Tuesday, May 19

ইসলাম

কোরআনের বর্ণনায় ১০ গুণে আদর্শ মুসলমান

কোরআনের বর্ণনায় ১০ গুণে আদর্শ মুসলমান

ইসলাম
  কোরআনের শিক্ষা মুমিন জীবনের সবচেয়ে বড় অবলম্বন। কোরআনজুড়ে মুমিনের জন্য আছে জীবন চলার অসংখ্য পাথেয়। তন্মধ্য থেকে ১০টি বিশেষ পাথেয় বর্ণনা করা হলো। ১. আল্লাহভীতি : তাকওয়া বা আল্লাহভীতি মুমিন জীবনে সর্বোত্তম পাথেয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা উত্তম কাজের যা কিছু করো আল্লাহ তা জানেন এবং তোমরা পাথেয়ের ব্যবস্থা কোরো। তাকওয়াই (আল্লাহভীতি) শ্রেষ্ঠ পাথেয়। হে বোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা, তোমরা আমাকে ভয় কোরো। ’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৯৭)   ২. ইখলাস বা নিষ্ঠা : শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোনো কাজ করাকে ইখলাস বা নিষ্ঠা বলা হয়। কোরআনে ইখলাস অর্জনের নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, ‘তারা তো আদিষ্ট হয়েছিল আল্লাহর আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে একনিষ্ঠভাবে তাঁর ইবাদত করতে এবং নামাজ আদায় করতে ও জাকাত দিতে। এটাই সঠিক দ্বিন। ’ (সুরা বাইয়িনাহ, আয়াত : ৫) ৩. আল্লাহর ওপর ভরসা : আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা মুমিন...
হাদিসের আলোকে আদর্শ স্বামীর ১০ বৈশিষ্ট্য

হাদিসের আলোকে আদর্শ স্বামীর ১০ বৈশিষ্ট্য

ইসলাম
  মানবজীবনের গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায়ের নাম বিয়ে। বিয়ের মাধ্যমে দুজন নারী-পুরুষের নতুন পথচলা শুরু হয়। জীবনের এই পথ চলায় পারস্পরিক রাগ-অভিমান ও অভিযোগ-অনুযোগ থাকা আনুষঙ্গিক বাস্তবতা। এ বাস্তবতা মেনেই এগুলো দ্রুত মিটিয়ে ফেলতে হয়। দীর্ঘদিন জিইয়ে রাখলে দাম্পত্য জীবনে তিক্ততা চলে আসে। এ ক্ষেত্রে নারীর পাশাপাশি পুরুষের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। দাম্পত্য জীবনে একজন আদর্শ পুরুষের বৈশিষ্ট্য কী হবে কোরআন-হাদিসের আলোকে এর  কয়েকটি দিক এ লেখায় তুলে ধরা হলো।   স্বামী দ্বিনদার ও সচ্চরিত্রবান হওয়া একজন আদর্শ স্বামী হিসেবে সচ্চরিত্রবান হওয়া একান্ত কাম্য। অন্যথায় স্বামী-স্ত্রী পরস্পরে অস্থিরতা ও দূরুত্ব তৈরি হয়। কোরআনে সচ্চরিত্রবান স্বামীদের  প্রশংসা করে আল্লাহ বলেন, অপবিত্র নারীগণ অপবিত্র পুরুষদের উপযুক্ত এবং অপবিত্র পুরুষগণ অপবিত্র নারীদের উপযুক্ত। পবিত্র নারীগণ পবিত্র পুরুষদের উ...
আশুরায় যে আমলে রিজিকে বরকত আসে

