
গন্ধগোকুল। ইংরেজি নাম-এশিয়ান পাল্ম সিভেট; বৈজ্ঞানিক নাম-প্যারাডক্সুরাস হারমাফ্রোডিটাস। ‘সাধারণ বা এশীয় তাল খাটাশ’, ‘ভোন্দর’, ‘নোঙর’,‘সাইরেল’ বা ‘গাছ খাটাশ’ নামে পরিচিত।
চট্টগ্রামের স্থানীয় ভাষায় বাঘডাশ বলে ডাকা হয়। তালের রস বা তারি পান করে বলে তাডড়ি বা টডি বিড়াল নামেও পরিচিত। পুরোনো গাছ, বনজঙ্গল কমে যাওয়ায় দিন দিন এদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
রোববার চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বিরল প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় এবং বর্তমানে অরক্ষিত প্রাণী হিসেবে বিবেচিত এমন একটি নারীজাতীয় গর্ভবতী গন্ধগোকুল উদ্ধার করেছে স্থানীয় বন বিভাগ। ওই দিন বিকালে উপজেলার ছিপাতলী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বেলাল মেম্বারের বসতবাড়ি থেকে এই গন্ধগোকুলটি উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধারপরবর্তী রেঞ্জের আওতাধীন হাটহাজারী পৌরসভার পশ্চিমে গহিন জঙ্গলে অবমুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাটহাজারী ১১ মাইলস্থ স্থানীয় বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা ফরেস্টার মো. ফজলুল কাদের চৌধুরী।
তিনি বলেন, ছিপাতলী ইউনিয়নের বেলাল মেম্বারের বসতবাড়িতে প্রায় ১৬ কেজি ওজনের নারীজাতীয় গর্ভবতী গন্ধগোকুলটি বাড়িতে ঢুকে আর বের হতে পারেনি। নিশাচর এই প্রাণীটি হঠাৎ দিনের বেলায় দেখতে পেয়ে ওই এলাকার উৎসুক জনসাধারণ কিছুটা আতঙ্কিত হয় এবং ভয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে গন্ধগোকুলকে ধাওয়া দিতে থাকে।
এ সময় স্থানীয় মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে।
খবর পেয়ে ‘স্নেক রেসকিউ টিম বাংলাদেশ’ (এসআরটিবিডি) নামে একটি সংগঠনের সদস্য সিদ্দিকুর রহমান রাব্বির সহযোগিতায় প্রাণীটি উদ্ধার করে রেঞ্জ অফিসে নিয়ে আসেন। পরে বিরল প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় এবং বর্তমানে অরক্ষিত প্রাণী হিসেবে বিবেচিত গন্ধগোকুলটি পৌরসভার পশ্চিমে বন বিভাগের আওতাধীন গহিন জঙ্গলে অবমুক্ত করা হয়।
