Sunday, January 29

শেষ দল হিসেবে সেমিফাইনালে পাকিস্তান

রোমাঞ্চকর জয়ে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালের টিকিট কাটলো পাকিস্তান। সোমবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সরফরাজ আহমেদের দল তিন উইকেটে হারায় শ্রীলংকাকে। সেইসঙ্গে শেষ দল হিসেবে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় পাকিস্তান।

সোমবার কার্ডিফে প্রথমে ব্যাট করে ৪৯.২ ওভারে ২৩৬ রানেই গুটিয়ে যায় শ্রীলংকা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৪৪. ৪ ওভারে সাত উইকেট হারিয়ে ২৩৭ রান তুলে ফেলে পাকিস্তান। বুধবার টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে পাকিস্তান।

জিতলেই সেমিফাইনাল আর হারলেই বিদায়। এমন সমীকরণ নিয়ে ‘বি’ গ্রুপের গুরুত্বপুর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হয় এশিয়ার দুই শক্তিশালী দল শ্রীলংকা এবং পাকিস্তান। শ্রীলংকার দেওয়া ২৩৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত শুরু করেন পাকিস্তানের দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান আজহার আলী এবং ফখর জামান। প্রথম উইকেটে ৭৪ রানের জুটি গড়েন তারা। দলীয় ৭৪ রানে প্রথম উইকেট হারায় পাকিস্তান। আউট হওয়ার আগে ৩৬ বলে ৮ চার ও ১ ছক্কায় ৫০ রানের ঝড়ো এক ইনিংস খেলেন ফখর জামান। ৩৪ রান করে সাজঘরে ফিরে যান আজহার আলী। ব্যাট হাতে এদিন সুবিধা করতে পারেননি বাবর আজম এবং মোহাম্মদ হাফিজ। ১৩১ রানে প্রথম সারির পাঁচ ব্যাটসম্যান বিদায় নিলে বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান।

তবে কঠিন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। অভিজ্ঞ শোয়েব মালিক এবং অভিষিক্ত ফাহিম শাহরিয়ার যখন সমর্থকদের হতাশ করে সাজঘরে ফিরে যান তখন মোহাম্মদ আমিরকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান ম্যাচসেরা সরফরাজ। অষ্টম উইকেটে ৭৫ রানের অবিচ্ছিন্য জুটি গড়ে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন সরফরাজ এবং আমির। সরফরাজ ৭৯ বলে ৬১ এবং আমির ৪৩ বলে ২৮ রান করে অপরাজিত থেকে দলকে রোমাঞ্চকর এক জয় এনে দেন।

শ্রীলংকার নুয়ান প্রদীপ একাই তিন উইকেট লাভ করেন। এছাড়া লাসিথ মালিঙ্গা, সুরঙ্গ লাকমল এবং থিসারা পেরেরা একটি করে উইকেট নেন।

অথচ এর আগে কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেন্সে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা বেশ ভালোই করে শ্রীলংকা। দলীয় ২৬ রানে ওপেনার দানুশকা গুনাথিলাকাকে হারালেও লংকানদের পথ হারাতে দেননি আরেক ওপেনার নিরোশান ডিকভেলা ও কুশল মেন্ডিস। এই দুই ব্যাটসম্যান দ্বিতীয় উইকেটে যোগ করেন ৫৬ রান। কিন্তু এরপরই ছন্দপতন। ২৭ রান করে বিদায় নেন মেন্ডিস। রানের খাতা খোলার আগে ফিরে যান দিনেশ চান্দিমালও।

এতে অবশ্য সমস্যা হয়নি। অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসকে সাথে নিয়ে লড়াই চালান ডিকভেলা। এই জুটি থেকে আসে ইনিংসের সর্বোচ্চ ৭৮ রান। কিন্তু ৩৯ রান করে ম্যাথুস ফিরতেই এলোমেলো হয়ে যায় লঙ্কানদের ইনিংস। সর্বোচ্চ ৭৩ রান করে থামেন ডিকভেলাও। এরপর কেউই আর দলের হাল ধরতে পারেননি। আসেলা গুনারত্নে ২৭ এবং সুরঙ্গ লাকমল ২৬ রান করলে ২৩৬ রানে পৌঁছায় শ্রীলঙ্কা। পাকিস্তানের জুনায়েদ খান ও হাসান আলী তিনটি এবং মোহাম্মদ আমির ও ফাহিম আশরাফ শ্রীলংকার দুটি করে উইকেট লাভ করেন।

Leave a Reply