Sunday, February 5

চুল বুঝে শ্যাম্পু ব্যবহার

একেকজনের চুলের ধরন একেক রকম। সব রকম চুলের জন্য একই ধরনের শ্যাম্পু কার্যকর নয়। তাই চুল বুঝে শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। পরামর্শ দিয়েছেন শোভন মেকওভার স্যালনের রূপ বিশেষজ্ঞ শোভন সাহা। লিখেছেন ফাতেমা ইয়াসমীন

চুলের সৌন্দর্য যত্নের ওপর নির্ভর করে। তেল ও নানা প্যাক দেওয়া, তারপর শ্যাম্পু করা চুলের যত্নের সবচেয়ে প্রচলিত ধরন। তার পরও চুলের মান নিয়ে থাকে নানা আক্ষেপ। আসলে চুলের সৌন্দর্য অনেকখানি নির্ভর করে চুলে কী শ্যাম্পু ব্যবহার করছেন তার ওপর।আপনি যে শ্যাম্পু ব্যবহার করছেন সেটি যদি চুলের জন্য কার্যকর না হয়, তাহলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

 

শুষ্ক চুলের জন্য

শুষ্ক চুলে ময়েশ্চারাইজারযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। ওমেগা থ্রি ময়েশ্চারাইজারসমৃদ্ধ শ্যাম্পু বেছে নিন। প্রোটিন শ্যাম্পু রুক্ষ চুলের জন্য ভালো। কুসুম গরম তেল চুলে মালিশ করে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। তারপর শ্যাম্পু করলে চুলের রুক্ষতা অনেক কমে যাবে। শুষ্ক চুলে শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। কেরাটিন প্রোটিন, এগ প্রোটিন শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার শুষ্ক চুলের জন্য ভালো।

তৈলাক্ত চুলে

তৈলাক্ত চুলে একটু ঘন ঘন শ্যাম্পু করতে হয়। কারণ তা সহজেই তেলচিটচিটে হয়ে যায়। তাই এমন শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে, যাতে চুল শুষ্ক না হয়ে যায়। চুলের ধরন চিটচিটে হলে সপ্তাহে এক দিন পর পর শ্যাম্পু করা ও চুলের নিচের অংশে কন্ডিশনার ব্যবহার করা উচিত। ঘন ক্রিমের মতো শ্যাম্পু তৈলাক্ত চুলের জন্য ভালো নয়। যেসব শ্যাম্পুতে তেল আছে সেগুলো ব্যবহার করা ঠিক না। অনেকে মনে করেন, যাঁদের ঘন ঘন শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হয় তাঁরা বেবি শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন, এটা একেবারেই ঠিক না। কারণ বেবি শ্যাম্পু বাচ্চাদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি, এটা বড়দের জন্য তেমন কাজ করে না।

 

চুল কোঁকড়া হলে

কোঁকড়ানো চুলের জন্য অ্যালকোহলবিহীন শ্যাম্পু বেছে নেওয়া উচিত। এতে চুলের কোঁকড়া ভাব বজায় থাকে। আর শ্যাম্পুতে ময়েশ্চারাইজার আছে এমন শ্যাম্পু কোঁকড়া চুলের জন্য মানানসই। শ্যাম্পু করার সময় চুল ভাগ ভাগ করে নিন। কোঁকড়া চুল যদি রুক্ষ হয়, তাহলে কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। যেহেতু এ ধরনের চুল একটু ঘন হয়, তাই সপ্তাহে তিন-চারবার শ্যাম্পু করতে হয়ে। সঙ্গে কন্ডিশনার। সপ্তাহে দুবার জলপাই তেল বা ক্যাস্টর অয়েল লাগালে ভালো ফল পাবেন।

পাতলা চুল

পাতলা চুলের জন্য ঘন শ্যাম্পু কার্যকর। শ্যাম্পুর গায়ে লেবেল দেখে নেবেন। এ ধরনের শ্যাম্পু চুলে একটু ভলিউম ভাব আনে। এ ধরনের শ্যাম্পুতে যে পুষ্টিমান তাতে আপনার চুল ধীরে ধীরে ভারী হবে। তাই ঘন ঘন শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে চুল শুষ্ক হয়ে যাবে।

ঢেউ খেলানো চুল

ঢেউ খেলানো চুলের ধরন বুঝে এর ঘনত্ব ঠিক রাখতে উপযোগী শ্যাম্পু দিয়ে সপ্তাহে দু-একবার চুল ধুয়ে নিন। তেল বা বাটারসমৃদ্ধ শ্যাম্পু চুলে ভারী ভাব নিয়ে আসে। তাই এ ধরনের শ্যাম্পু ব্যবহার করা ঠিক হবে না।

টিপস

১.    যাঁরা চুলে কালার ব্যবহার করেন তাঁদের কালারটা যেন সহজে ওঠে না যায়। তাঁরা কালার প্রটেক্টিং শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন। এ ধরনের শ্যাম্পুতে এমন কিছু উপাদান থাকে, যা চুলের আউটার কালারটাকে রক্ষা করে চুল পরিষ্কার করে।

২.   যাঁদের স্ক্যাল্পে অনেক খুশকি আছে তাঁরা খুশকির শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন। স্ক্যাল্প সিরিজের শ্যাম্পু যাঁরা ব্যবহার করবেন তাঁরা ডিপ কন্ডিশন করে এমন শ্যাম্পু বেছে নেবেন।

৩.   আজকাল চুলে অনেকেই ক্যামিকেল জব করছেন। রিবন্ডিং, ক্যারাটিন, এলাস্টিংসহ আরো অনেক কিছুই করছেন। যাঁরা এ ক্যামিকেল জবগুলো করছেন তাঁরা অবশ্যই কিছু স্পেশালাইজড শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন। যাতে এই ক্যামিকেল জবগুলোতে কোনো সমস্যা তৈরি না হয়।

৪.   যাঁরা চুলে কালার করেন তাঁরা বুঝেশুনে শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন। কারণ যাঁদের চুলে কালার আছে তাঁরা যদি ডিপ ক্লিনজিং শ্যাম্পু বা খুশকির শ্যাম্পু ব্যবহার করেন, তাহলে কালার নষ্ট হয়ে যাবে। অনেক সময় চুল পেকেও যেতে পারে। এক্সপার্টের পরামর্শ নিয়ে এ ধরনের চুলে শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন।

৫.   যাঁরা ভারী ময়েশ্চারাইজার শ্যাম্পু ব্যবহার করেন তাঁরা সাবধানে থাকবেন, যাতে তা স্ক্যাল্পে না লেগে থাকে, এতে চুল উঠে যাওয়ার একটা আশঙ্কা থাকে।

৬.   যাঁরা বেশি টেনশনে থাকেন তাঁরা স্পা শ্যাম্পুগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

৭.   ছেলেরা চুলের যত্নে খুব একটা সময় দিতে চান না। তাঁরা শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার একসঙ্গে থাকে এমন শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন।

সূত্রঃ কালের কন্ঠ

Leave a Reply