Saturday, April 25

স্কুল বন্ধ রেখে আ. লীগের সম্মেলন

লক্ষ্মীপুরে চন্দ্রগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের কারণে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত দুটি প্রতিষ্ঠানে মাঠে সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ফলে বন্ধ রাখতে হয় স্কুলগুলো। এছাড়া বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে সপ্তাহব্যাপী প্যান্ডেলসহ রাজসিক আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়ায় পাঠাদান ব্যাহত হয় বলে জানা যায়।

স্কুল দুটি হলো- হাজিরপাড়া হামিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও হাজিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এর মধ্যে উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের সংরক্ষিত ছুটি দেওয়া হলে প্রাথমিকে দেওয়া হয়নি। সরেজমিনে দুটি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে তালা ঝুলতে দেখা যায়।

এদিকে বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষে নেতাকর্মীদের অবস্থান ছিল। এ নিয়ে জানতে চাইলে সদুত্তর দিতে পারেননি প্রধান শিক্ষক নিলুফা ইয়াসমিন। তবে তাকে প্রশ্ন করা নিয়ে গণিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল কাদের সাংবাদিকদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন।

কাদের বলেন, স্কুল বন্ধের বিষয়ে সাংবাদিক প্রশ্ন করার কে? এ সময় তার উপস্থিতির কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সম্মেলন দেখতে এসেছি। এক সময় আমি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। এখন রাজনীতি না করলে দলের প্রতি টান রয়েছে।

কয়েকজন অভিভাবক জানায়, করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন বিদ্যালয় বন্ধ ছিল। এখনো নানা কারণে অনিয়মিতভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। শিক্ষার্থীরা পড়ালেখায় অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। বিদ্যালয় বন্ধ রেখে একের পর এক রাজনৈতিক সভা-সম্মেলন শিক্ষা ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। সাপ্তাহিক ও অন্য ছুটির দিন এসব রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করারও আহ্বান জানান তারা।

হাজিরপাড়া হামিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মাওলানা নুরুল ইসলাম বলেন, মাঠে সম্মেলনের কারণে সংরক্ষিত ছুটি দেওয়া হয়েছে। মাইকের শব্দ ও বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে পাঠদান সম্ভব হতো না। বিদ্যালয়ে সকাল থেকেই তিনি উপস্থিত রয়েছেন।

হাজিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, আমরা স্কুল বন্ধ করিনি। সকল শিক্ষকরা উপস্থিত রয়েছেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা আসেনি।
সম্মেলনের সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কাশেম চৌধুরী বলেন, অনুমতি নিয়েই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর সমাগমের জন্য খোলা স্থান আর কোথাও ছিলো না।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবদুল মতিন বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠ ব্যবহার করার জন্য কাউকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিদ্যালয় বন্ধ রাখার বিষয়টিও আমাকে জানানো হয়নি। বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হবে।v

Leave a Reply