
গাজীপুরে ঝালমুড়ির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পর পুকুরের পানিতে ফেলে চালককে হত্যার ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ও বুধবার অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- কুমিল্লা জেলার লক্ষ্মীপুর গুচ্ছগ্রামের আলমগীর (৩০), পাবনা জেলার আতাইকোলা বাউখোলার ঘোনাপাড়া গ্রামের শামসুল (৩২), বরিশালের উজিরপুর বড়তা গ্রামের হাফিজুর রহমান টুকু হাফিজ, একই জেলার গাববাড়ী সরদারবাড়ী গ্রামের আল-মামুন সরদার আল আমীন এবং নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া পালোরা গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৩৪)।
পুলিশ জানায়, ভিকটিম হুমায়ূন গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে তার নিজের অটোরিকশা নিয়ে সালনা ব্রিজের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য আল-আমিন ছদ্মবেশে ঝালমুড়ি বিক্রেতা সেজে তার কাছে মুড়ি বিক্রি করেন। এ সময় ঝালমুড়ির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ (লিকুইড) মিশিয়ে দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ছিনতাইকারী চক্রের অপর সদস্য শামসুল ও টুকু যাত্রী হিসেবে অটোরিকশার কাছে এসে চালক হুমায়ূনকে নিয়ে বিভিন্ন স্থান ঘুরে কোনাবাড়ি ফ্লাইওভারের কাছে আসলেই হুমায়ূন অচেতন হয়ে পড়েন। এ সময় ছিনতাইকারী শামসুল অটোরিকশার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।
অপরদিকে টুকু এবং মূলহোতা সিএনজিচালক আলমগীর অটোরিকশাটি অনুসরণ করে কাশিমপুর লোহাকৈর মাজার এলাকায় পৌঁছলে হুমায়ূনের পকেট থেকে টাকা ও মোবাইল নিয়ে তাকে রাস্তায় পাশে রেখে অটো নিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে রাত ১২টার দিকে অবস্থা দেখতে ছিনতাইকারী আলমগীর লোহাকৈর ফিরে এসে দেখে ভিকটিম চায়ের দোকানের সামনে সিগারেট খাচ্ছে। এ সময় ছিনতকাইকারীদের ভিকটিম হুমায়ূন চিনে ফেললে ঝামেলা হতে পারে ভেবে কৌশলে ডেকে পুকুরঘাটে নিয়ে ধাক্কা মেরে পানিতে ফেলে পালিয়ে যায়। ঘুমের ঘোরে থাকায় হুমায়ূন পুকুর থেকে উঠতে না পেরে পানিতে ডুবে মারা যায়।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার ইলতুৎমিশ জানান, নিহত অটোরিকশাচালক হুমায়ূন রংপুর জেলা সদরের কাটাবাড়ী এলাকার মৃত রুস্তম আলীর ছেলে। সে পরিবার নিয়ে সালনা দেশিপাড়া এলাকায় বাসা ভাড়া থেকে অটোরিকশা চালাতো এবং তার স্ত্রী সেভেনা পারভীন স্থানীয় একটি গার্মেন্টসে চাকরি করে। হুমায়ূন অটোরিকশা নিয়ে বেরিয়ে বাসায় না ফেরায় তার স্ত্রী সেভেনা ১১ ফেব্রুয়ারি সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
পরবর্তীতে ১২ ফেব্রুয়ারি কাশিমপুরের লোহাকৈর মাজারের পুকুর থেকে অজ্ঞাত একটি মরদেহ উদ্ধার করে। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে মরদেহটির পরিচয় বের করে পবিরারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তথ্যসূত্র ধরে কোনাবাড়ী এলাকা থেকে আলমীগর ও শামসুলকে, বরিশালের উজিরপুর থেকে টুকু, আল আমিন এবং মেট্রোপলিটন সদর থেকে রফিকুলকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।
