Friday, May 8

হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর চাপ, বারান্দায় রেখেও চলছে চিকিৎসা

চাঁদপুরের মতলব আইসিডিডিআরবি হাসপাতালে গত ৭ দিনে ১ হাজার ৯০ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে। গড়ে ১৪০ থেকে ১৫৫ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি করা হচ্ছে। যা স্বাভাবিক সময়ের চেয়েও ৪ গুন বেশি বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা। ভর্তিকৃত রোগীর মধ্যে ৮৩ শতাংশ শিশু। যাদের মধ্যে ৫ বছরের কম বয়সের রোগী।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৭ দিনে মতলব আইসিডিডিআরবিতে ১ হাজার ৯০ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ১৪০ থেকে ১৫৫ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে। ভর্তিকৃত রোগীদের মধ্যে শূন্য থেকে ২ বছর বয়সী ৭৩৫ জন। ৩ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশু ১৭৫ জন, ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে বিভিন্ন বয়সী ১৮০ জন। গত ৭ দিনের মধ্যে ৫ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ ১৭০ জন রোগী ভর্তি হয়। গত বছরের তুলনায় এ বছর রোগী ভর্তি হয়েছে বেশি।

হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের ৩টি কক্ষে স্থান সংকুলান না হওয়ায় বারান্দায় বেড বিছিয়ে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে চাঁদপুর জেলা সদর, ফরিদগঞ্জ, হাইমচর, হাজীগঞ্জ, কচুয়া, শাহরাস্তি, মতলব উত্তর ও দক্ষিণ, কুমিল্লা জেলার বরুড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বুড়িচং, চান্দিনা, চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা সদর, কুমিল্লা উত্তর, দাউদকান্দি, দেবিদ্বার, হোমনা, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, মুরাদনগর, নাঙ্গলকোট, তিতাস উপজেলা, ফেনী, শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ, নারিয়া ও সখীপুর উপজেলা থেকে আসা রোগীরা চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা চাঁদপুর সদর উপজেলার শিশু সুমাইয়া আক্তারের (৫), ফরিদগঞ্জ উপজেলার কবির হোসেন (১), পার্শ্ববর্তী জেলা কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার আওলাদ হোসেনের (২) অভিভাবক জানান, এ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মান ভালো। ডাক্তাররা রোগীদের যত্নসহকারে সেবা দিচ্ছে। হাসপাতাল থেকে রোগীদের জন্য ওরস্যালাইন, সুজি ও বেবিজিংক ট্যাবলেট সরবরাহ করছে।

আইসিডিডিআরবি’র সিনিয়র মেডিসিন অফিসার ডা. চন্দ্র শেখর দাস জানান, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি শীতকালীন ডায়রিয়া। ভাইরাসজনিত কারণে, দূষিত খাবার ও দূষিত পানি পান করা, ময়লা মুখে দেওয়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় শিশুরা ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

তবে এসব রোগীদের নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সুস্থ করে তুলতে চিকিৎসকেরা তাদের দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকেন। প্রতিদিন ৫ জন ডাক্তার, ৬ জন সিনিয়র নার্স, ২০ জন স্বাস্থ্য সহকারী ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত থাকেন। ভর্তি হওয়া রোগীদের সুস্থ হয়ে উঠতে ৫ থেকে সর্বোচ্চ ৭ দিন সময় লাগে।

Leave a Reply