Sunday, May 10

চিত্রনায়ককে আটকে রেখে নির্যাতন

গাজীপুরে ভাওয়াল মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে অভি নামে একজন চিত্রনায়ককে আটকে রেখে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেখানে রোগীদের শারীরিক ও যৌন নির্যাতন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় ভর্তি রেখে অর্থ আদায় এবং অনৈতিক কার্যক্রম করার হতো বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার র‌্যাব অভিযান চালিয়ে ওই নিরাময় কেন্দ্রের মালিক ফিরোজা নাজনীন ওরফে বাঁধনসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনায় মামলাও হয়েছে।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর বসিলায়স্থ র‌্যাব-২ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানান।

এ সময় র‌্যাব-২ এর কমান্ডিং অফিসার (অধিনায়ক) লে. কর্নেল আবু নাঈন মোহাম্মদ তালাত, র‌্যাব-২ এর মিডিয়া শাখার এএসপি মোহাম্মদ ফজলুল হকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্ধারকৃত চিত্রনায়ক অভি এই মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে আসা ও ভর্তির বিষয়ে র‌্যাব জানায়, দেশে করোনাকালীন সময়ে চলচ্চিত্রের কার্যক্রম স্থবির থাকায় অর্থনৈতিক টানাপড়েনের কারণে তিনি কিছুটা মানসিকভাবে বিষাদগ্রস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় তিনি নিয়মিত ঘুমের ওষুধ সেবন শুরু করলে তার আচরণে কিছুটা অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হয়। পরে ২০২১ সালের মার্চ মাসে তার মা চিকিৎসার জন্য তাকে গাজীপুরে ভাওয়াল মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে আসেন এবং মালিক বাঁধনের কথামত তার মা তাকে সেখানে ভর্তি করান।

পরে তার মা ছেলের চিকিৎসা বাবদ ৩ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। পরবর্তীতে প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকা চিকিৎসা খরচ বাবদ প্রদান করেন। মূলত চিকিৎসার নামে তাকে আটকে রেখে প্রতিমাসে মোটা অংকের টাকা আদায় করাই ছিল ভাওয়াল মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্র এবং প্রতিষ্ঠান মালিকের মুখ্য উদ্দেশ্য।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, মাদক নিরাময় কেন্দ্রের আড়ালে মাদক ব্যবসা, রোগীদের শারীরিক নির্যাতন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় ভর্তি রেখে অর্থ আদায় এবং অনৈতিক কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদেরকে আটক করা হয়েছে।

প্রেস বিফিংয়ে আরও জানানো হয়, গ্রেফতারকৃত ফিরোজা নাজনীন ওরফে বাঁধন তার প্রথম স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্স হওয়ার পর সিপনের সঙ্গে দ্বিতীয় বিবাহ সম্পন্ন হয় বলে জানান। সিপন তার সঙ্গে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে বসবাস করতের। কিন্তু তাদের বিয়ের কোনো বৈধ নথিপত্র সে দেখাতে পারেনি। তিনি (বাঁধন) তার অবৈধ কার্যক্রমকে আড়াল করার জন্য নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন।

র‌্যাবের আইনও গণমাধ্যম শাখার প্রধান কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, গত ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সমিতির পক্ষ থেকে র‌্যাব-২ এর নিকট অভিযোগ করা হয়- একজন চিত্রনায়ক দীর্ঘদিন যাবত তাদের কার্যক্রমের অনুপস্থিত রয়েছেন। পরবর্তীতে তারা জানতে পারেন, ওই চিত্র নায়ককে গাজীপুর সদরের ভাওয়াল মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্রে আটক রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব সেখানে অভিযান চালায়।

মঙ্গলবার আটক পাঁচজনের নামে বুধবার সন্ধ্যায় সদর মেট্রো থানায় র‌্যাবের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সদর থানার ওসি (তদন্ত) রাফিউল ইসলাম রাফি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার আসামিরা হলেন- ভাওয়াল মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্রের মালিক লালমনিরহাট জেলার মৃত জহির হোসেনের মেয়ে ফিরোজা নাজনীন ওরফে বাঁধন, গাজীপুর জেলার নাজিম উদ্দিনের পুত্র মনোয়ার হোসেন ওরফে সিপন, একই জেলার আবুল খানের পুত্র মো. রায়হান খান, টাঙ্গাইল জেলার দিপংকর শাহ ওরফে দিপু ও মৃত আনোয়ার হোসেনের পুত্র জাকির হোসেন আনন্দ। তারা ওই কেন্দ্রের কর্মচারী। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪২০ পিস ইয়াবা, নির্যাতনে ব্যবহৃত লাঠি, স্টিলের পাইপ, হাতকড়া, রশি, গামছা, খেলনা পিস্তল উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ভাওয়াল মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্র এর সব কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন।

Leave a Reply