Tuesday, May 19

ইসলাম

রোগব্যাধি, দুঃখ ও আঘাতের ক্ষতি আল্লাহ পুষিয়ে দেন

রোগব্যাধি, দুঃখ ও আঘাতের ক্ষতি আল্লাহ পুষিয়ে দেন

ইসলাম
  রোগাক্রান্ত হওয়া, কষ্টে পতিত হওয়া খারাপ মানুষ হওয়ার প্রমাণ নয়। কেননা মহানবী (সা.)ও অসুস্থ হতেন। মাসরুক (রহ.) বলেন, আয়েশা (রা.) বলেছেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চেয়ে বেশি রোগ যন্ত্রণার কষ্ট অন্য কোনো ব্যক্তির ওপর দেখিনি। (মুসলিম, হাদিস : ৬৪৫১) অসুস্থতা গুনাহ মাফ হওয়ার কারণ। রোগের মাধ্যমে গাছের পাতা ঝরার মতো গুনাহ ঝরে যায়। আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এলাম। তখন তিনি জ্বরাক্রান্ত ছিলেন। আমি তাঁকে আমার হাতে স্পর্শ করে বললাম, হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! আপনি তো ভীষণভাবে জ্বরাক্রান্ত। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, হ্যাঁ, আমি এ পরিমাণ জ্বরে ভুগছি, যে পরিমাণ তোমাদের দুজনের হয়ে থাকে। তিনি বলেন, আমি বললাম, এ কারণেই আপনার জন্য দ্বিগুণ প্রতিদান আছে। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, কোনো মুসলিম ব্যক্তির জ্বর কিংবা অন্য কোনো কারণে বিপদ আপতিত হলে তার বিনিময়ে আল্লাহ তাআ...
আত্মমর্যাদাবোধ গুনাহ থেকে দূরে রাখে

আত্মমর্যাদাবোধ গুনাহ থেকে দূরে রাখে

ইসলাম
আত্মমর্যাদাবোধ ও অহংকার বলতে শুধু দাম্ভিকতা বোঝানো হয় না। বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে এগুলো আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম। তবে তা হতে হবে মহান আল্লাহর নির্দেশিত পদ্ধতিতে। জাবির (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, এমন কিছু আত্মসম্মানবোধ আছে, যা মহা মহিয়ান আল্লাহ তাআলা পছন্দ করেন, আবার তা (আত্মসম্মানবোধ) এমনও কিছু আছে, যা মহান মহিয়ান আল্লাহ তাআলা অপছন্দ করেন।   অনুরূপ এমন কিছু অহং (বাহাদুরি) আছে, যা মহান মহিয়ান আল্লাহ তাআলা পছন্দ করেন এবং তা (বীরত্ব) এমনও কিছু আছে, যা মহান মহিয়ান আল্লাহ তাআলা অপছন্দ করেন। মহান মহিয়ান আল্লাহ তাআলার পছন্দনীয় আত্মসম্মানবোধ হলো, সন্দেহ ও বদনামের ক্ষেত্রে (আত্মসম্মানবোধ)। আর মহান মহিয়ান আল্লাহ তাআলার অপছন্দনীয় আত্মসম্মানবোধ হলো সন্দেহ ও বদনামের ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য স্থানের (সম্মানবোধ)। মহান মহিয়ান আল্লাহ তাআলার পছন্দনীয় অহং হলো জিহাদের সময় ও দান করার সময় বাহ...
নবীজির দৃষ্টিতে যারা নিকৃষ্ট মানুষ

নবীজির দৃষ্টিতে যারা নিকৃষ্ট মানুষ

ইসলাম
জীবনে বন্ধু চয়নের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। নিকৃষ্ট মানুষ থেকে দূরে থাকা জরুরি। অন্যথায় নিকৃষ্ট মানুষের সংস্পর্শে নিজেদের আমল ও চরিত্র ধ্বংস হতে পারে। আজ আমরা আলোচনা করব এমন কিছু অভ্যাস নিয়ে, যে অভ্যাসের মানুষ নবীজি (সা.)-এর চোখে নিকৃষ্ট ছিল।   দুমুখো মানুষ : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, মানুষের মধ্যে দুই রূপধারী লোক সবচেয়ে নিকৃষ্ট। যে এই দলের নিকট আসে এক রূপ নিয়ে এবং অন্য দলের নিকট আসে অন্য আরেক রূপ নিয়ে। (মুসলিম, হাদিস : ৬৫২৪)। এ ধরনের মানুষ আমাদের চারপাশে অনেক পাওয়া যায়, যারা আমাদের বন্ধুর বেশে ক্ষতি করে বেড়ায়। এদের থেকে দূরে থাকা উচিত। যাদের অনিষ্টের ভয়ে মানুষ তাদের থেকে দূরে থাকে : আমাদের আশপাশে এমন অনেক মানুষ পাওয়া যায়, যাদের অনিষ্টের ভয়ে তাদের নিকটাত্মীয়রাও তাদের থেকে দূরে সরে থাকে। রাসুল (সা.) এদের থেকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। আয়েশা (রা.) ...
ভালো কাজে পাপ মোচন হয়

