Monday, February 6

মসজিদের জন্য রাস্তা নির্মাণে জমি দিলো হিন্দুরা !!

জমি দিলো হিন্দুরা !!
বিবিধের মাঝে মহান মিলনের সাক্ষী থাকলো নতুন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির। তাও আবার ভারতের বহু বিতর্কিত রাম জন্মভূমির রাজ্য যোগী আদিত্যনাথের উত্তরপ্রদেশ। মসজিদে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত রাস্তা নির্মাণের জন্য জমি দান করলো হিন্দুরা

উল্লেখযোগ্য এই ঘটনাটি ঘটেছে অযোধ্যায় বিতর্কিত রাম জন্মভূমি বা বাবরি মসজিদের জমি থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে। উত্তর প্রদেশের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত সন্ত কবিরনগর জেলার সেমরিওয়ান ব্লকের থাওয়াইপার গ্রাম। বেশ ছোট গ্রামের এক প্রান্তে রয়েছে মসজিদ। দীর্ঘ দুই দশক ধরে অত্যন্ত সরু এবং নোংরা রাস্তা পেরিয়ে প্রার্থনার জন্য মসজিদে যেতে হয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের।

স্থানীয় বাসিন্দা শিক্ষক মুনাওয়ার হোসেন জানিয়েছেন যে ১৯৬৩ সালে তত্‍কালীন গ্রামের প্রধান গ্রামে এই মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। গত তিন দশক ধরে মসজিদের যাওয়ার রাস্তাটা খুব খারাপ হয়ে রয়েছে। মসজিদে যাতায়াত করতে খুবই সমস্যা হচ্ছিল।

তার কথায়, “মসজিদে যাওয়ার কোনও রাস্তা ছিল না। বিভিন্ন মানুষের জমির উপর দিয়ে যেতে হতো। পরে গ্রামের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলে সেই জমিগুলোতেও বাড়ি হয়ে যায়। যার ফলে মসজিদে যাওয়ার রাস্তা আরও ছোট হয়ে যায়।”

একইসঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, “গ্রামের অনেকেই আমাদের মসজিদে যাওয়ার জন্য রাস্তা নির্মাণ করতে জমি দান করেছেন। দীর্ঘ দিন পরে আমাদের সমস্যার সমাধান হতে চলেছে।”

ওই রাস্তা নির্মাণের জন্য জমিদাতারা সকলেই হিন্দু ধর্মের মানুষ।
এদের মধ্যে রয়েছেন রাজেন্দ্র সিং, মহেন্দ্র সিং, কপিল সিং, নাকছেদ সিং এবং বৃজেশ সিং। এদের মধ্যে বৃজেশ সিং ওই গ্রামের সাবেক পঞ্চায়েত প্রধান। তাদের দান করা জমিতেই মসজিদে যাওয়ার জন্য ১০০ মিটার দীর্ঘ রাস্তা তৈরি করার কাজ শুরু হয়েছে।

জমি গ্রামবাসীরা দিলেও রাস্তা তৈরি হচ্ছে পঞ্চায়েতের খরচেই। বর্তমান পঞ্চায়েত প্রধান উর্মিলা দেবী বলেছেন, “দীর্ঘ ২০ বছর ধরে এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষেরা খুব সমস্যার মধ্যে ছিলেন। কিন্তু, কখনও এলাকার শান্তি বিঘ্নিত হয়নি। তাদের সমস্যা সমাধান করতে স্থানীয় হিন্দুরা এগিয়ে এসেছেন।”

এই ধরনের পদক্ষেপ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করবে এবং সমাজের ধর্মীয় সহিষ্ণুতার বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে জানিয়েছেন জমিদাতা নাকচেদ সিং। মসজিদের ইমাম হাসিমুদ্দিন আনসারি বলেছেন, “দয়ালু মনের মানুষেরাই আমাদের সমস্যার কথা বুঝতে পারবে। এলাকার হিন্দুদের এই পদক্ষেপ মুসলিমদের অনেক উপকার করবে।”

Leave a Reply