Saturday, February 17

সেদিন ব্যাট হাতে সাকিব কে যা বলে ছিলেন মাহমুদ উল্লাহ এবং জয় পেল টাইগার দল…

প্রশ্ন : গিয়েই যে মারতে শুরু করলেন, সেটা কি পরিকল্পনা থেকেই…

মাহমুদ উল্লাহ : না ঠিক সেরকম পরিকল্পনা করে নয়। আমার লক্ষ্য ছিল শুরু থেকেই পজিটিভ থাকা।
আর এই সময় ওদের দুই বোলার সাউদি ও বোল্ট খুব ভালো বল করছিল। প্রথম ১০ ওভারে বল দারুণ সুইং করছিল, ভালো জায়গায় বল ফেলছিল। আমি নামার সময় হয়তো অতটা ছিল না। তো যা-ই হোক চিন্তা ছিল অন্য কিছু না ভেবে নিজেদের মতো ব্যাট করে যাওয়া। আমি সেটাই করতে চেয়েছি। আর সব কিছু ঠিকঠাক মতো হয়েছে।

প্রশ্ন : তখন কি জেতার বিশ্বাসটা ছিল?

মাহমুদ উল্লাহ : সত্যি বললে তখন জয়ের কথাটা ভাবিনি। লক্ষ্য ছিল যতক্ষণ সম্ভব ব্যাটিং করা। মাথায় আর কোনো চিন্তা না করা। রান যখন ১৩৫-১৪০ হলো তখন গিয়ে আমরা ভাবতে শুরু করলাম হয়তো সম্ভব। সাকিবকে বলি, একটা সুযোগ এসেছে। এটা ছাড়া যাবে না।

প্রশ্ন : তারপর এলো এই অবিশ্বাস্য জয়…

মাহমুদ উল্লাহ : বলে বোঝানোর মতো নয়। পুরো দল দারুণ উজ্জীবিত। আইসিসির একটা ইভেন্টে ভালো করা, এটা দলের জন্য দারুণ ব্যাপার। আমাদের একটা বিশ্বাস এনে দিল। পুরো দলের মনোবল বাড়ানোর জন্য এটা দারুণ একটা ব্যাপার হলো।

প্রশ্ন : গত কিছুদিনে অনেক কিছুর ভেতর দিয়ে আপনি

গেছেন। বিশ্বকাপে আপনি ওপরে ব্যাট করেছেন, চার নম্বরে খেলে দুটি সেঞ্চুরি করেছেন। এখন ছয় নম্বরে। ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে আফসোস হয় যে ওপরে ব্যাট করলে…

মাহমুদ উল্লাহ : না। এই নিয়ে কোনো ভাবনা নেই।

প্রশ্ন : বিশ্বকাপের দুটি সেঞ্চুরি আর এই সেঞ্চুরি, তিন সেঞ্চুরিকে যদি তুলনা করতে বলি…

মাহমুদ উল্লাহ : আমার কাছে তিনটি সেঞ্চুরিই বিশাল ব্যাপার। আমি তুলনা করতে পারি না। বিশ্বকাপে প্রথম সেঞ্চুরি, তারপর দল জিতেছিল, সেটা ছিল ভীষণ আনন্দের। তেমনি আজকেরটাও দারুণ। দল জেতানো ইনিংস খেললে তৃপ্তিটা হয় অন্য রকম।

প্রশ্ন : সাকিবের সঙ্গে ব্যাটিং করার মজাটা কেমন?

মাহমুদ উল্লাহ : আসলে সাকিবের সঙ্গে ব্যাটিং করার আনন্দটা অন্য রকম। কারণ ও নিজের মতো ব্যাট করে, খুব বেশি কথা বলে না। আমিও নিজের মতো ব্যাট করি। আর ও সব কিছু সহজে করতে পারে বলে সেটাও একটা সুবিধা হয়। প্রেরণা হিসেবে কাজ করে।

প্রশ্ন : আজকেও কি তাহলে সেরকম কথাবার্তা হয়নি? যখন বল মুভ করছিল…

মাহমুদ উল্লাহ : আমরা খেলে গেছি। তবে দ্বিতীয় স্পেলে যখন বোল্ট এলো তখন ওর বল বেশ সুইং করছিল, মিলনের বলও রিভার্স করছিল। তখন এই নিয়ে কথা বলি।

প্রশ্ন : সাকিবের ইনিংসটাকে কিভাবে বর্ণনা করবেন?

মাহমুদ উল্লাহ : দারুণ। আপনারা খেয়াল করেছেন হয়তো সাকিবের সেঞ্চুরির পর আমি অনেক বেশি উল্লাস করেছি।

প্রশ্ন : হ্যাঁ, মনে হচ্ছিল আপনারই সেঞ্চুরি হয়েছে?

মাহমুদ উল্লাহ : আসলে ও এত ভালো ব্যাট করেছিল যে আমি চেয়েছিলাম যে ওর সেঞ্চুরি হোক। এ জন্যই এত বেশি আনন্দ করেছি।

প্রশ্ন : বোলারদের পারফরম্যান্সটাকে কিভাবে দেখছেন? ওরা তো প্রথম কাজটা করে রেখেছিল?

মাহমুদ উল্লাহ : অবশ্যই আমরা যখন জুটিটা করি তখন কাজটা সহজ হয়েছে বোলাররা রানটা অনেক কমে আটকে রাখাতে। যদি রানটা ৩০০ বা এ রকম হতো তাহলে চাপ থাকত। ২৬৫-তে আটকে রাখা এই উইকেটে অনেক বড় কৃতিত্বের। তাসকিন দারুণ বল করেছে। মাশরাফি ভাইও চমৎকার। মোসাদ্দেক ৩ উইকেট নিয়ে ওদের ইনিংসটা বাড়তে দেয়নি। ডেথে রুবেলও ভালো বল করেছে। সাকিবও ইকোনমিক বল করেছে।

প্রশ্ন : শেষ দিকে সাকিব যখন ওভাবে মারছিল তখন কি মনে হচ্ছিল যে সেঞ্চুরিটা বোধহয় হবে না…

মাহমুদ উল্লাহ : না। এটা একদম ভাবিনি। জানতাম ভাগ্যে যদি থাকে তাহলে হবেই। আর মূল ভাবনা ছিল ম্যাচটি জেতা। সেটা হয়েছে। সেটাই সবচেয়ে বড়।

Leave a Reply