আশুরায় যে আমলে রিজিকে বরকত আসে

ইসলাম
  হিজরি সনের প্রথম মাস মহররম। মহররমের ১০ তারিখকে আরবিতে ‘আশুরা’ বলা হয়। ইসলামের দৃষ্টিতে এটি অত্যন্ত সম্মানিত দিন। জাহিলি যুগেও মক্কার কুরাইশদের কাছে এই দিনটি বিশেষ মর্যাদার ছিল।   এই দিনকে সম্মান জানিয়ে সেদিন তারা কাবাঘরে নতুন চাদর পরাত এবং তারা সেদিন রোজা রাখত। মূলত তারা ইবরাহিম (আ.)-এর অনুসরণে এই দিনটি গুরুত্বের সঙ্গে পালন করত। কুরাইশরা ইবরাহিম (আ.)-এর আদর্শের নামে যে সৎকাজ করত, রাসুল (সা.) তাতে সম্মতি দিতেন ও অংশগ্রহণ করতেন, তাই তিনি কুরাইশদের সঙ্গে হজে অংশগ্রহণ করতেন ও আশুরার রোজা রাখতেন; কিন্তু অন্যদের এর নির্দেশ দেননি। (বুখারি, হাদিস  : ১৮৯৩)   পবিত্র আশুরার দিনের আরেকটি আমল হচ্ছে, এই দিনে পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণে উদারতা দেখানো। শরিয়ত এই দিনে পরিবারের সদস্যদের জন্য খাদ্য, পানীয় ও ভরণপোষণের ক্ষেত্রে উদার হওয়ার প্রতি উৎসাহ প্রদান করে। এই উদারতার বরক...
আশুরার তাৎপর্য ও করণীয়

আশুরার তাৎপর্য ও করণীয়

ইসলাম
  আল্লাহ তাআলা বান্দার জন্য বিশেষ কিছু সময় ও মৌসুম দিয়েছেন যে সময়ে বান্দা অধিক ইবাদত ও ভালো কাজ করে সহজেই আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারে। মুমিনের জন্য এটা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বিশেষ রহমত। অতীতে ঘটে যাওয়া ছোট-বড় গুনাহসমূহ মার্জনা করানোর সুবর্ণ সুযোগ বটে। এই বরকতময় সময়ের মধ্য থেকে একটি হচ্ছে, ‘মহররম ও আশুরা’।   নিম্নে আমরা এ সম্পর্কে কিছু আলোচনা করার চেষ্টা করব।   বরকতময় মাস আরবি মাস হিসেবে প্রথম মাস ‘মহররম’। এই মাসকে আল্লাহ তাআলা বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা যে চার মাসকে বিশেষ সম্মান দিয়েছেন তার মধ্যে মহররম অন্যতম। আল্লাহ বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কাছে আল্লাহর কিতাবে (অর্থাৎ লাওহে মাহফুজে) মাসের সংখ্যা ১২টি, সেই দিন থেকে, যেদিন আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছিলেন। এর মধ্যে চারটি মাস মর্যাদাপূর্ণ। (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৩৬) ...
জিবরাইল আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী ফেরেশতা

জিবরাইল আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী ফেরেশতা

ইসলাম
  ফেরেশতাদের ভেতর জিবরাইল (আ.) আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী। আল্লাহর পক্ষ থেকে নবী-রাসুলদের প্রতি ওহি নিয়ে আসা তাঁর প্রধান দায়িত্ব। তবে আল্লাহর অন্যান্য নির্দেশ ও নির্দেশনাও তিনি পালন করে থাকেন। পবিত্র কোরআনে তাঁকে জিবরাইল নামে এবং ‘রুহুল আমিন’ (বিশ্বস্ত সত্তা), ‘রাসুলুন কারিম’ (সম্মানিত প্রতিনিধি) ও ‘রুহুল কুদুস’ (পবিত্র সত্তা) উপাধিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই কোরআন জগত্গুলোর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। রুহুল আমিন (জিবরাইল) তা নিয়ে অবতরণ করেছে তোমার অন্তরে, যাতে তুমি সতর্ককারী হতে পারো। ’ (সুরা : আশ-শুআরা, আয়াত : ১৯২-১৯৪)   আল্লাহ তাআলা কখনো কখনো জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে নবী-রাসুল ও মুমিনদের শক্তি সঞ্চার করে থাকেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘এবং নিশ্চয়ই আমি মুসাকে কিতাব দিয়েছি এবং তার পরে পর্যায়ক্রমে রাসুলদের প্রেরণ করেছি, মারিয়ামপ...
অর্থনৈতিক সংকট নিরসনে ইসলামের নির্দেশনা

