
নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় সরকারি তোলারাম কলেজে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সভায় বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে তোলারাম কলেজের সামনের রাস্তা দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দেড় ঘণ্টা পর ফতুল্লা থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা উভয়পক্ষকে তোলারাম কলেজের সামনের মুখোমুখি অবস্থান থেকে সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার সভাপতি অমিত হাসান বলেন, ‘তোলারাম কলেজের ভেতরে আমাদের নেতাদের মারধর করেছে। গত কয়েকদিনের রাজনৈতিক উত্তাপকে ঘিরে এ ঘটনা ঘটিয়েছে ছাত্রদল। আমরা সেখানে গেলে লাঠিসোঁটা দিয়ে আমাদের কয়েকজনকেও আঘাত করেছে। আমিও মাথায় আঘাত পেয়েছি।’
এ ঘটনায় আহত তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ অপু জানান, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে কলেজ আয়োজিত অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবির বিএনপির বিরুদ্ধে আপত্তিকর কথা বলতে থাকলে আমরা প্রতিবাদ জানাই। এ সময় তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারা আগে থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিল। তাদের জেলার সবগুলি ইউনিট আজকে তোলারাম কলেজে সশস্ত্র অবস্থায় এসেছিল। অন্যদিকে আমরা শুধু তোলারাম কলেজ ছাত্রদলই এখানে ছিলাম। ফলে তাদের হামলায় আমাদের ৫ জন আহত হয়। এদের মধ্যে তুহিন ও সেলিমের অবস্থা গুরুতর। তাদের মাথা ফেটে গেছে। তারা ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ছাত্রদল তোলারাম কলেজ শাখার সভাপতি মনির হোসেন জিয়া বলেন, ‘তোলারাম কলেজে সভা চলছিল। সেখানে তারা উচ্ছৃঙ্খল বক্তব্য দিচ্ছিলেন। আমরা বলেছি, এ ক্যাম্পাসে সহাবস্থান ছিল সহাবস্থানে আছে, কোনো উচ্ছৃঙ্খলতা চলবে না। কিন্তু তারা কোন উস্কানি ছাড়াই আমাদের ওপর হামলা চালায়। ছাত্রদলের ৫ জনকে ওরা মেরে আহত করেছে।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাসিনুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।
তিনি বলেন, ‘তদন্ত করে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পর এ এলাকায় যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল, যারা এ কাজ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এদিকে, দেড়টার পর পুলিশ ছাত্রশিবিরের নেতাদের সরিয়ে দিলে তারা সেখান থেকে মিশন পাড়ায় নিজেদের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয় । তবে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আল্লামা ইকবাল রোড, জামতলা, চাষাঢ়া ও কালিরবাজার এলাকায় মিছিল করেন।
