
আসন্ন জাতীয় বাজেট সামনে রেখে দুই শতাধিক প্রস্তাবনা দিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। বাজেটকে ব্যবসাবান্ধব করতে আয়কর, ভ্যাট ও শুল্কসংক্রান্ত এসব প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যক্তির করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো, উৎসে কর কমানোসহ করোনা-পরবর্তী ক্ষতির পরিপ্রেক্ষিতে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া বেগবান করা, বন্ধ বা ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা, শিল্পের কাঁচামাল ও ভোগ্যপণ্য আমদানি নির্বিঘ্ন করা এবং সাপ্লাই চেইন অক্ষুণ্ন রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের বে-টার্মিনালসহ বেশ কিছু মেগা প্রকল্পের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখার আহবান জানানো হয়েছে। আগামী অর্থবছরের (২০২২-২৩) বাজেট সামনে রেখে চেম্বারের প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে শুল্কসংক্রান্ত ৮৪, ভ্যাটসংক্রান্ত ২২ এবং আয়করসংক্রান্ত ১০২টিসহ মোট ২০৮টি প্রস্তাবনা।
চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, প্রতি বছরই বাজেট প্রণয়নের আগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আমাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এবারও করেছেন। আমরা ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির জন্য এনবিআরকে কিছু প্রস্তাবনা দেই। এবারও দিয়েছি দুই শতাধিক প্রস্তাবনা। এনবিআর এসব প্রস্তাব বিবেচনা করে থাকে। কিছু বাস্তবায়ন করে। কিছু করে না। আশা করছি, অন্যবারের চেয়ে বেশি প্রস্তাবনা বাস্তবায়িত হবে।
চেম্বার সূত্র জানায়, দুই শতাধিক প্রস্তাবনা দেওয়া হলেও এবারের বাজেটে মূল ১৪টি সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বৃহত্তর চট্টগ্রামে গভীর সমুদ্রবন্দর, মহেশখালী পাওয়ার হাব, বঙ্গবন্ধু টানেল, বে-টার্মিনাল, বিমানবন্দর এক্সপ্রেসওয়ে, মীরসরাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর ইত্যাদি মেগা প্রকল্প দ্রুতগতিতে এবং নির্দিষ্ট সময়ে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আসন্ন বাজেটে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা, মহামারিজনিত ক্ষতির পরিপ্রেক্ষিতে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া বেগবান করা, বন্ধ বা ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা, শিল্পের কাঁচামাল ও ভোগ্যপণ্য আমদানি নির্বিঘ্ন করা এবং সাপ্লাই চেইন অক্ষুণ্ন রাখা, পণ্য বহুমুখীকরণসহ রপ্তানি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যকে প্রাধান্য দেওয়া, অভ্যন্তরীণ সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা, দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা প্রদান ও নতুন শিল্প স্থাপন উৎসাহিত করা, কর্মক্ষম জনশক্তিকে কাজে লাগাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, শিল্প উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা। সুপারিশগুলোর মধ্যে আছে প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া, শিল্পায়নের ক্ষেত্রে অর্থ প্রবাহ বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট নীতিমালা সহজীকরণ, কর ব্যবস্থাপনা আরও বেশি ব্যবসাবান্ধব ও জনবান্ধব করা, পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম জোরদার করা, দেশে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম জানান, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় ব্যক্তি করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। বিভিন্ন কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এই সীমা তিন লাখ টাকা থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা, পরবর্তী তিন লাখ টাকা পর্যন্ত পাঁচ শতাংশ, পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ১০ শতাংশ, ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত ১৫ শতাংশ, সাত লাখ টাকা পর্যন্ত ২০ শতাংশ এবং এর বেশি হলে ২৫ শতাংশ হারে কর নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। একইভাবে করমুক্ত আয়সীমা মহিলা এবং ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে আয়করদাতাদের ক্ষেত্রে তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে চার লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে চার লাখ ৫০ হাজার টাকার পরিবর্তে পাঁচ লাখ ৫০ হাজার টাকা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে চার লাখ ৭৫ হাজার টাকার পরিবর্তে পাঁচ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। আরও জানান, পাবলিকলি ট্রেডেড নয় এরূপ কোম্পানির করহার ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৭.৫ শতাংশ এবং পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানির করহার ২২.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। সারচার্জের ক্ষেত্রে নিট পরিসম্পদের পরিমাণ তিন কোটি টাকার পরিবর্তে পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত শূন্য করার প্রস্তাব করেছে চেম্বার। পরবর্তী পাঁচ কোটি থেকে ১০ কোটি ৫ শতাংশ, ১০ কোটি থেকে ২০ কোটি ১০ শতাংশ, ২০ কোটি থেকে ৫০ কোটি ১৫ শতাংশ এবং ৫০ কোটির ঊর্ধ্বে ২০ শতাংশ সারচার্জ নির্ধারণের বিষয় বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
