
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভবনে উঠে আত্মহত্যার চেষ্টা করে দশম শ্রেণির এক ছাত্র। পরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুনিরুল গিয়াস তার সব সমস্যা সমাধানের আশ্বাসের পর ওই কিশোর নিচে নেমে আসতে রাজি হয়। এরপর তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগেই এই কিশোর ব্লেড দিয়ে আঘাত করে নিজেকে রক্তাক্ত করে।
শনিবার বিকালে নির্মাণ কাজের জন্য তৈরি করা অস্থায়ী সিঁড়ি বেয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানা ভবনের তিনতলার সানসেটে উঠে আত্মহত্যার চেষ্টা করা ওই ছাত্র।
ওই ছাত্রে র মা এবং বন্ধুর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এর আগেও ব্লেড দিয়ে আঘাত করে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিল সে।
তার মায়ের ধারণা, এসএসসি পরীক্ষা সামনে চলে আসায় মোবাইল ব্যবহার কমানোর জন্য তাকে শাসানো হয়।এ কারণে হয়তো ছেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
তবে ওই ছাত্রের সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সুইসাইড নোটে পুলিশকে নিহত এক কিশোরীকে বিচার পাইয়ে দিতে অনুরোধ করেন।
ওই কিশোরীকে নিজের প্রেমিকা পরিচয় দিয়ে কিশোরটি লেখে- ২০২০ সালে ওই মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। গত রমজানে তার সঙ্গে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করা হয়। এরপর তার বাবা-মায়ের সংসার ভেঙে যায়। পারিবারিক কারণে ওই কিশোরী আত্মহত্যা করেছে।
মেয়েটির বাড়ি নারায়ণগঞ্জে উল্লেখ করে ওই ছাত্র লিখেন- ‘যাদের কারণে মেয়েটি পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে সে অনেকের কাছে ধরনা দিয়েছে। কিন্তু কেউই তাকে সহযোগিতা করেনি। মেয়েটিকে বিচার পাইয়ে দিতে না পারায় সেও পৃথিবী ছেড়ে যাচ্ছেন বলে সুইসাইড নোটে উল্লেখ করে সে।
ওই কিশোরীর মৃত্যুর বিষয়টি সামনে আনার জন্য থানা ভবনকে সুইসাইডের জন্য বেছে নেন বলে দাবি করে এ কিশোর। এসব বিষয় নিয়ে হাসপাতালেই কথা বলেন সে।
এদিকে সুইসাইড নোটে উল্লেখ করা মেয়েটির মৃত্যুর ঘটনাটি বেশ ভয়াবহ। যদি সেটি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে ওই ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ওই ছাত্রের আত্মহত্যা চেষ্টার আসল কারণ খুঁজে বের করার দাবি সচেতন মহলের।
সুইসাইড নোটে উল্লেখ করা বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ওই কিশোর মানসিক সমস্যায় আছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুনিরুল গিয়াস।
