Thursday, July 30

খিলগাঁওয়ে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে হাবিবের বিরুদ্ধে জিডি

**ঢাকা:** রাজধানীর খিলগাঁওয়ের উত্তর গোড়ান আদর্শবাগ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ভবন সংস্কারের নামে অনিয়মের অভিযোগ এনে খিলগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন সাংবাদিক **সাইমুর রহমান মিলন**।

জিডিতে তিনি অভিযোগ করেন, গত **৩০ জুলাই ২০২৬** রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে ৩৫১ উত্তর গোড়ান আদর্শবাগের নিজ বাসায় অবস্থানকালে ভবনের মর্গেজধারী বাসিন্দা **হাবিবুর রহমান**, ল্যান্ড ওনার **টিএম জাকারিয়া (তপন)** এবং তাদের সঙ্গে থাকা ১০–১২ জন ব্যক্তি তার বাসার সামনে এসে তাকে, তার বড় ভাই আনিসুর রহমান সোহাগ ও বাবা রিন্টু মিয়াকে প্রকাশ্যে চাঁদা দাবি, গালাগালি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।

জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগে গত **১৫ জুন ২০২৬** একই ব্যক্তিরা ২০–২৫ জনকে নিয়ে তাদের বাসায় গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা **৯৯৯**-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ভবনের বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দেয়।

সাইমুর রহমানের অভিযোগ, ভবনের সংস্কার কাজের জন্য কোনো অনুমোদিত বাজেট, কোটেশন, বিল বা ভাউচার উপস্থাপন না করেই তার কাছে **৫০ হাজার টাকা** দাবি করা হয়। তিনি দাবি করেন, হিসাব চাইলে তা দেখানো হয়নি এবং টাকা না দিলে ফ্ল্যাটে থাকতে দেওয়া হবে না বলে একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিফটের পুরোনো যন্ত্রাংশ সার্ভিসিং করে নতুন যন্ত্রাংশের বিল দেখানো হয়েছে, যার অডিও প্রমাণ তার কাছে রয়েছে।

জিডিতে আরও বলা হয়, একই দিন ভবনের দারোয়ান জনিকেও হাবিবুর রহমানের ছেলে তপু ও টিএম জাকারিয়ার ছেলে অমি মারধর, গালাগালি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে তাকে চাকরি ছেড়ে দিতে চাপ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

সাংবাদিক সাইমুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, ভবনের ছাদে নিয়মিত বহিরাগতদের আড্ডা, নারী বাসিন্দাদের হয়রানি এবং ভবন সংস্কারের আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এছাড়া তার অভিযোগ, ভবনের নিচতলায় গ্যারেজ নির্মাণের সময় তার গ্যারেজের একটি অংশ দখল করা হয়েছে এবং ভবনের পানির ট্যাংকের প্রবেশপথসহ বিভিন্ন নির্মাণসংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন করা হয়নি।

জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি পেশায় সাংবাদিক হওয়ায় প্রায়ই গভীর রাতে বাসায় ফিরতে হয়। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর কারণে তিনি, তার বাবা, বড় ভাই এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ অবস্থায় বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তিনি পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

**এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।**

Leave a Reply