Thursday, May 28

প্রেসিডিয়ামে মায়া, কামরুল লিটন, জাহাঙ্গীর বহিষ্কার


আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম ও এডভোকেট কামরুল ইসলামকে। এ ছাড়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তির দায়ে মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে পৃষ্ঠা ১৭ কলাম ১
গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার প্রাথমিক সদস্য পদও বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছে। গতকাল আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত দলের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন শেখ হাসিনা। শুরুতেই বক্তব্য রাখেন তিনি। এ সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি দেশের ব্যাপক উন্নয়নের পরও যারা দেশে-বিদেশে অপপ্রচার চালাচ্ছে এমন লোকজনের বিরুদ্ধে দলের নেতাকর্মীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, এত উন্নয়নের পরও কিছু মানুষ বিদেশে ও দেশে বসে অপপ্রচার করছে। এদের বিরুদ্ধে সচেতন হতে হবে, অপপ্রচারের জবাব দিতে হবে। এদিকে বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন নিয়ে সহিংসতা, দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, শৃঙ্খলাপরিপন্থি কর্মকাণ্ড এবং চেইন অব কমান্ড নষ্ট হওয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয় বলে জানান উপস্থিত নেতারা। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, দলটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৯ জনের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সভাপতিমণ্ডলী। ২০১৯ সালের জাতীয় সম্মেলনের পর ঘোষিত কমিটিতে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন ১৭ জন। তারা হলেন- সাজেদা চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফর উল্লাহ, সাহারা খাতুন, মোশাররফ হোসেন, পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য, নুরুল ইসলাম নাহিদ, আবদুর রাজ্জাক, মুহাম্মদ ফারুক খান, রমেশ চন্দ্র সেন, আবদুল মান্নান, আবদুল মতিন খসরু, শাজাহান খান, আব্দুর রহমান ও জাহাঙ্গীর কবির নানক। চলতি বছরের ১৪ই এপ্রিল করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান এডভোকেট আবদুল মতিন খসরু। এর আগে ২০২০ সালের ১৩ই জুন মারা যান মোহাম্মদ নাসিম। ওই বছরের ১০ই জুলাই মারা যান এডভোকেট সাহারা খাতুন। এতে শূন্য হয় সভাপতিমণ্ডলীর তিনটি পদ। শূন্য পদেই দায়িত্ব পেলেন তারা। এদিকে বৈঠকে উপস্থিত নেতারা বলেন, সবকিছু ছাপিয়ে বৈঠকের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হয়ে দাঁড়ায় তৃণমূলের অন্তহীন অভিযোগ। কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকের আগে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে তৃণমূলের হাজার হাজার অভিযোগ এসে জমা হয়। তিন নম্বরে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে এসব অভিযোগ জমা হয়েছে। এসব অভিযোগগুলো মূলত মনোনয়ন বিতর্ক নিয়ে। মনোনয়ন বিতর্ক এবং মনোনয়ন বাণিজ্য নিয়ে। যেভাবে বিএনপি-জামায়াতকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে কিংবা বিতর্কিত ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে, সেই সম্পর্কে অভিযোগ করেছে তৃণমূল। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রত্যেকটি অভিযোগ গুরুত্বসহকারে বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছেন। এ কারণেই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর এই অভিযোগগুলোকে বাছাই-যাচাই করছে এবং যে সাংগঠনিক সম্পাদকের এলাকার মধ্যে এটি পড়ছে তাকে অভিযোগের সংক্ষিপ্তসার দেয়া হচ্ছে। শুধুমাত্র মনোনয়ন বাণিজ্য নিয়েই নয়, তৃণমূল অনেক ধরনের অভিযোগই এখন করছে। এরমধ্যে রয়েছে- সম্মেলন যথা সময়ে না করা। সম্মেলনে এমপিদের অনুগত ব্যক্তি এবং অনুপ্রবেশকারী হাইব্রিডদের কমিটিতে রাখা, বিতর্কিত ব্যক্তিদের দলে ভেড়ানো এবং দলের শৃঙ্খলা এবং আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ড করা। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে, পাঁচ হাজারের বেশি অভিযোগ আওয়ামী লীগের সভাপতির কাছে জমা হয়েছে। এই অভিযোগগুলো কীভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে সেটি বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকের শুরুর বক্তব্যে শেখ হাসিনা আরও বলেন, কিছু মানুষ মিটিং করছে কি করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরানো যায়। তিনি বলেন, জনগণের শক্তিই আওয়ামী লীগের শক্তি। আমরা জনগণের সেবায় কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশ এখন বিশ্বে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছে গেছে। আমরা জনগণের কল্যাণে কাজ করছি। উন্নয়নের ছোঁয়া গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ উন্নয়নের ছোঁয়া পেয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিএনপিকে কোন আশায় মানুষ ভোট দেবে? পলাতক আসামি যে দল চালায় জনগণ তাদেরকে কি আশায় ভোট দেবে? প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরা দেশের গরিবের টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করেছে। বিদেশে বসে আরাম আয়েশে আছে। তাদের এই আয়ের উৎস কি? তিনি দেশের সুবিধাভোগী স্বার্থান্বেষী মহলের সমালোচনা করে বলেন, কিছু মানুষ আছে যারা হাজার অপরাধকারীকেও অপরাধী হিসেবে দেখে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললেও তারা দুর্নীতির জন্য সাজাপ্রাপ্তদের পক্ষ নেয়। যারা হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে, এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছে তাদের জন্যই তারা মায়াকান্না করছে। শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া ঘোষণা দিয়েছিল যে, আমি প্রধানমন্ত্রী কেন বিরোধীদলীয় নেতাও হতে পারবো না, শত বছরেও ক্ষমতায় আসতে পারবো না। এসব ঘোষণার পরই গ্রেনেড হামলা হয়েছিল।

Leave a Reply