
ধর্ষণের সময় ছবি তুলে
– ধর্ষণের সময় মোবাইল ফোনে ছবি তুলে রেখে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগ উঠেছে এক সুপারভাইজারের বিরুদ্ধে। এক’শ দিন কাজ করেছেন ওই সুপারভাইজার।
অবশ্য ওই সুপারভাইজার মোমরেজ শেখ এ ব্যাপারে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন। কালনা ১ ব্লকের বেগপুর পঞ্চায়েতের ওই সুপারভাইজারের দাবি, এলাকায় শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের শিকার হতে হচ্ছে তাকে।
সোমবার ভেরোপাড়া এলাকার এক বধূ কালনা থানায় অভিযোগ করেন, যে ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় তার স্বামী বুলবুলিতলা বাজারে যাওয়ায় তিনি বাড়িতে একা ছিলেন। আর সেই সুযোগে বাড়িতে এসে মোমরেজ এক’শ দিনের কাজের জন্য ছবি চান। এরপর ওই বধূ ঘরে ছবি বের করতে গেলে তিনিও ভেতরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করেন।
সেই সময়ে মোবাইল ফোনে ছবিও তুলে রাখেন। তার সাথে সম্পর্ক না রাখলে ধষর্ণের সময় তোলা অশালীন ছবি ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে সুপারভাইজার মোমরেজ শেখ আরো বেশ কয়েক বার তাকে ধর্ষণ করেন বলে ওই নারীর অভিযোগ। তিনি বলেন, ‘আমি আতঙ্কে রয়েছি। দোষীর শাস্তি চাই।’
এদিকে, অভিযুক্ত সুপারভাইজারের দাবি করেন
, এটি একটি সাজানো ঘটনা। সোমবার মোমরেজ ফোনে অভিযোগ করে বলেন, ‘ওই নারীর বাড়ি যেখানে আমি সেখানকার সুপারভাইজার নই। আমি তৃণমূলের গোষ্ঠী-রাজনীতির শিকার হচ্ছি।’ তিনি আরো দাবি করেন, তিনি আগে এলাকায় দলের নেতা ইনসান মল্লিকের অনুসারী ছিলেন।
কিন্তু এখন তিনি মিলন ঘোষ, হারান শেখের গোষ্ঠীতে আছেন। সম্প্রতি দলের জেলা সভাপতি তথা রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ায় ইনসান মল্লিকের গোষ্ঠীর রোষ এসে পড়েছে তার উপরে। সে কারণেই মিথ্যে অভিযোগ করানো হচ্ছে বলে সুপারভাইজারের দাবি।
এ ব্যাপারে তৃণমূল নেতা ইনসান দাবি করেন, এই ঘটনায় তার কোনো ভূমিকাই নেই। তিনি আরো বলেন, ‘এই পঞ্চায়েত এলাকায় তৃণমূলে কোথাও কোনো গোষ্ঠী-কলহ নেই। কোনো নারী অভিযোগ করলে পুলিশ তদন্ত করবে। আমি এখন বাইরে আছি, বিষয়টি আমার জানা নেই।’
যদিও দলের আরেক নেতা মিলন ঘোষের বক্তব্য, ‘ইনসানের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি-সহ নানা অভিযোগ রয়েছে। তার মদতেই এই ঘটনা বলে মনে হচ্ছে।’
এ বিষয়ে মন্ত্রী স্বপনবাবু অবশ্য বলেন, ‘দলে কোনো গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই। বেগপুরে কী ঘটেছে জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।’ পুলিশ জানায়, এই অভিযোগের তদন্ত ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