ভালো কাজে পাপ মোচন হয়

ইসলাম
  নিঃসন্দেহে ভালো কাজগুলো মন্দ কাজগুলোকে মিটিয়ে দেয় -সুরা হুদ, আয়াত : ১১৪ মানুষ মাত্রই ভুল করে, গুনাহে লিপ্ত হয়। এটা মানুষের স্বভাবজাত প্রবণতা। নবী-রাসুলরা ছাড়া সব মানুষই পাপপ্রবণ, তারা ইচ্ছা-অনিচ্ছায় পাপে লিপ্ত হয়েই যায়। তাই মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য পাপমোচনেরও অনেক রাস্তা খোলা রেখেছেন।   জীবনকে পাপমুক্ত রাখতে প্রথমত পাপ থেকে বিরত থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে, দ্বিতীয়ত বেশি বেশি নেক আমল তথা ভালো কাজ করতে হবে। কারণ ভালো কাজের মাধ্যমে পাপ মোচন হয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘এবং আপনি নামাজ প্রতিষ্ঠা করুন দিনের দুই প্রান্তে ও রাতের কিছু অংশে; নিঃসন্দেহে ভালো কাজগুলো মন্দ কাজগুলোকে মিটিয়ে দেয়; এটা হচ্ছে একটি (ব্যাপক) উপদেশ, উপদেশ মান্যকারীদের জন্য। ’ (সুরা হুদ, আয়াত : ১১৪) উল্লিখিত আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘ভালো কাজগুলো মন্দ কাজগুলোকে মিটিয়ে ...
সন্দেহ সব শেষ করে দেয়

সন্দেহ সব শেষ করে দেয়

ইসলাম
পরিবার, সংসার ও প্রতিষ্ঠান—সব তছনছ হয়ে যায় সন্দেহে। ইসলামে কুধারণা পাপ। মুমিনদের আদেশ দেওয়া হয়েছে কারো ব্যাপারে মন্দ ধারণা না করার জন্য। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা, অধিক পরিমাণ অনুমান থেকে বেঁচে থেকো। কোনো কোনো অনুমান গুনাহ। ’ (সুরা : আল-হুজুরাত, আয়াত : ১২)   অন্যদিকে নিজের ব্যাপারে কুধারণা তৈরি হয়—এমন কাজ করতে মুমিনদের নিষেধ করা হয়েছে। সাফিয়্যাহ বিনতে হুয়াই (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) ইতিকাফ অবস্থায় ছিলেন। আমি রাতে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এলাম। অতঃপর তাঁর সঙ্গে কিছু কথা বললাম। অতঃপর আমি ফিরে আসার জন্য দাঁড়ালাম। তখন আল্লাহর রাসুল (সা.)-ও আমাকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমার সঙ্গে ওঠে দাঁড়ালেন। তাঁর বাসস্থান ছিল ওসামা ইবনে জায়েদের বাড়িতে। এ সময় দুজন আনসারি সে স্থান দিয়ে অতিক্রম করল। তারা যখন নবী (সা.)-কে দেখল তখন তারা দ্রুততার সঙ্গে চলে যেতে লাগল। তখন নবী (সা.) বলেন, তোমরা এ...
পোশাক পরিধানে ইসলামের নীতিমালা

পোশাক পরিধানে ইসলামের নীতিমালা

ইসলাম
  মানুষের মৌলিক চাহিদার একটি হলো পোশাক। এটি মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পোশাকে মানুষের ব্যক্তির সঙ্গে সঙ্গে তার ধর্মীয় মূল্যবোধও ফুটে ওঠে। পোশাকের সঙ্গে মানুষের বহু ইবাদতও জড়িয়ে আছে। পোশাকের শিষ্টাচার লঙ্ঘনের কারণে মানুষের ওপর জান্নাত হারাম হওয়ার ঘোষণাও এসেছে, তাই প্রতিটি মুমিনেরই পোশাকের শিষ্টাচারের ব্যাপারে সচেতন হওয়া আবশ্যক। নিম্নে পোশাকের কিছু শিষ্টাচার তুলে ধরা হলো—   ডান দিক থেকে পরিধান করা :  প্রতিটি উত্তম কাজই ডান দিক থেকে শুরু করা সুন্নত। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা যখন পোশাক বা জুতা পরিধান করো এবং অজু করো, তখন ডান দিক থেকে শুরু করবে। ’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪১৪১) দোয়া পড়া : পোশাক পরিধানের সময় নবীজির শেখানো দোয়াটি পড়লে গুনাহ মাফ হওয়ার সুসংবাদ রয়েছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো কাপড় পরার সময় এ দোয়া পাঠ করবে তার আগ...
প্রতিবেশীকে সহযোগিতা করার পুরস্কার জান্নাত

