Friday, April 17

গুলশানে হোলি আর্টিজানে হামলার দুই বছর আজ

গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারি। অভিজাত রেস্তোরাঁটির ট্যাগলাইন-স্লো, বিউটিফুল অ্যান্ড প্রিসাইজ। ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের এই শান্ত-সুন্দর বেকারি জঙ্গি হামলায় তছনছ হয়ে যায়। গুলি করে, কুপিয়ে, ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করে জঙ্গিরা হত্যা করে গর্ভবতী নারী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, উন্নয়ন সহযোগী বিদেশি নাগরিক, শিল্পকলার পৃষ্ঠপোষককে।

জঙ্গিদের অনুপ্রবেশের পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ হাজির হয়েছিল। প্রথম দফায় নিহত হন সেই বাহিনীর দুই সদস্য। হামলার ব্যাপকতা দেখে একে একে যুক্ত হয় র‍্যাব, বিজিবি, নেভি কমান্ডো ও সেনাবাহিনী। পরদিন সকালে সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ১২ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর জিম্মিদশার। পরিষ্কার হতে শুরু করে রাতভর জঙ্গিদের তাণ্ডবলীলার চিত্র।

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদের আগে এত মানুষের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু গোটা দেশের মানুষকে স্তম্ভিত করে। সে রাতে ঘটনার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয় আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট। কালো পোশাকে আবৃত হামলাকারী পাঁচ জঙ্গি তরুণের তিনজনই ঢাকার উচ্চ ও উচ্চ মধ্যবিত্ত শিক্ষিত পরিবারের সন্তান। ওই ঘটনার পর সংবাদমাধ্যমগুলোয় ক্রমশ প্রকাশ পেতে থাকে নিখোঁজ থাকা আরও অনেক তরুণের নাম।

জঙ্গিরা সে রাতে রেস্তোরাঁর ভেতরে গলা কেটে হত্যা করেছিল ৯ জনকে, মাথার পেছনে গুলি ছিল ৯ জনের, ভারী বস্তুর আঘাতে নিহত হয়েছিলেন আরও ২ জন। শুধু একজনের শরীরেই ছিল ৪০টি কোপের আঘাত। কোনো উত্তেজকের প্রভাব ছাড়াই ঠান্ডা মাথায় ১৮-২৪ বছরের এই তরুণেরা হত্যা করে ও মৃতদেহের প্রতি চরম অসম্মান দেখায়।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিটের ধারাবাহিক অভিযানে এই হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী তামিম চৌধুরীসহ ১২ জন এবং র‍্যাবের অভিযানে একজন নিহত হন, গ্রেপ্তার হন ছয়জন। এখনো পলাতক দুজন। পুলিশ বলছে, এই হামলায় জড়িত সবাইকে চিহ্নিত করা গেছে।

Leave a Reply