
ভৈরবে মাদকের ঘটনায় র্যাবের হাতে গ্রেফতার দুই আসামির কাছ থেকে এক লাখ টাকা আদায়ের জন্য পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) কায়সার আহমেদ বেদম পিটিয়েছেন। তবে কায়সার আহমেদ পেটানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গ্রেফতার দুই আসামি হলো রশিদ ও তৌহিদুল ইসলাম।
রশিদ পুলিশের সোর্স হিসেবে ভৈরবে পরিচিত। তার বাবার নাম মৃত আ. হেকিম ও বাসা বাসস্ট্যান্ডের নিকটে কমলপুর এলাকায়। অপর আসামি তৌহিদুল ইসলামকে একইভাবে টাকা আদায়ের জন্য এক সঙ্গে পেটানো হয়।
জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের র্যাব সদস্যরা বৃহস্পতিবার দুপুরে ১০ কেজি গাঁজাসহ ওই দুই আসামিকে শহরের নিউটাউন এলাকা থেকে আটক করে। এদিন সন্ধ্যার পর র্যাবের নায়েব সুবেদার বাদী হয়ে দুজনের বিরুদ্ধে ভৈরব থানায় মামলা করেন। মামলা করার সময় গাঁজাসহ দুজনকে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়। এ মামলার তদন্ত দেওয়া হয় পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) কায়সার আহমেদকে। রাতে মামলার তদন্তভার নেওয়ার পর গভীর রাতে দুই আসামিকে হাজতখানা থেকে বের করে তার রুমে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে বেদম পেটাতে থাকে।
শুক্রবার সকালে থানা হাজতে এই প্রতিনিধির কথা হয় আসামি রশিদের। তিনি বলেন, পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) কায়সার তাকে লাঠি দিয়ে গতরাতে পিটিয়েছে।
রশিদের স্ত্রী জ্যোৎস্না বেগম অভিযোগ করে বলেন, রাত সাড়ে ১২টায় আমার স্বামী মোবাইলে জানায় এক লাখ টাকার ব্যবস্থা করতে। এত রাতে এত টাকা আমি কোথা থেকে দেব। পরে আমার দেবর সাগরকে দিয়ে পাঁচ হাজার টাকা থানায় পাঠাই। কিন্তু এ টাকা পুলিশ না নিয়ে আমার স্বামীকে বেধম পিটিয়েছে। আসামি তৌহিদের বোন রুপা বেগম একই অভিযোগ করেন।
পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) কায়সার আহমেদ বলেন, দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজতখানা থেকে বের করে আমার রুমে রাতে নিয়ে আসি। রশিদ পুলিশ পরিচয়ে মাদক ব্যবসা করে যা আমি জানতে পারি। পেটানোর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক বলে তিনি দাবি করেন।
ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, আসামিদের পেটানোর অভিযোগ সত্য হলে আমি অফিসিয়ালি ব্যবস্থা নেব।