অর্থনৈতিক সংকট নিরসনে ইসলামের নির্দেশনা

ইসলাম
মানবজীবনে বিভিন্ন সংকট দেখা দিতে পারে। এই সংকট হতে পারে খাদ্যের, হতে পারে অর্থের অথবা অন্য কিছুর। সংকটের পরিধি ব্যক্তিজীবন ছাড়িয়ে সমাজ বা রাষ্ট্র পর্যন্ত চলে যেতে পারে। কখনো নিজেদের অপরাধ আবার কখনো মহান আল্লাহর পরীক্ষার কারণে সংকট আসতে পারে।   সংকট নিরসনে ইসলামের টেকসই সমাধান রয়েছে।   ঈমান ও তাকওয়া : জীবনে সত্যিকার সুখশান্তি ও পরিতৃপ্তি দানের মালিক আল্লাহ। তিনিই বান্দার সব সংকট দূর করেন। তাঁর প্রতি ঈমান এবং তাকওয়া অর্থাৎ তাঁকে ভয় করে চলার নীতি অবলম্বন করলে সেই জনপদকে তিনি সুখশান্তিতে ভরে দেবেন। আল্লাহ বলেন, ‘যদি সেই সময় জনপদের মানুষগুলো ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত, তাহলে আমি তাদের ওপর আসমান ও জমিনের যাবতীয় বরকতের দুয়ার খুলে দিতাম। কিন্তু তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে, অতঃপর তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য আমি তাদের পাকড়াও করেছি। ’ (সুরা : আরাফ, আয়াত: ৯৬) আয়াতে মহান...
ফেরেশতাদের গালি দেওয়া কুফরি

ফেরেশতাদের গালি দেওয়া কুফরি

ইসলাম
  আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের বিশ্বাস হলো কেউ ফেরেশতাদের অস্তিত্ব অস্বীকার করলে, তাদের প্রতি শত্রুতা পোষণ করলে, তাদের গালি দিলে অথবা তাদের প্রতি বিদ্রুপ পোষণ করলে তার ঈমান থাকবে না। সে কাফের বা অবিশ্বাসী বলে বিবেচিত হবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাদের, তাঁর রাসুলদের এবং জিবরাঈল ও মিকাইলের শত্রু, সে জেনে রাখুক নিশ্চয়ই আল্লাহ অবিশ্বাসীদের শত্রু। ’ (সুরা : বাকারা, আয়াত ৯৮) ইমাম তাবারি (রহ.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই যে জিবরাঈলের সঙ্গে শত্রুতায় লিপ্ত হলো সে জিবরাঈলের সঙ্গে মিকাইল, সকল ফেরেশতা ও আল্লাহর রাসুলদের সঙ্গে শত্রুতায় লিপ্ত হলো।   কেননা আল্লাহ তাঁদের সবাইকে আল্লাহর ওলি ও অনুগত বলে ঘোষণা করেছেন। আর যে আল্লাহর ওলির সঙ্গে শত্রুতায় লিপ্ত হয়, সে আল্লাহর সঙ্গে শত্রুতায় লিপ্ত হয় এবং তাঁকে যুদ্ধের আহবান জানায়। ’ (তাফসিরে তাবারি : ২/৩০১)   ...
আল্লাহর কাছে যিনি সর্বাধিক মর্যাদাবান