প্রতিবেশীকে সহযোগিতা করার পুরস্কার জান্নাত

ইসলাম
  মহান আল্লাহ মানব জাতিকে সামাজিক প্রাণী হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। জীবনকে সুন্দর করে তুলতে তাদের যেমন পরিবার-পরিজন দিয়েছেন, দিয়েছেন প্রতিবেশীও। প্রতিটি মুমিনের ওপর তার পরিবার-পরিজনের যেমন কিছু হক আছে, তেমনি তার প্রতিবেশীরও কিছু হক আছে। প্রতিবেশীর অন্যতম হক হলো, তাকে কষ্ট না দেওয়া, তার ক্ষতি করার চেষ্টা না করা। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তির অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ না থাকে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। ’ (মুসলিম, হাদিস : ৭৬)   এর বিপরীতে, প্রতিবেশীকে সহযোগিতা করার পুরস্কার জান্নাত। অথচ আমাদের দেশের চিত্র ভিন্ন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, মানুষের প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকে না, ফলে তারা একে অপরের ক্ষতি করার চেষ্টা করে। কেউ কেউ ক্ষতি না করলেও তার প্রতিবেশীকে মন থেকে পছন্দ করে না। এ পরিস্থিতির কারণ হলো, আমরা ইসলাম ...
রাতের খাবারের সঠিক সময়

রাতের খাবারের সঠিক সময়

ইসলাম
  রাতের খাবারের গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলাম ও আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এ ব্যাপারে অনেক সতর্কবাণীর দেখা মেলে।   জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রাতের আহার ত্যাগ করো না, যদিও তা এক মুঠো খেজুরও হয়। কারণ রাতের আহার ত্যাগ মানুষকে বৃদ্ধ করে দেয়। ’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৩৫৫; তিরমিজি, হাদিস : ১৮৫৬)   বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, রাতের খাবার গ্রহণ না করার অর্থ হলো, শরীরে পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হওয়া। বিশেষ করে মাইক্রো-নিউটিশিয়ানের ঘাটতি। আমাদের শরীরে ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন বি১২ ও ডি থ্রি অতীব প্রয়োজন। আর যদি কেউ নিয়মিত রাতের খাবার যথাসময়ে গ্রহণ না করে তাহলে তার মধ্যে এসব ভিটামিন ও পুষ্টির ঘাটটি দেখা দেবে। রাতের খাবার গ্রহণের জন্য উপযুক্ত সময় হচ্ছে রাতের প্রথম প্রহরের সূচনা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এটিকে আরো পরিষ্কার করে বলেন যে ‘শরীরিক সুস্থতার প্রশ্নে একজন মান...
কেমন হবে মুনকার-নাকিরের জিজ্ঞাসাবাদ

কেমন হবে মুনকার-নাকিরের জিজ্ঞাসাবাদ

ইসলাম
কবর মানুষের পরকালীন জীবনের প্রথম ধাপ। কবরেই শুরু হবে মানুষের জিজ্ঞাসাবাদ। মানুষকে জিজ্ঞাসা করা হবে তার প্রতিপালক, দ্বিন ও নবী সম্পর্কে। আল্লাহ মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মুনকার ও নাকির নামক দুজন ফেরেশতা প্রেরণ করবেন। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, মৃত লোককে বা তোমাদের কাউকে যখন কবরের মধ্যে রাখা হয় তখন কালো বর্ণের এবং নীল চোখ বিশিষ্ট দুজন ফেরেশতা আসে তার কাছে। তাদের মধ্যে একজনকে মুনকার এবং অন্যজনকে নাকির বলা হয়। তারা উভয়ে (মৃত ব্যক্তিকে) প্রশ্ন করে : তুমি এই ব্যক্তির (নবীজি) প্রসঙ্গে কি বলতে? মৃত ব্যক্তি (মুমিন হলে) পূর্বে যা বলত তাই বলবে, তিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল। তাঁরা উভয়ে তখন বলবেন, আমরা জানতাম তুমি এ কথাই বলবে। তারপর সে ব্যক্তির কবর দৈর্ঘ্য-প্রস্থে ৭০ গজ ক...
বেহেশতের বাজারঘাট

বেহেশতের বাজারঘাট

ইসলাম
  পবিত্র কোরআনের বহু আয়াতে মহান আল্লাহ তাঁর ঈমানদার বান্দাদের বেহেশত বা জান্নাত দানের ঘোষণা দিয়েছেন, যেখানে দুঃখ-কষ্ট বলতে কিছু থাকবে না। যেখানকার নিয়ামতগুলো কল্পনার চেয়েও কোটি গুণ সুন্দর। যা হবে মুমিনের স্থায়ী সুখের ঠিকানা। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের জান্নাতের ওয়াদা দিয়েছেন, যার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে নহর, তাতে তারা চিরদিন থাকবে এবং (ওয়াদা দিচ্ছেন) স্থায়ী জান্নাতে পবিত্র বাসগৃহের। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে সন্তুষ্টি সবচেয়ে বড়। এটাই মহাসফলতা। ’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৭২)   প্রশ্ন জাগতে পারে, বেহেশতে কি বাজার থাকবে? মহানবী (সা.)-এর কিছু হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, বেহেশতে বাজার থাকবে। তবে সেই বাজারে চাল, ডাল, তেল, আটা, ডিম, কাঁচা মরিচ ইত্যাদি বিক্রি হবে না। সেই বাজার হবে একদম ভিন্ন। সেখানে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার কোনো অবকাশ নেই, কারণ...