Monday, February 6

খালেদার বিরুদ্ধে মামলার সেই নির্দেশ দাতাই এখন খালেদার মামলার প্রধান আইনজীবী!

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলা
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলাটি করা হয় বিগত ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়।
সেসময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইন উপদেষ্টা ছিলেন অ্যাডভোকেট হাসান আরিফ। যাকে কিনা খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এ মামলার অন্যতম কুশিলব হিসেবে ধরা হয়।
মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দায়ের করলেও এক্ষেত্রে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পরোক্ষ সমর্থন বা নির্দেশ যে ছিলো সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই সে সরকারের আইন উপদেষ্টা (আইনমন্ত্রী সমতুল্য) হিসেবে অ্যাডভোকেট হাসান আরিফকে এ মামলার পেছনের একজন নির্দেশ দাতা বা ছায়া সঙ্গী বলা যায়।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে এতো দিন পরে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া যখন কারাগারে ঠিক তখন খালেদার আইনজীবী হিসেবে যদি সেই হাসান আরিফকে নিয়োগ করা হয় তবে কেমন শুনাবে ?

কি একটি বিখ্যাত গানের কলির কথা মনে পড়ছে নিশ্চই ? ‘সর্প হইয়া দংশন করো, ওঝা হইয়া ঝাড়ো’… আসলেই তাই।
এবার খালেদা জিয়াকে ওঝা হয়ে ঝাড়ার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন অ্যাডভোকেট হাসান আরিফ।
শোনা গেছে, তিনি নাকি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্টে আপিলে বেগম জিয়ার প্রধান কৌসুলী হবেন। বিএনপির আইনজীবীদের উপর আস্থাহীনতা থেকেই একরম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই মামলায় বিএনপির আইনজীবীদের প্রতিযোগিতা এবং সমন্বয়হীনতা ক্রমশ প্রকট হয়ে উঠছে। এই পরিপ্রেক্ষিতেই বেগম জিয়ার পরিবার দলীয় আইনজীবীর বাইরে, একজন পেশাদার আইনজীবীকে মামলার দায়িত্ব তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অ্যাডভোকেট হাসান আরিফ বেগম জিয়ার মামলার ফাইল গ্রহণের কথা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি বলেন, ‘একটা টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে আমরা এই মামলা লড়তে চাই।

তিনি আইন উপদেষ্টা থাকা অবস্থায় এই মামলা হয়েছিল, এখন তিনিই আবার আসামির আইনজীবী এটা স্ববিরোধীতা কিনা, জানতে চাইলে হাসান আরিফ বলেন, এই মামলা আইন মন্ত্রণালয় করেনি, করেছে দুদক। কাজেই স্ববিরোধিতার কোনো প্রশ্নই আসে না।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা বাংলাদেশে চলমান আলোচিত একটি মামলা। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এই মামলায় প্রধান অভিযুক্ত ব্যক্তি। এছাড়া বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ এ মামলায় ৬জন আসামী রয়েছেন।

বিদেশ থেকে আসা এতিমখানার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলাটি করে দুর্নীতি দমন কমিশন। মামলায় খালেদা জিয়ার ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ, তারেক রহমান সহ অন্যান্য আসামীদের ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ হয়। তারেক রহমানসহ বাকি ৫ আসামীর ২ কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা হয়।

Leave a Reply