আল্লাহর কাছে যিনি সর্বাধিক মর্যাদাবান

ইসলাম
  আল্লাহ তাআলা মানুষের স্বভাব ও রুচির মধ্যে সম্মান ও মর্যাদার তীব্র বাসনা দিয়েছেন। মানুষ আকাঙ্ক্ষা করে যে সে মর্যাদার সর্বোচ্চ শিখরে থাকবে। এ মর্যাদা অর্জন করার জন্য সে সব ধরনের কাজ করে বেড়ায়। এই লোভের কারণে পরস্পর ঝগড়া-বিবাদ, খুনাখুনি, হানাহানি ও রক্তপাত হয়।   কেউ মনে করে সম্মান আর মর্যাদা পয়সা-কড়ির মধ্যে, আবার কেউ মনে করে সম্মান আর মর্যাদা পদ-পদবির মধ্যে, তাই এগুলোর মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করার জন্য উগ্র বাসনা লালন করতে থাকে। অথচ আল্লাহ তাআলা এসবের মাঝে শ্রেষ্ঠত্ব আর মর্যাদা রাখেননি। সম্পদ তো আল্লাহ তাআলা নির্ধারিত রূপে বণ্টন করে দিয়েছেন। শত চেষ্টা করেও কেউ নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে একটুও বেশি লাভ করতে পারবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তবে কি তারাই তোমার রবের রহমত বণ্টন করবে? পার্থিব জীবনে তাদের জীবিকাও তো আমিই বণ্টন করেছি এবং আমিই তাদের একজনকে অন্যদের ওপর মর্যাদায় উন্নত ...
নফল ইবাদতের চেয়ে মা-বাবার খেদমত উত্তম

নফল ইবাদতের চেয়ে মা-বাবার খেদমত উত্তম

ইসলাম
  জুরায়জ নামে বনি ইসরাঈলের একজন আবেদ ছিলেন। সারাক্ষণ তাঁর ইবাদতখানায় ইবাদতে নিমগ্ন থাকতেন। (একবার) তাঁর মাতা তাঁর কাছে এলেন। এরপর তাঁর দিকে মাথা উঁচু করে তাঁকে ডাকছিলেন। বলেন, হে জুরায়জ! আমি তোমার মা, আমার সঙ্গে কথা বলো। এ কথা এমন অবস্থায় বলছিলেন, যখন জুরায়জ সালাতে নিমগ্ন ছিলেন। তখন তিনি মনে মনে বলতে লাগলেন, হে আল্লাহ! (একদিকে) আমার মা আর (অন্যদিকে) আমার সালাত (আমি কী করি?)   অবশেষে তিনি তাঁর সালাতকে অগ্রাধিকার দিলেন এবং তাঁর মা ফিরে গেলেন। পরে তিনি দ্বিতীয়বার এলেন এবং বলেন, হে জুরায়জ! আমি তোমার মা, তুমি আমার সঙ্গে কথা বলো। তিনি বলেন, ইয়া আল্লাহ! আমার মা, আমার সালাত। তখন তিনি তাঁর সালাতে ব্যস্ত রইলেন। তখন তাঁর মা বললেন, হে আল্লাহ! এ জুরায়জ আমারই ছেলে। আমি তার সঙ্গে কথা বলতে চাচ্ছিলাম। সে আমার সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকার করল। হে আল্লাহ! তার মৃত্যু দিয়ো না, যে পর্যন...
কর্মস্থলে দ্বিনের দাওয়াত

কর্মস্থলে দ্বিনের দাওয়াত

ইসলাম
কর্মস্থল দ্বিনের দাওয়াতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। কর্মস্থল এমন একটি জায়গা, যেখানে বহু মানুষের সমাগম হয়। বহু গোত্র ও সংস্কৃতির মানুষ কর্মের কারণে এক জায়গায় জড়ো হয়। দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকার কারণে তাদের পরস্পরের মধ্যে গড়ে ওঠে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক। তারা এক পরিবারের মতো মিলেমিশে বসবাস করে। একের আনন্দে যেমন আনন্দিত হয় সবাই, তেমনি একজনের ব্যথায়ও ব্যথিত হয়। আনন্দ ও কষ্ট ভাগাভাগি করে এগিয়ে চলে তাদের জীবনতরি। নুমান ইবনে বশির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, এক মুমিন অন্য মুমিনের জন্য প্রাসাদস্বরূপ, যার এক অংশ অন্য অংশকে সুদৃঢ় রাখে। অতঃপর তিনি তাঁর এক হাতের আঙুল অন্য হাতের আঙুলের মধ্যে প্রবেশ করান। (বুখারি, হাদিস : ৬০২৬)   সুতরাং কর্মস্থলের এই সুন্দর পরিবেশ ও সুযোগকে কাজে লাগানো যায় দাওয়াতের মাধ্যমে। সহকর্মীদের আখিরাতমুখী করা ঈমানি দায়িত্ব। কেননা রাসুল (সা.) বল...