Friday, May 22

পা দিয়ে লিখেই এইচএসসি পাশ

জন্মগতভাবে দুই হাত ও একটি পা নেই সিরাজগঞ্জের বেলকুচির ফজলুর। এক পা দিয়ে লিখেই এবার এইচএসসি পরীক্ষায় ২.৭৫ পেয়ে পাশ করেছেন।

সে দৌলতপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল। ফজলু বেলকুচি উপজেলার ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের চরগোপালপুর গ্রামের সাহেব আলী ছেলে।

জানা যায়, দিনমজুর পরিবারের সন্তান ফজলু প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী। বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার হেঁটে মিটুয়ানী উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতো ফজলু। তাকে স্কুল নিয়ে যেত ছোট বোন আসমা। সেখান থেকেই এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ- ৩.৫৬ পেয়েছিল। এছাড়া জেএসসিতে ৩.৭৫ এবং পিইসিতে ২.১৭ পেয়েছিল।

২০১৭ সালে ফজলুর শারীরিক এ সমস্যার কথা সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস ফেসবুকে তুলে ধরেন। পরে বিভিন্ন ব্যক্তির সহায়তায় ৭৬ হাজার টাকা সংগ্রহ করে দিয়েছিলেন মামুন বিশ্বাস। সেই টাকা দিয়েই লেখাপড়া করছে।

ফজলুর বাবা সাহেব আলী বলেন, দিনমজুরি করে কোনোরকম সংসার চালে। এর মধ্যে লেখাপড়ার খরচ জোগাব কীভাবে। টাকার অভাবে কোনোদিন প্রাইভেট পড়াতে পারিনি, বইও কিনে দিতে পারিনি। ফজলুর নামে একটি প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড আছে। তা দিয়েই ওর লেখাপড়ার খরচ চলে। ৯ সদস্যের সংসার আমার একার উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল।

ফজলুর মা সারা খাতুন বলেন, ২০০০ সালে ফজলু বিকলাঙ্গ অবস্থায় জন্ম নেয়। ছোট মেয়ে আসমা ফজলুকে লেখাপড়ায় সাহায্য করে। কিছু কিছু কাজ নিজেই করতে পারে। কিছু কাজে তাকে সাহায্য করতে হয়।

এ বিষয়ে ফজলু বলেন, অনেক কষ্টে এক পা দিয়ে লাফিয়ে স্কুলে গিয়েছি। বই, খাতা, কলম আসমা নিয়ে যেত। তবে সে না গেলে আমার স্কুলে যাওয়া হতো না। এই রেজাল্ট করতে পেরে আমি খুশি। এছাড়া ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করতে চাই। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।

এ বিষয়ে দৌলতপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মাসুদ রানা জানান, ফজলু লেখাপড়ায় ভালো, স্মরণশক্তি প্রখর। এ কারণে প্রতিবন্ধকতা তার চলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। আশা করি আগামীতে আরও ভালো করবে ফজলু।

এ ব্যাপারে বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনিছুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ফজলুর এ সাফল্যে আমরাও আনন্দিত। সে আবেদন করলে উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে আর্থিক সহায়তা কিংবা অন্যান্য সরকারি সুযোগ সুবিধা দেওয়া হবে।

Leave a Reply