
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপিএস ও আয়োজিত ২ দিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক সুফি সম্মেলনের সমাপনী বক্তায় বলেন শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য কেবল পুস্তকে সীমাবদ্ধ রাখা নয়, বরং তা নিজ হৃদয়ে ধারণ করে কর্মে ও চরিত্রে ফুটিয়ে তোলা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, “বর্তমানে শিক্ষা ব্যবস্থা অনেকাংশে কাগজে- কলমে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। বইয়ের জ্ঞান মস্তিষ্কে থাকলেও হৃদয়ে ধারণ না করার কারণে সমাজে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসছে না।”তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দেশে জনসংখ্যা এবং আধুনিকতা বৃদ্ধি পেলেও মানবিকতা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন আলোকিত শিক্ষক এবং মানুষ গড়ার কারিগর যদি সঠিক স্বাধীনতা পান, তবে সমাজ ও দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। শিক্ষা ও জীবনদর্শন নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত একটি শ্লোগান তুলে ধরেন—”বদলে যাও, বদলে দাও, আলোকিত মানুষ হও।” তিনি বলেন, “অন্যকে পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়ার আগে নিজেকে বদলাতে হবে। মানুষের কর্মই তার শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণ করে। সাধারণ থেকে অসাধারণ হওয়া যতটা কঠিন, তার চেয়েও বেশি কঠিন ও দায়িত্বের বিষয় হলো উচ্চশিক্ষিত ও গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারা।” সামাজিক দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে সকলকে প্রতিদিন অন্তত একটি করে ভালো কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। বক্তা প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, ছোট ছোট ভালো পদক্ষেপের মাধ্যমেই একসময় বড় ধরণের সামাজিক পরিবর্তন সম্ভব। পরিশেষে, দেশের ভবিষ্যত ও পরবর্তী প্রজন্মের সুবিধার্থে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভালো কাজে এগিয়ে আসার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়।
