিতা ও মোহনাকে কেউ সহায়তা পাঠাতে চাইলে তাদের পারিবারিক নম্বরে (০১৭২১০৯১৯০৫) যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

About Admin Rafi

Leave a Reply