Sunday, June 28

তানোরে ৩০ বছর ধরে পুকুর বেদখল

রাজশাহীর তানোরে ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত সরকারি পুকুর মামলার অজুহাত দেখিয়ে ৩০ বছর ধরে ভোগ-দখল করছেন জালিয়াত চক্রের মূলহোতা রিয়াজ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ কারণে সরকার প্রতি বছর মোটা অঙ্কের টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। গ্রামবাসী অবিলম্বে এই পুকুরটি উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অভিযোগ ও তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের মহাদেবপুর মৌজায় ১ নম্বর সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত আরএস ৫৭৬ নম্বর দাগে ২৯ শতক আয়তনের একটি পুকুর রয়েছে। ওই পুকুর মহাদেবপুর গ্রামের মৃত নাসির উদ্দিন স্থানীয় তহসিল অফিস থেকে বন্তবস্তের নামে ভোগ-দখল করেন।

এমন অবস্থায় বাবা নাসির উদ্দিনের মৃত্যু হলে তার ছোট ছেলে ময়েজ উদ্দিন ওই পুকুর ভোগদখল করে আসছেন বলে দাবী করে বৃহস্পতিবার বড়ভাই রিয়াজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে এসিল্যান্ড বরাবর অভিযোগ করেছেন।

ময়েজ উদ্দিনের বড়ভাই রিয়াজ উদ্দিনের ভাষ্য, আগে পুকুরটি খাস ছিল। স্বাধীনতার পর প্রায় ৩০ বছর ধরে তার বাপ-দাদা পুকুরটি ভোগ-দখল করেন। পরে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে এককালিন বন্দোবস্ত নেন তিনি। এরপরও খারিজের জন্য ভূমি অফিসে আবেদন করা হয়। কিন্তু তাকে খারিজ দেওয়া হয়নি। এ জন্য কোর্টে মামলা করা আছে। তবে মামলা সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চাইলে তা আদালতে রয়েছে বলে জানান তিনি।

এখন রিয়াজ উদ্দিনের দাবি, পুকুরটি ভরাট হবার কারণে ধান চাষাবাদ করা হয়েছে। তার এমন বক্তব্য এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষণ রয়েছে।

এ বিষয়ে অত্র ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বি ফরাদ বলেন, জানামতে পুকুরটি সরকারি খাস। মামলা আছে কি না জানা নেই। তবে, এ অবস্থায় ওদের দুই ভাইয়ের কাউকে পুকুর দেওয়া উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে পুকুরটি নিয়ে ১৪৪ ধারা জারি করা উচিত। নইলে দুইভাইয়ের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন এই চেয়ারম্যান।

উপজেলা ভূমি অফিসের সার্টিফিকেট সহকারী দায়িত্বপ্রাপ্ত নাজির শাহিনূর রহমান জানান, পুকুরের সব ফাইল দেখভাল করলেও অনুমতি ছাড়া তিনি সাংবাদিকদের তথ্য সরবরাহ করতে পারেন না। বিষয়টি নিয়ে তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এসিল্যান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

তানোর সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্বীকৃতি প্রামানিক জানান, তিনি বিষয়টি নিয়ে কিছু জানেন না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply