Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / ড. মুহম্মদ ইউনূসের প্ররোচনায় বিশ্বব্যাংক পদ্মাসেতুর অর্থায়ন বন্ধ করেছিলো : প্রধানমন্ত্রী

ড. মুহম্মদ ইউনূসের প্ররোচনায় বিশ্বব্যাংক পদ্মাসেতুর অর্থায়ন বন্ধ করেছিলো : প্রধানমন্ত্রী

শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহম্মদ ইউনূসের কড়া সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে পদ্মাসেতুর নামফলক উন্মোচনকালে এক সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘ড. ইউনূসের প্ররোচণায় বিশ্বব্যাংক পদ্মাসেতু নির্মাণের অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়। তিনি বেআইনিভাবে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদে ছিলেন। তাকে বলার পরও তিনি সরলেন না। উল্টো সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করলেন। মামলায় হেরে আমেরিকায় যান তিনি। সেখানে তার প্ররোচণায় তখনকার বিশ্বব্যাংক প্রধান পদ্মাসেতু প্রকল্পের অর্থ বন্ধের অর্ডার দিয়ে যান।’

১. পশ্চিমা অনেক রাষ্ট্রদূত আমাকে হুমকি দিয়েছেন, স্টেট ব্যাংক আমার ছেলে জয়কে তিনবার ডেকে নিয়ে শাসিয়েছে।
২. অথচ ইউনূসকে আমরা কখনো অসম্মান করতে চাইনি

প্রধানমন্ত্রী সকালে হেলিকপ্টারে করে মাওয়ার দোগাছিতে পদ্মাসেতুর সার্ভিস এরিয়ার-১ এর মাঠে অবতরণ করেন। এরপর গাড়িতে যান সেতু এলাকায়। পদ্মাসেতুর নামফলক উন্মোচনসহ কয়েকটি কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সমাবেশে তিনি এই সেতু নির্মাণ করতে গিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সৃষ্টি হওয়া জটিলতার প্রসঙ্গটি আবারও তুলে ধরেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘গ্রামীণ ব্যাংকের আইনে আছে, ৬০ বছর পর্যন্ত ব্যাংকের এমডি পদে থাকতে পারবেন। কিন্তু ড. ইউনূস কোনো অনুমোদন ছাড়াই ৭০ বছর পর্যন্ত অর্থাৎ ১০ বছর বেশি এমডি’র পদে থাকেন। সব সুযোগ-সুবিধাও ভোগ করেন। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তাকে একটি চিঠি দেওয়া হয়। অর্থমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী দেখা করেন ড. ইউনুসের সঙ্গে। তাকে বলা হয়, আপনি ব্যাংকের এমিরেটাস অ্যাডভাইজার হিসেবে থাকেন। কিন্তু তাদের কথা না রেখে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করলেন তিনি। কোনো অনুমোদন ছাড়াই গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি ছিলেন এবং সরকারি বেতনও নিতেন ইউনূস। এটা সম্পূর্ণ ইলিগাল। তাকে আমরা কখনও অসম্মান করতে চাইনি। কিন্তু এমডি পদ হারিয়ে নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস পদ্মা সেতুর অর্থায়ন আটকানোর চেষ্টা চালিয়েছিলেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমেরিকার তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিন্টন ইউনূসকে এমডি রাখতে ফোন করেন। টনি ব্লেয়ার ছিল ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। তার স্ত্রী শেলি ব্লেয়ারও ফোন করলেন। মামলায় ইউনূস হেরে গেলেন। পশ্চিমা দেশের অনেক রাষ্ট্রদূত এসে আমাকে হুমকি দিল। ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে সরানো হলে পদ্মা সেতু হবে না, ইত্যাদি ইত্যাদি।’
পদ্মাসেতু নির্মাণে দুর্নীতির যে অভিযোগ বিশ্ব ব্যাংকের পক্ষ থেকে তোলা হয়েছিলো, সে প্রসঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ওয়ার্ল্ড ব্যাংক পদ্মাসেতুর টাকা বন্ধ করে দিয়েছিলো, যার পেছনে ছিলেন ড. ইউনূস। তারা দুর্নীতির অভিযোগ তুললো; আমি বললাম, প্রমাণ চাই। তারা কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। আমার বিরুদ্ধে, আমার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বার বার তারা তদন্ত করলো। কিন্তু কোনো প্রমাণ পেলো না। স্টেট ব্যাংক আমার ছেলে জয়কে তিনবার ডেকে নিয়ে শাসিয়েছে। এটা নিয়ে মামলা হয়েছে। আমরা প্রমাণ করেছি সমস্ত অভিযোগ ভুয়া, মিথ্যা। কোনো দুর্নীতির চিহ্ন পাওয়া যায়নি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের ওপর আমার ভরসা ছিল। সেই ভরসা নিয়েই পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করেছি। অনেক বাধাবিপত্তি মোকাবেলা করতে হয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে করছি। কিন্তু এর পেছনে যে অপমান, যে নির্যাতন আমাদেরকে ভোগ করতে হয়েছে, তার পেছনে দেশের কিছু লোক জড়িত। যারা গরীবকে টাকা দিয়ে সুদ খায় তারা এর চেয়ে বেশি কী করতে পারে? সম্পাদনা : মাহবুব আলম, সালেহ্ বিপ্লব

About News Desk

Leave a Reply